Skip to main content

‘শিক্ষকদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে খাতা মূল্যায়নে কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে’ (ভিডিও)

ডেস্ক রিপোর্ট: এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এবারও কমেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে খাতা মূল্যায়নে কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে’। শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, শিক্ষায় সংখ্যাগত উন্নতি হচ্ছে, এখন তারা মানের দিকে জোর দিতে চান। আর এ জন্যই শিক্ষকদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে খাতা মূল্যায়নে কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রতিবছর খাতা দেখার মধ্যে কিছু অভিযোগ থাকতো। এবার এ সুযোগ নেই। অনেক বেশি গবেষণা করে শিক্ষার মান বৃদ্ধির বিষয়ে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। তবে মন্ত্রী সামগ্রিক ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, পাসের হার কমলেও শিক্ষার মান বৃদ্ধির বিষয়কে আমরা পজেটিভলি দেখছি। বৃহস্পতিবার সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে চলতি বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী এবং ১০টি বোর্ডের প্রধানরা।এরপর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। টানা তিন বছর ধরে পাবলিক পরীক্ষায় পাসের হার আগের বছরের তুলনায় কমছে। এরপর মন্ত্রী পরীক্ষার ফলাফলের বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। আর এতে দেখা যায় পাসের হার, জিপিএ ফাইভের দিক থেকে গত বছরের চেয়ে এবার পরীক্ষার্থীরা খারাপ করেছে। https://www.youtube.com/watch?v=7QC86V7wAUI&feature=youtu.be   সার্বিকভাবে এবার পাসের হার হয়েছে ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। গত বছর যা ছিল ৬৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। অর্থাৎ এবার পাসের হার কমেছে দুই দশমিক ২৭ শতাংশ কমেছে। সর্বোচ্চ জিপিএ (জিপিএ ফাইভ) পাওয়ার সংখ্যাও এবার কমেছে প্রায় ২৩ শতাংশ। গত বছর জিপিএ ফাইভ পাওয়ার সংখ্যা যেখানে ছিল ৩৭ হাজার ৯৬৯ জন, সেখানে এবার সংখ্যাটি দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার হাজার ২৬২ জন। কমেছে আট হাজার ৭০৭ জন। কেবল এসএসসিতে এবার পাসের হার আরও কম হয়েছে। আগের বছরের চেয়ে দুই দশমিক ২৯ শতাংশ কমে এবার পাসের হার হয়েছে ৬৪ দশমিক ৫০ শতাংশ। তবে এবার আগের বছরের চেয়ে এক লক্ষ ২৫ হাজার ৩১৭ জন পরীক্ষার্থী বৃদ্ধি, বিজ্ঞান ও কারিগরিতে আগ্রহ বাড়তে থাকা, মেয়েদের শিক্ষায় উন্নতির ধারাটি বজায় রাখা স্বস্তিদায়ক। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘পাসের হারের ক্ষেত্রে একটু কম। আশা করি এটা উপলব্ধি করবেন যে আমরা এখন জোর দিচ্ছি, যে সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে সে সংখ্যাকে গুণগতভাবে উন্নত করার জন্য।’   ‘গুণগত মান উন্নত করতে হলে কিছু পরিবর্তন আনতে হয়, কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হয়। তার জন্য খাতা দেখার ক্ষেত্রে আমরা এখন অনেক কঠোর। যে শিক্ষকরা খাতা দেখেন তারা কঠোরভাবে দেখেন।’ পাসের হার কমায় মোটেও হতাশ হননি জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বরং আমরা আনন্দিত যে, লোকসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, মান বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এই ধারাটা অব্যাহত থাকবে।’ ‘আমাদের মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে প্রমাণ হচ্ছে আরও বেশি মানুষ শিক্ষায় সম্পৃক্ত হচ্ছে এবং ঝরে পড়া কমছে।’ ‘কারিগরি শিক্ষা নিয়ে জনসম্পদ গড়ে তোলা হচ্ছে, এই সংখ্যাটা এবার অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।’ ‘ছাত্রীদের অগ্রগতি সার্বিকভাবে সমাজের সকল ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। ফলাফলেও তারা ভালো করেছে, সংখ্যায়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এখনও ছাত্রদের থেকে কিছুটা কম আছে।’ যারা উত্তীর্ণ হতে পারেননি তারা হতাশ না হওয়ার পরামর্শও দেন মন্ত্রী। বলেন, ‘আমরা আশা করছি তারা নব উদ্যমে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে আগামীতে পরীক্ষা দেবেন।’   বিতর্ক ও গুজবমুক্ত পরীক্ষা  চলতি বছর এইচএসসি এবং সমমানের পরীক্ষায় সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি আগেভাগে, যা গত কয়েক বছর ধরেই সাধারণ সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছিল। এই বিষয়টির উল্লেখ করেও শিক্ষামন্ত্রী সন্তোষ জানান। বলেন, ‘যেন বিতর্ক সৃষ্টি না হয়, পরীক্ষার সকল পক্ষকে অন্তর্ভুক্ত করে সমন্বিত কর্মকৌশল প্রয়োগ করেছিলাম।’ ‘পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, পরিশোধন, মুদ্রণ, প্যাকেটজাতকরণ, ট্রাংকজাতকরণ, কেন্দ্রে প্রেরণসহ প্রতিটি স্থরে কঠোর নজরদারি, সতর্কতা ও বেশ কিছু কৌশল অবলম্বন করা হয়েছিল।’ প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে দুটি কৌশল কাজে দিয়েছিল জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদেরকে হলে প্রবেশ করিয়েছি।’ ‘আমরা ট্রেজারি থেকে প্রশ্নপত্রটা প্রতিটি সেন্টারে পৌঁছাই ৩০ মিনিট আগে। ট্রেজারি থেকে তিন জন কর্মকর্তার মাধ্যমে এটা নিয়ে যাওয়া হয় যেন কোনো ব্যাঘাত না ঘটতে পারে।’ ‘২৫ মিনিট আগে কেন্দ্র সচিবকে এসএমএসের মাধ্যমে কোন সেটে পরীক্ষা নেবেন তা জানিয়ে দেয়া হয় এবং সেই খামটা খোলেন। ফলে কোনোভাবেই প্রশ্ন ফাঁসের কোনো সুযোগ থাকে না। এবার এটা বাস্তব প্রমাণ হয়েছে।’ এ সময় জানানো হয়েছে, এ বছর মোট পাস করেছে আট লাখ ৫৮ হাজার ১০১ জন। এর মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে ২৯ হাজার ২৬২ জন। এ বছর পাসের হার ও জিপিএ ৫ উভয়ই কমেছে। গত বছর পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৯১ ভাগ। সেবার পাস করেছিল আট লাখ এক হাজার ৭১১ জন। এ বছর পাসের হার কমেছে ২ দশমিক ২৭ ভাগ। অর্থাৎ গতবারের চেয়ে এবার ৫৭ হাজার ৯০ জন কম পাস করেছে। গত বছর জিপিএ ৫ পেয়েছিল ৩৭ হাজার ৯৬৯ জন। এ বছর জিপিএ ৫ পেয়েছে ২৯ হাজার ২৬২ জন। কমেছে আট হাজার ৭০৭ জন। গত বছর শতভাগ পাস করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৫৩২টি। এবার সেই সংখ্যা ৪০০-তে নেমে এসেছে। অর্থাৎ শতভাগ পাস করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে ১৩২টি। অন্যদিকে এ বছর ৫৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করতে পারেনি। গত বছর এই সংখ্যাটি ছিল ৭২টি। যদিও দুপুর ১টায় শিক্ষামন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করবেন। তারপরই শিক্ষার্থীরা নিজেদের ফলাফল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা অনলাইনে জানতে পারবে। সারা দেশের দুই হাজার ৫৪১টি কেন্দ্রে এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১৩ লাখ ১১ হাজার ৪৫৭ শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে আটটি সাধারণ শিক্ষাবোর্ড আর একটি কারিগরি ও একটি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড। এইচএসসিতে আটটি সাধারণ বোর্ডের অধীনে অংশ নেয় ১০ লাখ ৯২ হাজার ৬০৭ শিক্ষার্থী। আর মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে আলিমে এক লাখ ১২৭ জন, কারিগরি বোর্ডের অধীনে এইচএসসিতে (বিএম) এক লাখ ১৭ হাজার ৭৫৪ জন ও ডিআইবিএসে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৯৬৯। গত ২ এপ্রিল শুরু হয় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। তত্ত্বীয় পরীক্ষা চলে ১৩ মে পর্যন্ত। আর ১৪ থেকে ২৩ মের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় ব্যবহারিক পরীক্ষা। বেশ কয়েক বছর ধরে পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে ফাঁস নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা ছিল তুঙ্গে। কিন্তু এবার প্রশ্ন ফাঁসের কোনো ধরনের অভিযোগ প্রায় ছিল না বলেই চলে। যেভাবে মোবাইল ফোনে পাওয়া যাবে ফল আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থীরা মোবাইল ফোনে ফল পেতে HSC লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৮ লিখতে হবে। এরপর ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে মিলবে ফল। মাদ্রাসা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা HSC লিখে স্পেস দিয়ে MAD স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৮ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাবেন। পরের এসএমএসে তাঁরা ফল পেয়ে যাবেন। কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ফল জানতে HSC লিখে স্পেস দিয়ে TEC লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৮ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। পরের এসএমএসে ফল জেনে যাবেন শিক্ষার্থীরা। আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত ওয়েবসাইট ও নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ফল জানতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। সূত্র: বিটিভি /আরটিভি/এনটিভি/ঢাকা টাইমস/প্রথম আলো

অন্যান্য সংবাদ