প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গ্যালিভার হুমায়ূন আহমেদ ও কতিপয় লিলিপুট

ডেস্ক রিপোর্ট: হুমায়ূন আহমেদ। তাঁর জাদুকরী হাতের ছোঁয়ায় বই বিমুখ বাংলাদেশের পাঠক আবার হাতে বই তুলে নেন। উপন্যাস, ছোট গল্প, ভ্রমণ কাহিনী,আত্মজীবনীসহ সাহিত্যের নানাশাখায় তিনি প্রচন্ড শক্তিমত্তায় বিচরণ করেছেন। টেলিভিশন নাটকের ম্যাড়ম্যাড়ে সবাদ ভেঙে প্রাণ রসে জারিত নুতন ধারার নাটক সৃষ্টি করে নীরব বিপ্লব আনেন।

যে কোন সেলিব্রেটির ব্যক্তিগত জীবনের প্রতি মানুষের অনন্ত কৌতুহল। সেই তারকা সিনে পাড়া,ক্রীড়াঙ্গন, শিল্প -সাহিত্য – সংস্কৃতির বা অন্য কোন মাধ্যমেরই হোক না কেন। এই কথাটি হুমায়ূনের বেলায়ও খাটে। কিন্ত,সেই সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সেই নক্ষত্রের সৃষ্টিশীলতাকেই প্রাধাণ্য দেওয়া উচিত।

কিন্তু,হুমায়ূনের বিশাল কর্মযজ্ঞকে উপেক্ষা করে তাঁর ব্যক্তিজীবনের বিচ্ছিন্ন কোন অধ্যায় নিয়ে রগরগে আলোচনাতেই অনেককে বেশী উতসাহিত হতে দেখা যায়। যে সকল প্রকাশক বই না বেঁচতে পেরে দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছিলেন তাদের অনেকেই শুধু তাঁর বই বেঁচে ঢাকায় বাড়ি – গাড়ি করেছেন। তাদের অনেককেই হুমায়ূনের চরিত্র হননকারীদের মিছিলের সামনের কাতারে দেখা গেল। ভাত না পাওয়া টেলিভিশনের অনেক শিল্পী তাঁর নাটকে অভিনয়ের সুবাদে প্রায় তারকা খ্যাতি পান। আফসোস! এদের অনেকেই হুমায়ূনকে নাংগা করবার অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকতে দেখা গেল। তাঁর জীবদ্দশায় যারা হুমায়ূন বন্দনায় মুখে ফেনা তুলেছিলেন হুমায়ূন অন্যভুবনে চলে যাবার পর তাদের অনেকেই হুমায়ূনের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নিন্দার তুফান বইয়ে দিয়েছেন।

এই ব্যক্তিগত আক্রমণে হুমায়ূন হয়ত সামান্যই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।কেন না,কর্মযজ্ঞে হুমায়ূনকে গ্যালিভারের সাথে তুলনা করা যায়। কিন্তু,আক্রমণকারীরা যে মনমানসিকতায় নিরেট লিলিপুট সেটি সবার কাছে আরেকবার সত্য হয়ে ফুটে উঠলো।’ ঈর্ষায় উন্মাদ এই লিলিপুটরা একদিন সত্য পথে হাঁটবেন ‘এটিই হুমায়ুন তিরোধানের দিনে সবার প্রত্যাশা।হে প্রিয় লিলিপুটবৃন্দ,অনেক তো হল। এবার একটু ক্ষ্যামা দেন। উপর দিকে থুতু দিলে নিজের মুখেই সেটি পরে যে।

লেখক মেজর ডা. খোশরোজ সামাদ,
উপ-অধিনায়ক, আর্মড ফোর্সেস ফুড এন্ড ড্রাগস ল্যাবরেটরী।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ