প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নাইক্ষ্যংছড়িতে বিজিবির অভিযানে ২ হাজার বাশঁসহ মূল্যবান কাঠ জব্দ

হাবিবুর রহমান সোহেল, নাইক্ষ্যংছড়ি: বাশেঁর প্রজনন বৃদ্ধি ও চারা বাঁশ নিরাপদে বেড়ে উঠার জন্যে জুন-জুলাই-আগষ্ট (৩ মাস) বন্ধের সময়ে বাশঁ কেটে পাচারকালে ২ হাজার বাশঁ ও ৫০ মাথা মূল্যবান কাঠ জব্দ করেছে ১১ বিজিবি। যার আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ টাকা।
বিজিবি সদস্যরা গতকাল বুধবার সকালে এ সব বাঁশ ও কাঠ জব্দ করেন চিকনছড়ি বনবিট কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জার নূরে আলমের দায়িত্বপূর্ণ বন এলাকা থেকেই। পাচারকারী দল কর্তৃক এ সব বাশঁ কেটে আনার সময় ১১ বিজিবির ছাগল খাইয়া বিওপি’র জোয়ানরা ঠান্ডাঝিরির মুরুংখাই বাশঁঘাট থেকে আটক করে। ১১ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে:কর্ণেল আনোয়ারুল আজিম জানান, বাশঁ জব্দের সময় কোন কাগজ না থাকায় বিজিবি এসব বাঁশ তাদের নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ সময় এসব বাশেঁর কোন কাগজ বাশঁ ব্যবসায়ীরা দেখাতে পারে নি। তাই বাঁশগুলো জব্দ করা হয়েছে। আর বন্ধের সময় বাশঁ কাটার প্রশ্নই-তো আসে না। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাশ কাটা বন্ধ হলেও জুলাই মাসে প্রতিটি বাজারে বাশঁ বিক্রি হয়েছে দেদারছে। বুধবারে ঘটনাও তাদের ধারাবাহিকতা। বুধবার বিজিবি বাশঁ আটকের আগ মূহুর্তে বাঁকখালীর এ বাঁশঘাটে অন্তত ৫ হাজারের অধিক বাশঁ  বাধাঁছিল্। আর পাহাড়ে পাচারের অপেক্ষায় আছে আরো ১ লাখের উপরে। যা পাহাড়ে,ছড়ায়-ঝিরিতে মজুদ আছে। সুযোগ বুঝে রাতে বাকঁখালী নদী পথে রামুর বাঁশ বাজারে পাচার করা হবে ক্রমান্বয়ে।
তারা আরো জানান, নাইক্ষ্যংছড়ি বনরেঞ্জ আওতাধিন একাধিক বনবিট থেকে কাটা গাছ-বাশঁ বিক্রির জন্যে হাট বসে প্রতি বৃহষ্পতিবার। সে মতে এ হাটেও গাছ-বাশঁ বিক্রি হয়ে আসছে হরদম বর্তমানেও।
তারা জানান, বর্তমানে শতশত বাশঁ ও গাছ কাঠুরিয়া পুরো নাইক্ষ্যংছড়ির বিস্তৃর্ণ বনে বাশঁ-গাছ কাটছে বিরামহীনভাবে। যাদের কিছু অংশ কাঠ গিলে খাচ্ছে উপজেলায় নানা স্থানে স্থাপিত প্রায় ২০টির অধিক করাত কল। এখানে আরো আছে ৭টি ইটভাটাও। এভাবে এ বনের কাঠ ব্যবহারে নাইক্ষ্যংছড়ি,রামু, উখিয়া,ঈদগাঁও,কককসাজার ও খুটাখালীতে গড়ে উঠছে ৫ শতাধিক ফার্নিসারের দোকান-পাট। আর এভাবে বাশেঁর বেলাতেও অনুরূপ ঘটনা ঘটে যাচ্ছে এ উপজেলায়।
স্থানীরা জানান, চিকনছড়ি বনবিট এলাকার সরকারি বেসরকারি সব ধরনের পাহাড় এখন বনদস্যূদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় এভাবে। এ বনে বনবিভাগ মুখে কুলূপ নিলেও বিজিবি যা করেন-তাতেই সার। বুধবারের ঘটনাও তারই অংশ বিশেষ। তাদের বক্তব্য বন্ধের সময় ১টি বাশঁ কাটতে শত চারা বাশঁ নষ্ট হয়,কাটা যায়। আর কাঠ-বাশঁ পাচারকারী দলের চলাচলে বাঁশে প্রজনন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।
এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা নূরে আলম জানান,বিজিবি কতৃর্ক বাশঁ আটকের কথা শুনেছেন তিনি। তবে কতটি বাঁশ তারা ধরেছে সে মূহুর্তে বলতে পারেননি তিনি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ