প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অর্থ ছাড় না হওয়ায় আটকে আছে এলওসি প্রকল্পগুলো

সাইদ রিপন: যথাসময়ে অর্থছাড় না হওয়ায় আটকে আছে ভারতের লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) অন্তর্ভুক্ত প্রকল্পগুলো। প্রথম এলওসিতে ১৫টি প্রকল্পে ৮৬ কোটি ২০ লাখ ডলার ঋণ সহায়তা দেয়ার কথা ছিলো ভারতের। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১২টি প্রকল্প শেষ হলেও অর্থছাড় হয়েছে মাত্র ৪০ কোটি ডলার। এছাড়া ২০১৬ সালে এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি সইয়ের পর দ্বিতীয় এলওসিতে ১২টি প্রকল্পে ১৭৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের চূড়ান্ত সম্মতি দেয় ভারত। কিন্তু এলওসি ঋণের অপ্রত্যাশিত অর্থছড়ের পরেও গত বছর ভারতের সাথে তৃতীয় এলওসির ঋণ চুক্তি সই করে বাংলাদেশ সরকার। তৃতীয় এলওসির জন্য ১৭টি প্রকল্প নির্ধারণ হলেও এগুলোতে ভারত সরকার এখনও কোন সম্মতি দেয়নি। তবে সর্বশেষ এলওসির আওতায় ভারত থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ৯৪ কোটি ডলার ঋণ প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ। ইআরডি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

ইআরডি সূত্র জানিয়েছে, প্রথম এলওসির আওতায় ১২টি প্রকল্প শেষ হলেও এখনও ২টি প্রকল্পের বিষয়ে ভারত থেকে কোন সম্মতি পাওয়া যায়নি। তাছাড়া প্রথম এলওসির বেশিরভাগ প্রকল্পই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ভারত থেকে পণ্য সরবরাহ করা হয়। এ কারণে ভারত তাদের স্বার্থে পণ্য বিক্রির প্রকল্পগুলো আগে অনুমোদন প্রক্রিয়ায় সম্মতি দিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে নেওয়া প্রকল্পগুলোতে প্রতিবেশী দেশটির অনুমোদন বিলম্ব এবং বাস্তবায়ন পর্যায়ে ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলার কারণে আটকে আছে। তবে বাংলদেশ সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্য অনুযায়ী দ্বিতীয় এলওসি ঋণের প্রকল্পগুলো এতোদিনে শুরু হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু ভারতের সম্মতি দিতে বিলম্ব করায় কাজ শুরু করতে দেরি হচ্ছে। চুক্তির আড়াই বছরেও দুই বিলিয়ন ডলারের দ্বিতীয় এলওসির কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্যায়ে যেতে পারেনি। সাড়ে চার বিলিয়ন ডলারের তৃতীয় এলওসির অর্থায়নের প্রকল্প এখনও ভারতের সম্মতির অপেক্ষায় আছে। মূলত যথাসময়ে অর্থছাড় না হওয়াতেই ভারতীয় ঋণের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে বিলম্ব হচ্ছে।

ইআরডির একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বিভিন্ন কারণে ঋণ ছাড় হতে সময় লাগে। যেমন আমাদের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বিভিন্ন সময় ডিজাইন পরিবর্তন করতে হয়েছে। আর ডিজাইন পরিবর্তন হলে তখন ঋণদাতা দেশের সম্মতি নিতে হয়। তাছাড়া পরামর্শক নিয়োগ ও ঠিকাদার নিয়োগে কয়েক দফায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও এক্সিম ব্যাংকের সম্মতির প্রয়োজন হয়েছে। এ কারণে প্রথম এলওসির কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় লেগেছে। প্রথম এলওসির অভিজ্ঞতার আলোকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় এলওসির প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে বাড়তি সময় লাগবে না বলে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ