প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঢাকা কলেজের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তি

ডেস্ক রিপোর্ট : ভারতীয় উপমহাদেশের আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার শুরু ঢাকা কলেজ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। দেশবিভাগ পূর্ববর্তী কিংবা স্বাধীনতা পরবর্তী উভয় সময়েই রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির স্বর্ণালী অতীত। তবে নিজের প্রতিষ্ঠার ইতিহাসই জানে না ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি।

কলেজের তথ্য অনুসন্ধানে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ১৮ জুলাইকে ঢাকা কলেজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী হিসেবে জমকালো আয়োজনে পালন করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু গত দু’তিন বছর ১৮ জুলাইয়ের পরিবর্তে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হচ্ছে ২০ নভেম্বর। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান প্রশাসন বলছে আগের অধ্যক্ষ কোনো ধরনের গবেষণা ছাড়াই ১৮ জুলাইকে ঢাকা কলেজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘোষণা করছেন। তবে ২০ নভেম্বর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের পক্ষেও তাদের কাছে নেই শক্ত কোনো তথ্যপ্রমাণ। এতে কলেজের ইতিহাস বিকৃতি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন কলেজটির সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলছেন, ঢাকা কলেজের ইতিহাসের সঙ্গে এ অঞ্চলের আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা চালুর ইতিহাস জড়িত। অথচ দুই অধ্যক্ষের দ্বন্দে কলেজের ইতিহাস বিকৃতি শুরু হয়েছে। তাই যথাযথ গবেষণার মাধ্যমে দ্রুত এর প্রতিষ্ঠার সঠিক দিনটি অনুসন্ধান করা একান্ত প্রয়োজনীয়। নয়লে ঐতিহাসিক এ প্রতিষ্ঠানটির জন্মের ইতিহাস পরিবর্তন হয়ে যাবে।

ঢাকা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স ফলপ্রার্থী শেখ ফরিদ বলেন, ঢাকা কলেজের প্রতিষ্ঠার তারিখ জানা শুধু ঢাকা কলেজের জন্য নয়, দেশের জন্যও দরকার। কারণ ঢাকা কলেজ দিয়েই আমাদের এ অঞ্চলে আধুনিক শিক্ষার আগমণ ঘটেছে। তাই এই কলেজের তারিখ জানা এবং উদযাপন করা কলেজ কতৃপক্ষ ও দেশের শিক্ষা পরিবারের একান্ত দায়িত্ব। তাই আমরা চাই দ্রুত এ দ্বন্দের অবসান হোক। সঠিক দিনে পালিত হোক ঢাকা কলেজ ও দেশের আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার জন্মদিন। কলেজের জন্ম তারিখ  কর্তৃপক্ষের জানা না থাকলে ইতিহাস অনুসন্ধানে এখনি পদক্ষেপ নেয়ার দাবি তার।

ইংরেজী বিভাগের শিক্ষার্থী নজরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা কলেজ। অথচ প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কবে তা কলেজের প্রশাসন জানেনা এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। কলেজ প্রশাসনের উচিত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সঠিক তারিখ বের করে এদিন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে কলেজের ঐতিহ্য সম্পর্কে তুলে ধরা। আমি আশা করবো প্রশাসন আগামীতে এবিষয় আরও সতর্ক হবেন।

আব্দুল্লাহ আল কাফি সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, “প্রাচীনতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা কলেজের একজন ছাত্র হিসেবে আমি গর্বিত। বিভিন্ন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে অনেক ধরনের অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। কিন্তু ঢাকা কলেজের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী সম্পর্কে কলেজ প্রশাসনই জানেন না এটা আমাদের জন্য হতাশার বিষয়।

তিনি বলেন, ঢাকা কলেজ অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের মতো নয়। এই কলেজের একটা ঐতিহ্য রয়েছে। প্রতি বছরই ঢাকা কলেজের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উৎযাপন করা দরকার। আর এর ঐতিহ্য সম্পর্কে অনেকেই জানেনা। তাই কলেজ প্রশাসন ও মন্ত্রণালয়ের উচিত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার সমাধান করা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্যবিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বলেন, আমি ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ছিলাম। তাই অবশ্যই চাই এর জন্মের সঠিক তারিখ জানা থাকুক এবং উদযাপন হোক। কিন্তু এ বিষয়ে আমি কোন মন্তব্য করতে চাই না। তবে বিষয়টা দুঃখজনক যে ঢাকা কলেজের কোন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন সুনিদিষ্ট নয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষাবিদ, লেখক, বিজ্ঞানী ও গবেষক অধ্যাপক ড.মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, আমি ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ছিলাম। তবে যেহেতু প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নিয়ে দুটি পক্ষ দুটি তারিখ নির্ধারণ করেছে। তাই আমি কোন কমেন্ট করে তাদের রাজনীতিতে পড়তে চাই না। তবে এটা কখনোই কাম্য না।

ঢাকা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ তুহিন আফরোজ আলমের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। তবে তিনি জানান, তাদের সময়ে প্রতিবছর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পলিত হতো। কিন্তু তারিখটি তার এখন মনে নেই।

এ বিষয় জানতে চাইলে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মোয়াজ্জম হোসেন মোল্লাহ বলেন, ১৮ জুলাই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সাবেক অধ্যক্ষ আয়েশা ম্যাডামের তৈরি। এর পক্ষে কোনো তথ্য প্রমাণ নেই। কলেজের জন্মের সঠিক ইতিহাস কারোই জানা নেই।

ইতিহাস অনুসন্ধানে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন,একবার ইতিহাস অনুসন্ধানে কমিটি করেছিলাম। পরে আর তা বাস্তবায়ন হয়নি।

এবিষয় জানতে চাইলে ঢাকা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ড. অধ্যাপক আয়েশা বেগম  সঙ্গে মোবাইলে  বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। – আলোকিত বাংলাদেশ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ