প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নওগাঁয় স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে নদী পরিষ্কার, প্রাণ ফিরেছে তুলশীগঙ্গার

আশরাফুল নয়ন, নওগাঁ: নওগাঁ সদর উপজেলার ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে তুলশীগঙ্গা নদী। দীর্ঘদিন খনন ও সংস্কারের অভাবে কচুরিপানা জমে নদীর নাব্যতা হারাতে বসেছে। ফলে প্রতি বছর আগাম বন্যার কারণে নদীর আশপাশের গ্রামের ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়ে থাকে।

নদীর স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এলাকাবাসীদের নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কচুরিপানা পরিস্কার করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। এতে প্রাণ ফিরে পেেেয়ছে তুলশীগঙ্গা নদী। নদী পরিস্কার করা হলে বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, সদর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রায় ১০ কিলোমিটার জুড়ে তুলশীগঙ্গা নদীতে কচুরিপানা জমেছে। ফলে নাব্যতার কারনে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ বন্ধ হয়ে গেছে। আর একারণে প্রতিবছর আগাম বন্যায় ঘরবাড়ি সহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে থাকে। বন্যার কবল থেকে রক্ষা পেতে এ বছর নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ফিরিয়ে আনতে ইউনিয়নবাসীকে সাথে নিয়ে নদী পরিস্কারে উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হাসানুল আল মামুন।

আর তার উদ্যোগকে সাড়া দিয়েছে স্থানীয় কয়েক’শ বাসিন্দা। আর স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিত্বে গত এক সপ্তাহ ধরে কাজ করছেন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সীরা। ইতোমধ্যে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার নদী থেকে কচুরিপানা পরিস্কার করা হয়েছে। আর এ কাজে স্বেচ্ছাশ্রমে অংশনেয়া নারীদের চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে প্রায় চারশতাধিক নারীকে শাড়ি দেয়া হয়েছে।

নদী পরিস্কার হলে কমপক্ষে বোয়ালিয়া, পার-বোয়ালিয়া, দোগাছীসহ প্রায় ৩০-৩৫ গ্রামের মানুষ উপকৃত হবেন। নদীতে থাকা দেশীয় প্রজাতির মাছসহ জীববৈচিত্র রক্ষা পাবে। ‘তুলশীগঙ্গা নদ পরিস্কার করব, দূষণমুক্ত নওগাঁ গড়ব’ স্লোগানে এলাকাবাসীদের সাথে অংশ নিয়েছে স্থানীয় ল্যান্স ক্লাবের সদস্যরাও।

স্থানীয় ইউপি মেম্বার আলম সরদার বলেন, প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদী থেকে কচুরিপানা পরিস্কার করা হচ্ছে। এলাকাবাসী সবাই মিলে আমরা সে কাজ করছি। কারো একার পক্ষে হয়ত সম্ভব ছিলনা। তাই দশে মিলে করি কাজ, হারি জিত নাহি লাজ। আর প্রতি ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিরা যদি এমন উদ্যোগ নেয় তাহলে শুধু নদী সংরক্ষনই না, যে কোন বড় সমস্যা সমাধান করা সম্ভব বলে মনে করি।

বোয়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হাসানুল আল মামুন বলেন, কচুরিপানার কারণে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ বন্ধ হয়ে পানি নিষ্কাশনে সমস্যা হয়ে পড়ে। এ কারণে প্রতিবছর এলাকার ব্যাপক ক্ষতি হয়। নদী থেকে কচুরিপানা পরিস্কারের জন্য এলাকাবাসীদের সাথে আলোচনা করা হয়। তারা সে উদ্যোগে সাড়া দেয়। নদী পরিস্কার হলে এলাকাবাসীরাও উপকৃত হবেন। আর জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান স্যার এ কাজে যথেষ্ট সহযোগীতা করেছেন।

তিনি আরো বলেন, এ নদী থেকে বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। নদীতে মাছচাষ করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবে। এছাড়া এলাকাবাসী এ নদীর পানি গোসলসহ সাংসারি ও সেচকাজেও ব্যবহার করতে পারবে।

নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার বলেন, জেলায় ছয়টি নদী খননের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তুলশীগঙ্গা নদী এদের মধ্যে একটি। যে নদী সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ন সেটি আগে খনন করা হবে। এরপর পরবর্তীগুলো পর্যায়ক্রমে খনন করা হবে। আর নদী খননের বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাও রয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ