প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নির্বাচনের নামে খেলা খেলা তামাশা চলছে : ফখরুল

শিমুল মাহমুদ: নির্বাচনের নামে খেলা খেলা তামাশা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দেশে আজ কোন কিছু অবশিষ্ট নেই। সবকিছু নিঃশেষ হয়ে গেছে। মানবাধিকার বলেন, মানুষের মৌলিক অধিকার বলেন, গণতান্ত্রিক অধিকার বলেন, সবশেষ আজকে মিথ্যা কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করে পুরো জাতিকে বিভ্রান্ত করেছে।

বুধবার (১৮জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ (বিএসপিপি) কতৃক আয়োজিত বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, এতোসব তামাশা চলার পরেও আমরা তামাশায় যাচ্ছি কারণ জনগণ চায় আমরা এতে যাই। জনগন চাই আমরা এইসব বিষয় উন্মোচন করি। আমরা যাচ্ছি কিন্তু এটা মনে রাখতে হবে। এই যাওয়াই কিন্তু পার্মানেন্ট নয়। বাংলাদেশের জনগণ রুখে দাঁড়াচ্ছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেছেন, বিএনপি নাকি বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে নোংরা রাজনীতি করছে। জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টায় এ ধরনের কথা তিনি প্রায়ই বলেন। এখনো বলছেন।

তিনি আরো বলেন, কোটা আন্দোলন এবং বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে আমরা কোন রাজনীতি করছি না। আমরা কারাবিধি অনুযায়ী বেগম জিয়ার জিয়ার ইচ্ছা অনুযায়ী চিকিৎসার দাবি জানিয়েছি, কিন্তু তারা চরম মিথ্যা কথা আমাদের সাথে বলছেন তার কোন অসুখ নেই।

বিএনপির এই নেতা বলেন, আজকে তার (খালেদা জিয়ার) যে চিকিৎসক রয়েছেন তাদেরকে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। তার পরিবারের সদস্যদের দেখা করতে দিচ্ছেন না। আর আমাদের তো দেখা করতে দিচ্ছেই না। আমি অবিলম্বে কারাবিধি অনুযায়ী চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আহবান জানাচ্ছি।

বিএনপি মহা সচিব আরো বলেন, রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আজকে মিথ্যা মামলায় কারারুদ্ধ করে রেখেছে। ন্যূনতম আইনি সুবিধা যেটা তার প্রাপ্য তা থেকেও বঞ্চিত করা হচ্ছে। আজকে আবার ২০১৪ সালের মত একটা সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে খালেদা জিয়ায় মুক্তিতে বিলম্ব করছে।

বর্তমান সরকারের কিছু ব্যর্থতা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে বাংলাদেশ ব্যাংকে সোনা পরিবর্তন করে ধাতু মিশ্র করা হয। সোনা বদলে নকল জিনিস রাখা হয়। কোটি কোটি টাকা হ্যাকিং করে নিয়ে যায়। তার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় না। কারণ অর্থমন্ত্রী নিজেই বলেছেন এর পেছনে জড়িত রয়েছে তাদের হাত নাকি অনেক লম্বা।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের বিষয়ে তিনি বলেন, বিএনপি’র এই মহাসচিব বলেন বাংলাদেশকে আজকে বিশ্বের দরবারে একটা হাস্যকর জায়গায় নিয়ে গেছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বলেছেন কোনো কোটা থাকবে না কিন্তু পরবর্তীতে সরকার ইউটার্ন করেছে তিনি বলছেন হাইকোর্টের রায়ের বাইরে তিনি যেতে পারেন না। হাই কিন্তু হাইকোর্টের রায় হচ্ছে একটি পর্যবেক্ষণ অবজারভেশন। সরকারের কথায় প্রমাণ হয় সরকারের সুবিধামতো আদালতকে ব্যবহার করছেন যেখানে সুবিধা নেই সেখানে আদালতকে ব্যবহার করছেন।

বিএনপির এ নেতা বলেন, সরকার আজকে তারা একটি কথা বলছেন দেশের অর্থনীতির নাকি সবল। অথচ আজকে প্রতিদিন দেশের রেমিটেন্স কমছে। প্রতিদিন বিনিয়োগের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এখনও পর্যন্ত সরকারের একটা বেসরকারি বিনিয়োগ আনতে পারে নাই। আজকে জনগণের পকেট কেটে দুর্নীতির মাধ্যমে মেগা প্রজেক্ট চালানো হচ্ছে। আর সেই মেগা প্রযুক্তির লাভ হচ্ছে শুধু সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের।

তিনি বলেন,বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য একটি নির্দলীয় সরকারের নির্বাচন কমিশন ও একটি সুষ্ট নির্বাচন চাই। যা দিয়ে জনগণ তাদের পরবর্তী সরকার গঠন করবে।
মানববন্ধনের সভাপতিত্ব করেন সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজী।

এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,বাংলাদেশ পেশাজীবী পরিষদ সভাপতি ড.এ জেট এম জাহিদ হোসেন, আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, সাংবাদিক শওকত মাহমুদ, কাদের গণি চৌধুরী, অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া প্রমুখ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত