প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যা আছে শুল্ক গোয়েন্দার গোপন প্রতিবেদনে

নিউজ ডেস্ক: অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানকে গত ২৫ জানুয়ারি একটি গোপনীয় প্রতিবেদন জমা দিয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। চোরাচালানের দায়ে শুল্ক বিভাগের (কাস্টমস)আটক করা এবং আটক পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়া সোনা ও সোনার অলঙ্কারের কেস টু কেস পরিদর্শন সংক্রান্ত এ গোপনীয় প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।

গোপনীয় প্রতিবেদনের প্রথম পাতায় কেন বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা থাকা সোনা পরিদর্শনের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে, কী প্রক্রিয়ায় তা করা হয়েছে এবং প্রতিবেদনের পর্যালোচনা কী তা উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ‘উপর্যুক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে আপনার সদয় অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, কাস্টমস কর্তৃক আটক পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমাকৃত স্বর্ণবার ও স্বর্ণালঙ্কারের সঠিক হিসাব নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে জনমনে বিভিন্ন জিজ্ঞাসার উদ্ভব হওয়ায় উক্ত বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করে যাচাই বাছাইয়ের নিমিত্তে এ দফতরের একজন যুগ্ম পরিচালকের নেতৃত্বে একটি ৮(আট) সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।’

প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলা হয়েছে, এই কমিটি বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সহযোগিতা ও তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের মনোনীত অভিজ্ঞ সোনা ব্যবসায়ীর সহায়তায় অত্যাধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রক্ষিত সোনার বার ও সোনার অলঙ্কার পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে। পরবর্তীতে কাস্টম হাউস, ঢাকা থেকে সংগ্রহ করা তথ্য উপাত্ত ও দলিলপত্রের সঙ্গে পরিদর্শনে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দাখিল করে এই কমিটি।

প্রতিবেদনের পর্যালোচনায় বলা হয়, (ক) ভল্টে ভিজিআর নম্বর ১১১০/১৪ মূলে জমা করা মোট ৩.৩ কেজি ওজনের গোলাকার কালো প্রলেপযুক্ত সোনার চাকতি এবং  একটি কালো প্রলেপযুক্ত সোনার রিং এর বদলে যথাক্রমে অন্য ধাতুর চাকতি ও রিং পাওয়া গিয়েছে। সোনা হিসেবে জমা হলেও প্রকৃত যাচাই-বাছাইয়ে সোনা পাওয়া যায়নি। এতে সরকারের ১ কোটি ১১ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬ টাকা ৫০ পয়সা আর্থিক ক্ষতি সংঘটিত হয়েছে।

(খ) অন্যান্য ক্ষেত্রে সোনার অলঙ্কারের ক্যারেটে এবং ওজনে তারতম্য দেখা দেওয়ায় সরকারের ১ কোটি ৯০ লাখ ৮৫ হাজার ৩শ ৪৬ টাকা ৬৩ পয়সা আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

(গ) ফলে উভয়ক্ষেত্রে প্রায় ৩ কোটি টাকার সোনা ও সোনার অলঙ্কারে গড়মিল পাওয়া গেছে।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় রয়েছে, তদন্তের বিষয়বস্তু, প্রেক্ষাপট, কমিটি এবং কমিটির সদস্যদের কার্যপরিধিসমূহ।

তদন্তের বিষয়বস্তু অংশে রয়েছে, চোরাচালানের দায়ে বাংলাদেশ কাস্টমস ও কাস্টমস ইন্টেলিজেন্সের আটককৃত এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমাকৃত সোনা ও সোনার অলঙ্কারের কেস টু কেস পরিদর্শনের জন্য এই দফতর একটি কমিটি গঠন করে। এই কমিটি গত তিন বছরের গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর মামলাগুলোর বিপরীতে আটক করা সোনার বার ও সোনার অলঙ্কার সরেজমিনে পরিদর্শন, জমা করা সোনা ও সোনার অলঙ্কারগুলোর বর্তমান সংরক্ষণ পদ্ধতি ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে কোনও ইস্যু আছে কিনা পরিদর্শন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মনীতি অনুসরণ করে জমা করা সোনার অলঙ্কার ও সোনার বারের সঠিক মান যাচাই করবে।

কমিটিতে দলনেতা হিসেবে ছিলেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের একজন যুগ্ম পরিচালক। সদস্য ছিলেন একই অধিদফতরের দুজন উপ পরিচালক এবং পাঁচজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা।

কমিটির কার্যপরিধি সম্পর্কে বলা ছিল, ক. গত তিন বছরে বৃহৎ ও স্পর্শকাতর মামলাসমূহের বিপরীতে আটক করা সোনা ও সোনার অলঙ্কার সরেজমিনে পরিদর্শন করা।

খ. জমা করা সোনা ও সোনার অলঙ্কারগুলোর বর্তমান সংরক্ষণ পদ্ধতি ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে কোনও ইস্যু আছে কিনা তা যাচাই করা।

গ. কমিটির পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুসরণ করে জমা করে সোনার অলঙ্কার ও সোনার বারের সঠিক মান যাচাই করা।

দ্বিতীয় পৃষ্ঠার নিচের দিকে বলা আছে, এই কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের স্মারক নং-বুলি ৫(খ) ২০১৬-৩১, তারিখ ২৬/০৫/২০১৬ পত্রে উল্লেখিত সিডিউল মোতাবেক বাংলাদেশ ব্যাংক, মতিঝিল অফিসে যোগাযোগ করলে কাস্টম হাউসের জিআর নম্বর অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক জমাকৃত সোনার বার বা সোনার অলঙ্কার পরিদর্শন এবং একইসঙ্গে কীভাবে তালিকা প্রণয়ন করতে হবে তা জানাতে অনুরোধ করা হয় এবং এই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের চাহিদা অনুযায়ী একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়। এছাড়াও শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের  পত্র নিথি নং ০৫/০৭(১০২) তদন্ত/২০১৬/২৫১১ তারিখ ২০/১১/২০১৬ এর মাধ্যমে পরিদর্শনের নিমিত্ত তারিখ ও সময় নির্দিষ্টকরণের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ করা হয়।

তৃতীয় পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে তদন্ত প্রক্রিয়া ও পরিদর্শন কার্যক্রম। তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিগত ১৭/০১/২০১৭ তারিখ হতে চোরাচালানের দায়ে কাস্টম হাউসসমূহ ও কাস্টমস গোয়েন্দা কর্তৃক আটককৃত ও পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমাকৃত সোনার বার বা সোনার অলঙ্কার শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মাধ্যমে যাচাই বাচাই শুরু করা হয়। এসব সোনা সরেজমিনে যাচাই বাচাই কার্যক্রম সম্পাদন পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দলিলাদিসহ সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। মো. হারুন অর রশিদ, গুদাম কর্মকর্তা (সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা), মূল্যবান ও ট্রানজিট গুদাম, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঢাকা হতে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী মোট ২৬২ টি মামলার মধ্যে এই দফতর কর্তৃক কেবল অস্থায়ী ভল্ট সংশ্লিষ্ট ২২৭ টি মামলার সরেজমিনে পরিদর্শন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য, ওপরে বর্ণিত পত্রে কমিটির কার্যপরিধির মধ্যে বৃহৎ ও স্পর্শকাতর মামলাসমূহের বিপরীতে আটককৃত সোনা ও সোনার অলঙ্কারগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করার কথা বলা হলেও কোন মানদণ্ডের ভিত্তিতে একটি মামলা বৃহৎ ও স্পর্শকাতর মর্মে বিবেচিত হবে তা উল্লেখ না থাকায় বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয় এবং আলোচনা শেষে অস্থায়ী ভল্টে রক্ষিত সকল মামলার সোনা ও সোনার অলঙ্কারগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২৬২ টি মামলার বিপরীতে মোট ১৫৯৮.৭৮৮ কেজি(প্রায়) সোনার অলঙ্কার, সোনার বার বা সোনার কাটপিস ইত্যাদির মধ্যে ২২৭ টি মামলার বিপরীতে মোট ৯৬৩.৪০৪ কেজি (প্রায়)সোনার অলঙ্কার, সোনার বার বা সোনার কাটপিস ইত্যাদি যাচাই বাচাই করা হয়। কারণ,অবশিষ্ট মামলাগুলোর সোনার অলঙ্কার, সোনার বার বা সোনার কাটপিস ইত্যাদি নিষ্পত্তির পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভে এবং অন্যবিধ উপায়ে ব্যবস্থিত হয়েছে।

সরেজমিন পরীক্ষার জন্য দুটি পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়:

(১) সোনার মান পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতি কর্তৃক অনুমোদিত স্বর্ণের মান নির্ধারক মেশিনের সাহায্যে দৈবচয়নের ভিত্তিতে সোনার মান বা ক্যারেট পরীক্ষা করা হয়।

(২) সোনার ওজন পরীক্ষা করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রক্ষিত স্কেলে ব্যবহার করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রক্ষিত সোনা ও সোনার অলঙ্কার সরেজমিনে পরিদর্শন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর প্রাপ্ত তথ্য কাস্টম হাউস, ঢাকায় সরেজমিনে গিয়ে গুদামে রক্ষিত তথ্যগুলোর সঙ্গে যাচাই বাছাই করা হয়।

পরিদর্শন কার্যক্রম সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়, কমিটির সদস্যরা ২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর পরিদর্শনের জন্য তারিখ নির্ধারণ ও সময় নির্দিষ্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি পাঠান। চিঠি পেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৬ সালের ৭ ডিসেম্বর তারিখ নির্ধারণ করে এবং ভল্টটি অত্যন্ত গোপনীয় ও মহানিরাপত্তা এলাকা বিধায় নিরাপত্তাজনিত কারণে দুই সদস্য বিশিষ্ট পরিদর্শক দল পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়। পরবর্তীতে অত্র দপ্তরের সমনথি পত্রের মাধ্যমে পরিদর্শনকালে দুই জন কর্মকর্তার স্থলে আট জন কর্মকর্তার টিম (দল)

অনুমোদনের জন্য কর্মকর্তাদের বিস্তারিত বিবরণ সংযুক্ত করে নির্বাহী পরিচালক (ভল্ট) বাংলাদেশ ব্যাংক, মতিঝিল অফিস বরাবর পাঠানো হয়। ভল্টের স্থান সংকুলানের কথা বিবেচনা করে এই দফতর প্রত্যেকবার পরিদর্শক দলের চারজন সদস্যকে পরিদর্শন ও স্বর্ণ পরীক্ষার অনুমতি দেয়। এই দলে ছিলেন তদন্তদলের দুইজন সদস্য, অবশিষ্ট দুইজন ছিলেন বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতি অনুমোদিত টেকনিক্যাল স্টাফ। পরিদর্শন কার্যক্রমে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন মতিঝিল অফিসের কারেন্সি অফিসার (মহাব্যবস্থাপক) মো. খুরশীদ ওয়াহাব, যুগ্ম ব্যবস্থাপক (বুলিয়ান ভল্ট) মো. রমিজ উদ্দিন, যুগ্ম ব্যবস্থাপক (ভেরিফিকেশন ইউনিট) রফিকুর রহমান, যুগ্ম ব্যবস্থাপক (ক্যাশ-বুলিয়ান ভল্ট) আমান উল্লাহ। উল্লেখ্য যে, পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনার সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা তদন্তে সহযোগিতা করেন।

প্রতিবেদনের চতুর্থ পৃষ্ঠায় পরিদর্শক দলের বিস্তারিত পর্যালোচনা উল্লেখ করা হয়েছে। চারটি পর্যালোচনা দেওয়া হয়েছে এতে।

(১) ২০১৭ সালের ৩০ জানুয়ারি (প্রায়)সোনার অলঙ্কার,সোনার বার বা সোনার কাটপিস ইত্যাদি যাচাই বাচাই করে প্রাপ্ত পরীক্ষার ফলাফল সম্বলিত প্রত্যয়নপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, কাস্টম হাউসের ভিজিআর নম্বর ১১১০/১৪ মূলে জমাকৃত গোলাকার কালো প্রলেপযুক্ত সোনার চাকতি এবং একটি কালো  প্রলেপযুক্ত সোনার রিং জমা প্রদানের উদ্দেশ্যে কাস্টম হাউস, ঢাকা এর গুদাম কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ ২০১৫ সালের ২৩ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকে নিয়ে আসেন। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক উক্ত চাকতি এবং রিং ৮০% বিশুদ্ধ সোনা হিসেবে গ্রহণ করা হয় এবং এ সংক্রান্ত একটি প্রত্যয়ন পত্র প্রদান করা হয়। তবে পরিদর্শন দল কর্তৃক ওই চাকতি এবং রিং সংশ্লিষ্ট সকলের উপস্থিতিতে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে যথাক্রমে ৪৬.৬৬%(১১.২০ ক্যারেট) এবং ১৫.১২% (০৩.৬৩ ক্যারেট) পাওয়া যায়। ফলে দেখা যাচ্ছে ওই চাকতি এবং রিং আদৌ সোনায় নির্মিত নয় অর্থাৎ শংকর ধাতুর সমন্বয়ে তৈরি। এতে সোনার বদলে অন্য ধাতু পাওয়ায়  সরকারের ১ কোটি ১১ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬ টাকা ৫০ পয়সা টাকার আর্থিক ক্ষতি সংঘটিত হয়েছে।

(২) পরিদর্শনকালে দেখা যায়, প্রায় সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সোনার অলঙ্কার জমা নেওয়ার পর দেওয়া সনদ অনুযায়ী সোনার অলঙ্কারের বিশুদ্ধতা ৮০% অর্থাৎ ১৮ ক্যারেট কিন্তু পরিদর্শনকালে বিশুদ্ধতা প্রায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ২২ ক্যারেট বা ৯১.৭৪% বিশুদ্ধতা পাওয়া যায়। উচ্চ ক্যারেট সম্পন্ন স্বর্ণালঙ্কারকে নিম্ন ক্যারেটের সোনার অলঙ্কার হিসেবে গ্রহণ করায় ওই সোনা নিলামে বা অন্য উপায়ে বিক্রয় করা হলে সরকার অতিরিক্ত ক্যারেটের বিপরীতে প্রযোজ্য অর্থ হতে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা ছিল।

(৩) বাংলাদেশ ব্যাংক সোনার অলঙ্কার, সোনার বার বা সোনার কাটপিস ইত্যাদি গ্রহণ করে দেওয়া সনদে উল্লিখিত ওজনের চেয়ে প্রায় ক্ষেত্রেই পরিদর্শনকালে ওজন বেশি পাওয়া যায়।

(৪) উচ্চ ক্যারেট ও অধিক ওজনের সোনার অলঙ্কার নিম্ন ক্যারেট এবং নিম্ন ওজনের সোনার অলঙ্কার হিসেবে জমা প্রদান এবং গ্রহণ করায় সরকারের বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

একই পৃষ্ঠাতে পরিদর্শক টিমের ফলাফল উল্লেখ করা হয়েছে।

(১) ভিজিআর নম্বর ১১১০/১৪ মূলে জমা করা গোলাকার কালো প্রলেপযুক্ত সোনার চাকতি এবং একটি কালো প্রলেপযুক্ত সোনার রিং এর বদলে যথাক্রমে অন্য ধাতুর চাকতি ও রিং পাওয়া গিয়েছে।

(২) সোনা ব্যতিত অন্য পদার্থ পাওয়ায় সরকারের ১ কোটি ১১ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬ টাকা পঞ্চাশ পয়সা আর্থিক ক্ষতি সংঘটিত হয়েছে।

(৩) সোনার অলঙ্কারের ক্যারেট এবং ওজনে তারতম্য দেখা দেওয়ায় সরকারের ১ কোটি ৯০ লাখ ৮৫ হাজার ৩শ’৪৬ টাকা ৬৭ পয়সা আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতর থেকে পাঠানো গোপন প্রতিবেদনের শেষ পৃষ্ঠাতে পাঁচটি সুপারিশ করা হয়েছে।

১. কাস্টম হাউজের ভিজিআর নম্বর ১১১০/১৪ মূলে জমাকৃত গোলাকার কালো প্রলেপযুক্ত সোনার চাকতি এবং একটি কালো প্রলেপযুক্ত সোনার রিং বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ৮০% বিশুদ্ধ স্বর্ণ গ্রহণ করা হয় কিন্তু পরিদর্শন দল ওই জি আর/ভিজিআরভুক্ত চাকতি এবং রিং পরীক্ষা –নিরীক্ষা করে অন্য ধাতব বস্তুর পাওয়ায় এ  বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দায় দায়িত্ব নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা যেতে পারে।

২. কাস্টম হাউস কর্তৃক বাংলাদেশ ব্যাংকে (প্রায়)সোনার অলঙ্কার,সোনার বার বা সোনার কাটপিস ইত্যাদি জমা দেওয়ায় সময় অবশ্যই সঠিকভাবে সোনার ওজন এবং সোনার মান (ক্যারেট) পরীক্ষা করে জমা প্রদান করার জন্য কাস্টম হাউসের দায়িত্বপ্রাপ্ত গুদাম কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়ার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা যেতে পারে।

৩. কাস্টম হাউস কর্তৃক বাংলাদেশ ব্যাংকে (প্রায়) সোনার অলঙ্কার,সোনার বার বা সোনার কাটপিস ইত্যাদি জমা দেওয়ার সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও সঠিকভাবে সোনার ওজন এবং সোনার মান (ক্যারেট) পরীক্ষা করে জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়ার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা যেতে পারে।

৪. প্রত্যেক মামলার সংশ্লিষ্ট (প্রায়)সোনার অলঙ্কার,সোনার বার বা সোনার কাটপিস ইত্যাদি মামলা ওয়ারি পৃথকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য কাস্টম হাউসের যথাযথ কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা যেতে পারে।

৫. প্রত্যেক মামলার সংশ্লিষ্ট (প্রায়)সোনার অলঙ্কার,সোনার বার বা সোনার কাটপিস ইত্যাদি মামলাওয়ারি পৃথকভাবে সংরক্ষণ করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও নির্দেশনা দিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা যেতে পারে।সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ