প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দাঁড়াতে চায় নতুন বাম জোট

কান্তা আইচ রায় : দেশের ৮টি বাম রাজনৈতিক দল মিলে নতুন এক জোট গঠন করেছে। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবি ,বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ সহ এই জোটের অর্ন্তগত দলগুলো বলছে, বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি জোরদার করার উদ্দেশ্যে বাম দলগুলো বাম গণতান্ত্রিক জোট নামে নতুন এই জোট তৈরি করেছে।

বাম রাজনৈতিক দলগুলো বড় কোনো আন্দোলন বা নির্বাচনের মত বিষয়ে সফল হতে দেখা যায় নি। তবে নির্বাচনের আগে হঠাৎ এমন জোট গঠনের ঠিক কি কারণ থাকতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি নেতা মঞ্জুরুল আহসান খান বলেন, আমাদের দেশের রাজনীতির জন্য এটা দরকার, আমাদের দেশে এখন রাজনৈতিক অচলাবস্থা চলছে। এখানে নির্বাচন নিরপেক্ষ ভাবে হয় না , সবাই অংশ গ্রহণ করে না। এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনে আমরা দেখেছি ভোট ডাকাতি হয়েছে এবং জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিরা কোন নির্বাচনই করতে পারে নি।

বাম জোট গঠনের মাধ্যমে তারা নির্বাচনে আসবে কিনা এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন,সামগ্রিকভাবে রাজনীতিতে তাদের আদর্শ নিয়ে লড়াই করতে চান এবং এই লড়ায়ের অংশ হিসেবেই তারা নির্বাচনকে দেখেন। তিনি আরো বলেন এই জোট গঠন আগামী নির্বাচনেও একটা ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরো জানান ,শুধু তাদের জোটই নয় এর বাইরেও দু একটা দল তারা নিতে পারেন নির্বাচনী জোট করার জন্য। বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তারা দাঁড়াতে চান।

কিন্তু বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দাঁড়ানোর জন্য যে গণমানুষের সাথে একাত্বতা হওয়া বা তৃণমূল পর্যায়ে তাদের পরিচিত তৈরি হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের গণভিত্তি যথেষ্ট আছে। তাদের দলগুলো আন্দোলনের সংগ্রামে যতটা দক্ষ নির্বাচনের সংগ্রামে ততটা দক্ষ নয়। সেই দক্ষতা তারা ধীরে ধীরে অর্জন করছেন বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে তিনি আরো বলেন,তারা আগেও নির্বাচন করেছেন, ১৯৫৪ সালেও নির্বাচন করেছেন, এরপর স্বাধীন বাংলাদেশেও নির্বাচন করেছেন এবং কয়েকটা সিটও পেয়েছিলেন।

তাদের দেয়া কর্মসূচিগুলো কেবল মানববন্ধন পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকে বা সমাবেশ হলেও লোক সমাগম খুব একটা হয় না। কর্মসূচির খবর শুধুমাত্র মিডিয়াই প্রচার হতে দেখা যায়। এই জায়গা থেকে নির্বাচনের জায়গায় যাওয়া বা বিকল্প শক্তি হিসেবে দাঁড়ানোর প্রস্তুতিটা নেওয়ার জন্য তারা কতটুকু সামর্থ্য রাখেন এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমাদের দেশের রাজনীতি অর্থের উপর নির্ভরশীল। এখানে নমিনেশন পেতে টাকা লাগে,দলের কমিটিতে ঢুকতে টাকা লাগে এবং নির্বাচন করতেও বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়। তারা এই ব্যয় করতে পারেন না তাই নির্বাচনে তাদের একটা কঠিন অবস্থার মুখোমুখি হতে হয়। সমস্ত নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার এর জন্য তারা ১১ দফা কর্মসূচি দিয়েছেন। এর ভিত্তিতে তারা আন্দোলনও করছেন বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, তারা তাদের অতীতের দুর্বলতা কাটিয়ে সামনে এগিয়ে যাবেন। তিনি এও বলেন,তাদের দুর্বলতার অন্যতম কারণ ছিলো নিজেদের মধ্যে বিভক্তি। যা এখন তারা কাটিয়ে উঠেছেন। এখন তারা ঐক্যবদ্ধ। এটাকেই তিনি তাদের সাফল্য বলে মনে করছেন।

তিনি তাদের আরো কিছু ছোট ছোট দুর্বলতা আছে যা খুব দ্রুতই কাটিয়ে উঠবেন বলে মনে করেন। আগামী নির্বাচনের আগে তারা এসব দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারবেন কিনা জানতে চাইলে বলেন, তিনি আশা করেন কিছুটা অগ্রসর হতে পারবেন। সময় খুবই কম, অনেক সময় চলে গেছে, আরো আগে তাদের এই ধরনের উদ্যোগ নেয়া উচিত ছিলো।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ