প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যোগ দিয়েই ‘দক্ষিণা’ আদায় শুরু!

ডেস্ক রিপোর্ট : চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শনের নামে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল আলম ‘দক্ষিণা’ আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ ছাড়া ঠিকাদারদেরও অভিযোগ, টাকা ছাড়া ফাইলে স্বাক্ষর করেন না ইউএনও। আবার টাকা নেওয়ার পরও অনেক দিন ফাইল আটকে রাখা হয়।

এভাবে ইউএনওর টাকা আদায় বন্ধে ঠিকাদারদের নিয়ে বৈঠক করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম আল মামুন। ফাইল আটকে ঠিকাদারদের হয়রানির বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাবেন বলে জানিয়েছেন। তবে ইউএনও তারিকুল আলম তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এটি অপপ্রচার বলে দাবি তার।

জানা গেছে, গত ৭ মে চট্টগ্রামের কাপ্তাই উপজেলা থেকে বদলি হয়ে সীতাকুণ্ডে ইউএনও হিসেবে যোগ দেন তারিকুল আলম। ঈদের আগে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের থেকে ‘ঈদ বখশিশ’ আদায় করেন তিনি। জুনের শেষ দিকে ও চলতি মাসের প্রথম দিকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পরিদর্শনে যান। টাকা দিলে পরিদর্শন বইতে লেখা হয় ভালো ও সন্তোষজনক। আর না দিলে লেখা হয় নানা অনিয়মের কথা। তবে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা দিয়ে পরিদর্শন বইয়ে সন্তোষ ও ভালো লেখাতে পারায় অনেক চেয়ারম্যান সন্তুষ্ট।

৫ জুলাই উপজেলার ছলিমপুর ইউনিয়ন এবং ২৮ জুন সৈয়দপুর ও বারৈয়ারঢালা ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন করেন ইউএনও। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে কুমিরা, বাঁশবাড়িয়া, ভাটিয়ারী, সোনাইছড়ি ও বাড়বকুণ্ড ইউনিয়ন পরিদর্শন করেন তিনি।

সৈয়দপুর ইউপি চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম নিজামী বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শনে এসে ইউএনও তারিকুল আলম সাবেক ইউএনওর বিভিন্ন ফাইলসহ অফিসের ফাইলপত্র দেখেন। যাওয়ার সময় পরিদর্শন ফি হিসেবে ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। ওই টাকা নেওয়ার পর তার গাড়িচালক অলির জন্য নেওয়া হয় ৫০০ টাকা। আর উপজেলা অফিসের পিয়নের জন্য নেওয়া হয় এক হাজার টাকা।

একই দিন বারৈয়ারঢালা ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন করেন ইউএনও। ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেহান উদ্দিন বলেন, তিনি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে একটি কাজে ছিলেন। ইউএনও তাকে ফোন করে পরিদর্শনে আসার কথা জানান। তিনি এক ঘণ্টার মধ্যে পরিষদে আসবেন জানিয়ে ইউএনওকে অপেক্ষা করতে অনুরোধ জানান। কিন্তু ইউএনও অপেক্ষা না করে পরিদর্শন বইয়ে চেয়ারম্যান অনুপস্থিতসহ নানা কথা লিখেছেন।

ভাটিয়ারী ইউপি চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন শেষে ইউএনওর গাড়িচালক অলি তার কাছে ইউএনওর জন্য সম্মানী চেয়েছেন। তবে ওই সময় তার কাছে টাকা না থাকায় পরে পাঠিয়ে দেবেন বলেছেন।

একইভাবে সোনাইছড়ি ইউপি থেকে ৫ হাজার, ছলিমপুর থেকে ১০ হাজার ও বাড়বকুণ্ড ইউপি থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়াসহ বাঁশবাড়িয়া ইউপি থেকে দক্ষিণা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ইউএনওর বিরুদ্ধে।

এদিকে ত্রি-স্টার এন্টারপ্রাইজের মালিক ও ঠিকাদার মোহাম্মদ লিয়াকত বলেন, ফাইল আটকে তার কাছ থেকে ইউএনও জন্য ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। টাকা নেওয়ার পরও এক সপ্তাহ ফাইল আটকে রাখা হয়। আরও কয়েকটি ফাইল টাকা না দেওয়ায় আটকে আছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে ইউএনও তারিকুল আলম বলেন, তার নাম করে কেউ টাকা নিয়ে থাকলে সে দায়দায়িত্ব তার নয়। তিনি কারও কাছ থেকে কোনো টাকা নেননি। এগুলো অপপ্রচার।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এসএম আল মামুন বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে এর সত্যতা সম্পর্কে সংশ্নিষ্টরা বলতে পারবেন। উপজেলায় এ ধরনের কোনো রেওয়াজ ছিল না। তিনি সবাইকে বলে দিয়েছেন, শতভাগ কাজ করতে হবে। কাউকে এক টাকাও দেওয়ার দরকার নেই।
সূত্র : সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ