প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পুলিশের নির্দেশনা মানছে না আবাসিক হোটেল মালিকরা

ইসমাঈল হুসাইন ইমু : অপরাধ ও অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হচ্ছে রাজধানীর অনেক আবাসিক হোটেল। হোটেলকক্ষে খুন, অসামাজিক কার্যকলাপ, প্রতারণার মাধ্যমে নগ্ন ছবি ধারণ, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও জুয়ার আসরসহ নানা রকম অপরাধ হরহামেশাই সংঘটিত হচ্ছে। এ ছাড়া সারাদেশের বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত অনেক অপরাধী নিরাপদে অবস্থান করছে এসব হোটেলে। নামিদামি কিছুসংখ্যক হোটেল ছাড়া অধিকাংশ হোটেলে রাখা হচ্ছে না অতিথিদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য। সঠিক তথ্য না থাকায় সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নগরীতে ছোট-বড় মিলিয়ে আবাসিক হোটেল রয়েছে প্রায় ৯০০। এর মধ্যে ৭২২টির হোটেল ব্যবসার অনুমোদন নেই। লাইসেন্স ছাড়াই চলছে তাদের রমরমা হোটেল ব্যবসা। ঘটছে নানা অপ্রীতিকর ঘটনা। গত ১০ বছরে ঢাকার আবাসিক হোটেল থেকে তিন শতাধিক লাশ উদ্ধার করা হয়।

জানা গেছে, আবাসিক হোটেলে অপরাধ দমনে ২০০৮ সালের মার্চ মাসে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) রাজধানীর আবাসিক হোটেল মালিকদের প্রতি বোর্ডার (অভ্যাগত) এন্ট্রি ফরমে বোর্ডারদের নাম-ঠিকানা, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও মোবাইল ফোন নম্বর লেখার ও তা সংরক্ষণের নির্দেশ দেয়। একই নির্দেশনায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও বোর্ডারদের ছবি তুলে রাখার কথাও বলা হয়। অতিরিক্ত সতর্কতার জন্য বোর্ডারের মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করে তা সঠিক কি না, তাও তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করে নেয়ার ব্যাপারে ডিএমপির নির্দেশনা রয়েছে।
সর্বশেষ পূরণ করা তথ্য ফরমের ফটোকপি প্রতিদিন সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানোর নির্দেশ থাকলেও হোটেল মালিকরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর কোনোটাই অনুসরণ করছেন না। ফলে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটে গেলেও পুলিশ সদস্যদের পক্ষে অপরাধী শনাক্ত করা কিংবা দুর্ঘটনার শিকার কারো পরিচিতজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় না। একই সঙ্গে সাধারণ বোর্ডারদের নিরাপত্তার বিষয়টিও থেকে যায় ঝুঁকির মুখে।

এছাড়াও ২০১৬ সালের ১ জুলাই হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় দেশের ইতিহাসে বড় ধরনের জঙ্গি হামলার পর সকল হোটেলে নজরদারি বাড়ানো হয়। এরপরও পান্থপথে হোটেল অলিওতে এক জঙ্গি আত্মঘাতি হামলায় নিহত হয়। এর আগে ডিএমপির পক্ষ থেকে হোটেলে বোর্ডার বুকিংয়ের ক্ষেত্রে সতর্ক করা হয়। বর্তমানে রাজধানীর কযেকটি হোটেল ছাড়া আবাসিক হোটেলগুলোয় পুলিশের নির্দেশনা মানা হচ্ছেনা। সর্বশেষ

গত সোমবার সকালে মগবাজার এলাকার হোটেল বৈকালি থেকে এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই তরুণীকে তারই দুলাভাই হত্যা করে পালিয়ে গিয়েছিল। অবশ্য বুধবার মিরপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ওই হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপসহ নানা অপকর্ম চলে আসছে। কতিপয় পুলিশ ওই হোটেল থেকে মাসোহারা নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও গুলিস্তান, বনানী, মগবাজার, মহাখালী, গুলশান, উত্তরা, মিরপুর এলাকার অনেক আবাসিক হোটেলে বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডের অভিযোগ রয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার জানান, আবাসিক হোটেলগুলো প্রতিদিনেরই তথ্য নিকটস্থ থানায় দিয়ে থাকে। থানার সংশ্লিষ্টরা এই বিষয়ে তদারকি করে থাকেন। এর বাইরে যদি কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা থাকে- আমরা এসবের বিরুদ্ধে নিয়ে থাকি। আমরা হোটেল মালিকদের নিয়ে মিটিং করছি। নিয়মিত তাদের চিঠি দেয়া হচ্ছে। এতে সাড়া দিয়ে অনেক মালিকই সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বোর্ডারদের তথ্যও পাচ্ছে পুলিশ। তবে দুএকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা থাকতে পারে বলে জানান তিনি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ