প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সরু পাইপের কারণে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারে জলাবদ্ধতা

শাকিল আহমেদ: বৃষ্টি হলে তলিয়ে যায় রাজধানীর অলিগলিসহ রাজপথ। এবার বাদ যায়নি মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারও। আর এই জলাবদ্ধার কারণ জানতে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। তদন্তে জানা যায়, সরু পাইপ মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারে জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ।

মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ভারি বর্ষণে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গার পাশাপাশি মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তিন ভাগে বিভক্ত মগবাজার (সমন্বিত) ফ্লাইওভারের বাংলামটর-মৌচাক অংশ এবং রামপুরা-শান্তিনগর অংশের কাজ শেষ হয়েছে বছরখানেক আগে। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিটি করপোরেশনের কাছে এখনো ফ্লাইওভার হস্তান্তর করেতে পারিনি। সম্প্রতি বৃষ্টি হওয়ায় মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারে হাঁটু পানি জমেছে। এতে জনদুর্ভোগের পাশাপাশি জীবন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়েছে পরিবহন চালকদের।

এই দুর্ভোগ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর জাহিদ হোসেনকে প্রধান করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে ডিএসসিসি। পরে এই কমিটি জুন মাসের ২১ তারিখ ফ্লাইওভার সরেজমিনে ঘুরে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনে ফ্লাইওভারে ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকলেও বালু ও কাদামাটিতে পাইপের মুখ বন্ধ হয়ে থাকে। অনেক অংশে পানি নিষ্কাশনের পাইপ অকেজো হয়ে গেছে। ফ্লাইওভারের দ্বিতীয় তলায় পানি নিষ্কাশনের জন্য লাগানো পাইপ খুবই চিকন হওয়ায় পানি সরে না। এছাড়া পাইপলাইনের সংযোগস্থলগুলোর নিচে সব সময় মাটি ও বালু দিয়ে ভরাট থাকে। ফ্লাইওভারের নিচে পানি নিষ্কাশনের জন্য কোনো ম্যানহোল না থাকায় বালু, মাটি দিয়ে ভরাট হয়ে যায়। আর ফ্লাইওভারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য জনবলের সংকট রয়েছে। নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়ায় পাইপ মাটি দিয়ে ভরাট হয়ে গেছে।

এই সমস্যা থেকে উত্তরনের জন্য তদন্ত কর্মকর্তারা কিছু সুপারিশ দিয়েছেন। এগুলো হলো- ফ্লাইওবারের চিকন পাইপ লাইনগুলো পরিবর্তন করে বড় আকারের পাইপ লাইন স্থাপন করা। পানি অপসারণের জন্য মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের মতো নিচের অংশে ফাক ও ডিস স্থাপন করা। আর মাঝখানের সংযোগ স্থলে বড় আকারের পাইপ বসানো। এছাড়া ফ্লাইওভারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা পরিষ্কারের জন্য জনবল নিয়োগ করা।

এই বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর জাহিদ হোসেন বলেন, মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার এখনো সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্ত করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে সিটি করপোরেশন চাইলেও কোন কাজ করতে পারে না। আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছি যে ফ্লাইওভারে পানি জমে। সে জন্য আমরা নিজেরাই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তদন্ত কমিটি সমস্যাগুলো তুলে ধরে ফ্লাইওভার প্রকল্প পরিচালকের কাছে হস্তান্তর করব। সম্পাদনা: আনিস রহমান

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত