প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দুর্দিনে মিউচুয়াল ফান্ড

ডেস্ক রিপোর্ট : পুঁজিবাজারে মিউচুয়াল ফান্ডের দুর্দিন কাটছে না। তালিকাভুক্ত সব কটি মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দর সম্পদমূল্যের নিচে। অভিহিত মূল্য ১০ টাকা হলেও কোনো কোনোটি বিক্রি হচ্ছে ৫ টাকায়। নিয়ন্ত্রক সংস্থার নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে কোনো ইতিবাচক প্রভাব রাখতে পারছে না। পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির অদক্ষতার প্রতিফলন। ফলে প্রতিটি ইউনিটই সম্পদমূল্যের নিচে লেনদেন হচ্ছে। অদক্ষতার পাশাপাশি কিছু কিছু সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির অসততাও রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

জানা গেছে, বাজারদর কমে যাওয়ায় মিউচুয়াল ফান্ডের প্রতিদিনের পর আস্থা হারাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। সাম্প্রতিক মিউচুয়াল ফান্ডের এনএভি নেতিবাচক এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য অনেক মিউচুয়াল ফান্ডের কোনো লভ্যাংশ দেওয়া হয় না ফলে বিনিয়োগকারী মিউচুয়াল ফান্ডে বিমুখ। মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে। আর বাজার থেকে যে টাকা মুনাফা করে বছর শেষে তা বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ হিসেবে ফেরত দেয়। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণ বিনিয়োগকারী ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা হুজুগে বিনিয়োগ করে। ফলে তাদের লোকসানের আশঙ্কা বেশি। মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর ব্যবস্থাপনায় রয়েছে দক্ষ জনশক্তি। বিভিন্ন কোম্পানির আর্থিক দিক সম্পর্কে তাদের জানা থাকে বেশি। ফলে লোকসানের আশঙ্কা কম।

এর পরও কিছু কিছু মিউচুয়াল ফান্ডের ব্যবস্থাপনা বাজার বিশেষজ্ঞদের হতাশ করেছে। বাজার বিশেজ্ঞরা মনে করেন প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ হিসেবে মিউচুয়াল ফান্ড পুঁজিবাজারে খুবই উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। এসব ফান্ড বাজারের স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখে। যখনই প্রয়োজন হয় এসব ফান্ড শেয়ার কিনবে আবার যখনই প্রয়োজন হবে তখন বাজারের স্বার্থে শেয়ার বিক্রি করবে। এর মধ্য থেকেই বাজার থেকে লাভ তুলে নেবে ফান্ড, যা বছর শেষে লভ্যাংশ হিসেবে পাবেন বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু আমাদের দেশের বিনিয়োগকারীরা ত্বরিত লাভ করতে চান। তারা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করে লভ্যাংশের আশা করেন না। ফলে মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ারের প্রতি তাদের আগ্রহ নেই।

সূত্র জানিয়েছে, ডিএসই পাক্ষিক পুঁজিবাজার চিত্র বিশ্লেষণ করে। সেখান থেকে দেখা গেছে, তালিকাভুক্ত ৩৭টি ইউনিটের সবকটিই সম্পদমূল্যের নিচে লেনদেন হচ্ছে। আইসিবি এমসিএল ২য় এনআরবি ফান্ডের সম্পদমূল্য ১১ টাকা ৭ পয়সা। ফান্ডটি ১৫ জুলাই লেনদেন হয়েছে ৯ টাকা ৪০ পয়সা। একইদিনে গ্রামীণ-১ সঈম-২ এর সম্পদমূল্য ছিল ১৯ টাকা ৫৫ পয়সা। ফান্ডটির লেনদেন হয়েছে ১৬ টাকা ৮০ পয়সা। প্রাইম ফাই. ১ম মিউচুয়াল ফান্ডের সম্পদমূল্য ১১ টাকা, ১৮ টাকার বিপরীতে লেনদেন হয়েছে ১১ টাকায়। ইবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের সম্পদমূল্য ১১ টাকার ৫০ পয়সা আর লেনদেন হয়েছে ৭ টাকা ৫০ পয়সায়। আইসিবি এএমসিএল ২য় মিউচুয়াল ফান্ডের ৯ টাকা ২৯ পয়সা সম্পদমূল্যের প্রতিটি ইউনিট লেনদেন হয়েছে ৭ টাকা ৫০ পয়সায়। আইসিবি এম প্রভি. ১ : স্কিম-১ এর সম্পদমূল্য ৮ টাকা ২৪ পয়সা আর লেনদেন হয়েছে ৬ টাকা ৫০ পয়সায়। একইভাবে ১১ টাকা ৫৪ পয়সা সম্পদমূল্যের ট্রাস্ট ব্যাংক ১ম মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে ৬ টাকা ১০ পয়সায়। ৮ টাকা ৭০ পয়সার প্রাইম ব্যাংক ১ম মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে ৬ টাকা ৮০ পয়সা। ১১ টাকা ৭২ পয়সার সম্পদমূল্যে ডিবিএইচ ১ম মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে ৯ টাকা। ১১ টাকা ০৯ পয়সার আইএফআইসি ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে ৫ টাকা ৬ পয়সা। ৮ টাকা ৪৩ পয়সা সম্পদমূল্যের ফিনিক্স ফাই. ১ম, মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে ৬ টাকা ৪০ পয়সা। ৮ টাকা ২ পয়সা সম্পদমূল্যের আইসিবি এএমসিএল ৩য় এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে ৬ টাকা ২০ পয়সা। ১১ টাকা ৯ পয়সা সম্পমূল্যের ফার্স্ট জনতা ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয় ৬ টাকা ১০ পয়সা। ১১ টাকা ৭৫ পয়সা সম্পদমূল্যের গ্রিনডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয় ৮ টাকা ৭০ পয়সা। ১১ টাকা ১০ পয়সা সম্পদমূল্যের পপুলার লাইফ ১ম মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয় ৫ টাকা ৬০ পয়সা। ৯ টাকা ৩০ পয়সা সম্পদমূল্যের আইএফআইএল মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে ৭ টাকা ৫০ পয়সা। ১১ টাকা ১০ পয়সা সম্পদমূল্যের পিএইচপি ১ম মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে ৬ টাকা ২০ পয়সা। ১০ টাকা ৯১ পয়সা সম্পদমূল্যের এআইবিএল ১ম মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে ৭ টাকা ৭০ পয়সা। ১১ টাকা ৪ পয়সা সম্পদমূল্যের এমবিএল ১ম মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে ৭ টাকা ৭০ পয়সা। ১৪ টাকা ৭১ পয়সা সম্পদমূল্যের সাউথ ইস্ট ব্যাংক ১ম মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে ১৩ টাকা ৭০ পয়সা। ১১ টাকা ১৯ পয়সা সম্পদমূল্যের ইবিএল এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে ৫ টাকা ৯০ পয়সা। ১৪ টাকা ৮ পয়সা সম্পদমূল্যের রিলায়েন্স ফার্স্ট স্কিম অব রিলায়েন্সের লেনদেন হয়েছে ১০ টাকা ৬০ পয়সা। ১১ টাকা ১৩ পয়সার এলআর গ্লোবাল মিউচুয়াল ফান্ড ১-এর লেনদেন হয়েছে ৭ টাকা ৮০ পয়সা। ১১ টাকা ৭৯ পয়সা সম্পদমূল্যের এবি ব্যাংক প্রথম মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে ৫ টাকা ৯০ পয়সা। ১৫ টাকা ৭৫ পয়সা সম্পদমূল্যের এনএলআই ১ম মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে ১৪ টাকা ৬০ পয়সা। ১১ টাকা ৬১ পয়সা সম্পদমূল্যের ১ম বাংলাদেশ ফিকসড ইনকাম ফান্ডের লেনদেন হয়েছে ৫ টাকা ৫০ পয়সা।বিশেষজ্ঞারা জানিয়েছেন, ফান্ড ম্যানেজাররা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন না। মিউচুয়াল ফান্ডের ম্যানেজারদের বিনিয়োগেও স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। ফলে আস্থা নেই বিনিয়োগকারীদের। তবে বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বাড়ানো দরকার বলেও মনে করেন তিনি। একজন ফান্ড ম্যানেজার আমাদের সময়কে বলেন, সব ফান্ড ম্যানেজার সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন না। পাশাপাশি গত বছর কারসাজির দায়ে জরিমানাও করেছিল বিএসইসি। ফলে বিনিয়োগকারীরা মিউচুয়াল ফান্ড বিমুখী। – আমদের সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত