Skip to main content

‘দলীয় সরকারের অধীনে দেশে নিরপেক্ষ নির্বাচনের কোনো সুযোগ নেই’

রফিক আহমেদ : বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি’র) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, দলীয় সরকারের অধীনে বাংলাদেশে নিরপেক্ষ নির্বাচনের কোন সুযোগ নেই। নির্বাচনের আগে জাতীয় সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। বুধবার পুরান পল্টনস্থ মৈত্রী মিলনায়তনে জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, জামানতের টাকা কমিয়ে গরীব মানুষকে নির্বাচন করার সুযোগ দিতে হবে। নির্বাচন প্রহসনমূলক হোক- তা হতে দেয়া হবে না। দেশে এখন বর্তমান নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠন এবং গোটা নির্বাচন ব্যবস্থার আমুল সংস্কার অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে আট দলের সমন্বয়ে ‘বাম গণতান্ত্রিক জোট’ এর ঘোষণা দেন বামপন্থী নেতারা। সংবাদ সম্মেলনের প্রারম্ভিক বক্তব্য দেন বাসদ সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর করেন সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শুভ্রাংশু চক্রবর্তী। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু ও সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক। সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন- আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পূর্বে জাতীয় সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে বর্তমান সরকারের পদত্যাগ, সকল দল ও সমাজের অপরাপর অংশের মানুষের মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠন এবং গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও সরকারের ফ্যাসিবাদী প্রবণতা বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারের উন্নয়নের রাজনীতিতে ধনী গরিবদের মধ্যে আয় ও সম্পদের সীমাহীন বৈষম্য বাড়ছে। বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে ভারত, মার্কিন ও পাকিস্তানসহ বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাসমূহের অপতৎপরতা চলছে। নির্বাচন সামনে রেখে বড় দুই দলের বিদেশি প্রভুদের কাছে ধর্ণা বাংলাদেশে বিদেশিদের হস্তক্ষেপের সুযোগ বাড়িয়ে তুলেছে, বিপদগ্রস্ত করছে দেশের সার্বভৌমত্বকে। বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের ‘নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের’ মডেল নির্বাচন ও জনগণের ভোটাধিকারকে প্রহসনে পরিণত করেছে। সংবাদ সম্মেলনে আটটি রাজনৈতিক দলÑ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশের ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন সমন্বয়ে ‘বাম গণতান্ত্রিক জোট’ গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। জোটের প্রথম সমন্বয়ক হিসেবে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের নাম ঘোষণা করা হয়। জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দ হচ্ছেনÑ মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, মো. শাহ আলম, খালেকুজ্জামান, বজলুর রশীদ ফিরোজ, সাইফুল হক, আকবর খান, শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, ফখরুদ্দিন কবির আতিক, জোনায়েদ সাকি, ফিরোজ আহমেদ, মোশাররফ হোসেন নান্নু, অধ্যাপক আবদুস সাত্তার, মোশরেফা মিশু, মমিন উর রহমান বিশাল, হামিদুল হক ও রণজিত কুমার।

অন্যান্য সংবাদ