প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রায়শ্চিত করার পরও রঙ বদলালেন ট্রাম্প

লিহান লিমা: ফিনল্যান্ডের হেলসিঙ্কিতে শীর্ষ বৈঠকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের প্রশংসা, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে দোষারোপ ও ২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে কোন রুশ সংশ্লিষ্টতা নেই বলে মন্তব্য করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে দেশে ফিরেই তীব্র সমালোচনা ও চাপের মুখে হোয়াইট হাউসের সংবাদ সম্মেলনে সুর পাল্টান তিনি। কিন্তু এরপর টুইটে ট্রাম্পের ভিন্নরুপের দেখা মেলে।

সংবাদ সম্মেলনের এক রাত না পেরোতেই ট্রাম্প টুইটে বলেন, ‘হেলসিঙ্কিতে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক সফল হয়েছে। যদিও অনেকেই বক্সিং ম্যাচ দেখতে চেয়েছিলেন।’ অপরটুইটে ট্রাম্প বলেন, ‘রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমাকে দেখে অনেকেই সত্যিটা মেনে নিতে পারছেন না। তারা এর বদলে যুদ্ধ চায়। ইহাকে বলে ‘ট্রাম্প ডিসঅ্যারেঞ্জমেন্ট সিনড্রোম’।

এর আগে হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে দেয়া বিবৃতিতে বলেন, ‘আসলে আমার বলার কথা ছিল, এই কাজটি রাশিয়া কেন করবে না আমি এরকম কোন কারণ খুঁজে পাই নি। ২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ বিষয়ক গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে আমি আস্থা রাখি।’ তবে লিখিত ট্রান্সক্রিপ্টের বাহিরে গিয়ে ট্রাম্প আরো বলেন, ‘এর সঙ্গে অন্যরাও থাকতে পারে, এরকম অনেকেই এখানে আছে।’ ট্রাম্পের বিবৃতি পড়ার এক পর্যায়ে চিফ অব স্টাফ জন কেলি ভুল করে রুমের লাইট বন্ধ করে দেন। এমন সময় মজা করে ট্রাম্প বলেন, ‘অবশ্যই এর পেছনে গোয়েন্দা সংস্থা থাকতে পারে’।

সংসদের প্রাক্তন স্পিকার ও ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রিপাবলিকান নেতা নিউট গিংরিচ টুইট বার্তায় লেখেন, ‘রাশিয়ার প্রতি এমন নরম মনোভাব প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর সবচেয়ে বড় ভুল এবং অবিলম্বে তা শোধরাতে হবে।’ রাশিয়ার প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের নরম মনোভাবের অভিযোগের জবাব দিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও সেনেটে পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির সামনে বক্তব্য রাখতে হবে। বিরোধী ডেমোক্র্যাট দল হেলসিঙ্কিতে প্রেসিডেন্টের দোভাষীকেও জেরা করতে চায়। পুতিনের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে ট্রাম্প কী বলেছেন, তা-ও জানা জরুরি বলে তারা মনে করেন।

সমালোচকরা বলছেন, প্রেসিডেন্টের মত গুরুত্বপূর্ণ পদে বসে নিজের কথার ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পারাটা হাস্যকর ও লজ্জার। রুশ বিষয়ক বিশ্লেষক উইলিয়াম পোমারাঞ্জ বলেন, একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিদেশের মাটিতে বসে ন্যাটো মিত্রদের বিব্রত করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের শত্রু বলে আখ্যা দিচ্ছেন, নিজ দেশের গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করছেন, রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও বিচারবিভাগকে দোষারোপ করছেন এমন দৃশ্য আগে দেখা ভিন্ন কল্পনাও করাও দায় ছিল।

এর আগে ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট ১৯৪৫ সালে জোসেফ স্ট্যালিনের সঙ্গে ইয়েল্টা কনফারেন্সে যোগদানের পর বৈদেশিক নীতি বিসর্জন দেয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিলেন, জন এফ কেনেটি ও তার পরামর্শকরা স্বীকার করে নিয়েছিলেন যে ১৯৬১ সালের নিকিতা কুশরেভের সঙ্গে ভিয়েনা সম্মেলনে তিনি অপ্রস্তুত ছিলেন, ১৯৮৬ সালে রোনাল্ড রিগান ও মিখাইল গর্ভাচেভের মধ্যকার সম্মেলন ব্যর্থ হয়েছিল, জর্জ ডব্লিউ বুশ ২০০১ সালে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর তাকে ‘স্পষ্টভাষী ও বিশ্বাসযোগ্য’ বলে মন্তব্য করে হাসির খোরাক হয়েছিলেন। কিন্তু ট্রাম্পের বিষয়টি পুরোপুরিই ভিন্ন ও সব সীমা অতিক্রম করেছে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এফবিআই-এর প্রাক্তন প্রধান রবার্ট মুলার রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্প শিবিরের সম্পর্কের অভিযোগে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। ট্রাম্প বার বার সেই অভিযোগ অস্বীকার করে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তের সমালোচনা করে চলেছেন। কিন্তু মুলার গত শুক্রবার ১২ জন রুশ সামরিক গোয়েন্দা এজেন্টের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করার পর হোয়াইট হাউসের উপর চাপ বেড়ে চলেছে। সিএনএন, ডেইলিমেইল।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ