প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দিল্লি হনুজ দূর অস্ত

প্রভাষ আমিন: ব্রিটিশ সাংসদ লর্ড কারলাইল এখন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবী। ইদানীং খালেদা জিয়ার আইনজীবী হলেও কারলাইল বাংলাদেশের পুরোনো শত্রু। অবশ্য খালেদা জিয়ার আইনজীবী হওয়ার সাথে বাংলাদেশের শত্রুতার কোনো সম্পর্ক নেই। তেমন হলে আমি তাকে আওয়ামী লীগের শত্রু বলতাম। রাষ্ট্র আর সরকার যেমন এক নয়, তেমনি আওয়ামী আর বাংলাদেশও এক নয়।

কারলাইল মূলত যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষের লোক, জামায়াতের পক্ষের লোক। জামায়াতের হয়ে তিনি এখন বেগম জিয়া তথা বিএনপির ঘাড়ে সওয়ার হয়েছেন। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির সময় এই চিল-চিৎকার করে বিশ্ব মাতাতে চেষ্টা করেছেন, ফাঁসি ঠেকাতে পারেননি। বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে আছেন ৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে। তার আইনজীবীরা নানা চেষ্টা করেও জামিন পাননি। লর্ড কারলাইল এসেই যে খালেদা জিয়াকে বের করে আনতে পারবেন না, সেটাও সবাই জানেন। তাহলে কারলাইলকে কেন বেছে নেওয়া হলো? আমার ধারণা কারলাইলকে বেছে নেওয়া হয়েছে আওয়াজের জন্য। তিনি আওয়াজ সর্বস্ব আইনজীবী, তার কাজ হলো হইচই করা। সেটা তিনি ভালোই পারেন। যুদ্ধাপরাধীদের সময়ও তার এই যোগ্যতা ভালোই দেখিয়েছেন। এবারও সেই আওয়াজ দিতে ছুটে এসেছিলেন দিল্লি পর্যন্ত। তবে আওয়াজ দিতে পারলেও দিল্লিতে ঢুকতে পারেননি।
কারলাইল যে নিছক আওয়াজ দিতেই দিল্লি পর্যন্ত ছুটে এসেছিলেন; তা পরিস্কার।

কারণ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আইনের শাসন নিয়ে কথা বলতে তাকে দিল্লি আসতে হবে কেন, তিনি তো লন্ডনে বসেই প্রেস কনফারেন্স করতে পারতেন। দিল্লিতে ব্যর্থ হয়ে এখন তো তিনি লন্ডনে বসেই আওয়াজ দিচ্ছেন। প্রথমে কারলাইল দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে প্রেস কনফারেন্স করতে চেয়েছিলেন। সেটা বাতিল হওয়ায় পরে স্থানীয় এক ফাইভ স্টার হোটেলে করতে চেয়েছিলেন। সে অনুযায়ী গত ১২ জুলাই তিনি দিল্লি এসেছিলেনও। কিন্তু ভিসা বাতিল হওয়ায় ফিরতি ফ্লাইটেই ফিরে যেতে হয় তাকে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দাবি করেছেন, কারলাইলের ভিসা বাতিলের বিষয়টি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এখানে বাংলাদেশের কিছু করার নেই। তবে আমি ধরে নিচ্ছি, বাংলাদেশের অনুরোধেই কারলাইলের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। বাংলাদেশ-ভারতের এখন যা সম্পর্ক তাতে, এটুকু অনুরোধ বাংলাদেশ করতেই পারে। অনেকদিন ধরেই সরকার বাংলাদেশের ভূমি ভারতবিরোধী কোনো কাজে ব্যবহার করতে দিচ্ছে না। ভারতে বসে কেউ বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারণা চালাবে, এটাও নিশ্চয়ই বাংলাদেশ সরকার ভালোভাবে নেবে না। তবে কারলাইলের ভিসা বাতিলের পেছনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরও যুক্তি ছিল। কারলাইল বিজনেস ভিসা নিয়ে দিল্লি এসেছিলেন।

আড়াইশ বছর আগে বাণিজ্য করতে এসে দুইশ বছর শাসন করেছেন। কিন্তু সেই দিন আর নেই মাননীয় লর্ড কারলাইল। বিজনেস ভিসায় এসে রাজনীতি করার দিন শেষ।

আমার ধারণা কারলাইলও জানতেন, তিনি দিল্লি ঢুকতে পারবেন না। তাই তিনি ফিরতি বিমানের টিকেট পকেটে নিয়েই তিনি দিল্লি এসেছিলেন। তার মূল লক্ষ্য আওয়াজ করা, সেটা দিল্লিতেও করেছেন, লন্ডন গিয়েও করছেন। তবে আমার খুব ভালো লেগেছে, একজন ব্রিটিশ লর্ড দিল্লিতে এসে দেখে গেলেন, দিন বদলে গেছে। সত্যি সত্যি দিল্লি হনুজ দূর অস্ত।

লেখক : হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ