প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিচারক সংকটে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ

ডেস্ক রিপোর্ট : সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ১৮ জন বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হলেও গত একবছরে আপিল বিভাগে কোনও বিচারপতি নিয়োগ হয়নি। এ সময়ে আপিল বিভাগে পাঁচ জন বিচারপতির পদ শূন্য হলেও তা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। ফলে আপিল বিভাগে বিচারাধীন মামলার জট যেমন বাড়ছে, তেমনই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মামলা নিষ্পত্তিতেও ব্যয় হচ্ছে অতিরিক্ত সময়।

আইনজ্ঞরা মনে করেন, এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে দ্রুত সময়ের মধ্যে আপিল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগ হওয়া প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুসারে, ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ৫৬৫টি। এসব মামলার মধ্যে ১১ হাজার ১৯৯টি দেওয়ানি, পাঁচ হাজার ২৫৮টি ফৌজদারি ও অন্যান্য ১০৮টি মামলা রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি (২ ফেব্রুয়ারি) মাস থেকে আপিল বিভাগের একটি বেঞ্চে মাত্র চার জন বিচারপতির মাধ্যমে বিচার কাজ পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে বর্তমান বেঞ্চটির অন্য তিন জন বিচারপতি হলেন— বিচারপতি ইমান আলী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

এদিকে,সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ তথ্যে জানা যায়, এ বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত আপিল বিভাগে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ১৬ হাজার থেকে বেড়ে গিয়ে ১৮ হাজার ২৪৬টিতে দাঁড়িয়েছে। এরই মধ্যে গত ১৮ মে হাইকোর্ট বিভাগে ১৮ জন বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, আপিল বিভাগে বিচারপতির সংখ্যা এখনও চারের মধ্যে সীমাবদ্ধ আছে। একটি মাত্র বেঞ্চে প্রায় ১৮ হাজারের বেশি মামলা নিষ্পত্তিতে কাজ করছেন মাত্র চার জন বিচারপতি।

আপিল বিভাগে জমে থাকা মামলাগুলো নিষ্পত্তিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া উচিত বলে মনে করেন আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা। তিনি বলেন, ‘আপিল বিভাগে দ্রুত বিচারপতি নিয়োগ হওয়া উচিত। আপিলে অনেক মামলা এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। বিচারক সংকটের কারণে আপিল বিভাগের দুটি বেঞ্চ (মোট তিনটি বেঞ্চ ছিল) বন্ধ রয়েছে। আপিলের মামলা নিষ্পত্তিতে আপিল বিভাগে কমপক্ষে আরও দু’টি বেঞ্চ থাকা উচিত।’
আপিল বিভাগে নির্দিষ্ট সংখ্যক বিচারপতি নিয়োগের কোনও বিধি-বিধান রয়েছে কিনা জানতে চাইলে বাংলাদেশের প্রথম এই নারী বিচারপতি বলেন, ‘আপিল বিভাগে কত জন বিচারপতি থাকবেন সে বিষয়ে কোথাও কিছু বলা নেই। মূলত সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতি যতজন প্রয়োজন মনে করবেন, ততজনকে নিয়োগ দিতে পারবেন। তবে বিগত সময়ে আপিল বিভাগে বিচারপতির সংখ্যা সর্বোচ্চ ১১ জনে উন্নীত হয়েছিল। তখন আপিল বিভাগের তিনটি বেঞ্চে বিচার কাজ চলতো। কিন্তু বিচারপতি সংকট দেখা দেওয়ায় এখন মাত্র একটি বেঞ্চে বিচার কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে।’

মোট ১১ জন বিচারপতি দিয়ে আপিল বিভাগের তিনটি বেঞ্চ পরিচালিত হলেও ২০১৭ সালের শুরুতে বিচারপতির সংখ্যা কমে ৯ জনে দাঁড়ায়। এরপর একই বছরের ১ জানুয়ারি বিচারপতি বজলুর রহমান ছানার মৃত্যু, ১৪ মার্চ বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম ও ৭ জুলাই বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা অবসরে যান। এরপর ওই বছরের ১০ নভেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা এবং এ বছরের ২ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার পদত্যাগের পর আপিল বিভাগের বিচারপতির সংখ্যা দাঁড়ায় চার জনে। কার্যত দেশের সর্বোচ্চ এই আদালতে বিচারক সংকট দেখা দেওয়ায় আপিল বিভাগের অন্য দুটি বেঞ্চের বিচার কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে, সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি নিয়োগের বিষয়ে সংবিধান মোতাবেক নীতিমালা প্রণয়ন, অথবা ২০১৭ সালের ১৩ এপ্রিল হাইকোর্ট বিভাগের দেওয়া রিট মামলার রায় অনুযায়ী বিচারপতি নিয়োগে দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি। সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন মনে করেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালতে অবশ্যই দক্ষ, মেধাবী এবং যোগ্যতাসম্পন্ন বিচারক নিয়োগের মাধ্যমে বিচার বিভাগ যথাযথ বিচার কাজ পরিচালনায় সক্ষম হবে। বিচারপতিরা সংবিধান মোতাবেক নিয়োগ পাবেন, শপথ নেবেন। এটাই সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি এবং দেশের জনগণ আশা করে।
সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, ‘বিচারপতি নিয়োগ না হওয়ায় আপিল বিভাগে মামলা নিষ্পত্তির হার কমে আসবে। এতে বিচারপ্রার্থীরা ভোগান্তিতে পড়বে। তাই যত দ্রুত সম্ভব আপিল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগ হওয়া প্রয়োজন।’ সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ