প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ছাত্রলীগকে ঠেকান, ক্যাম্পাস নিরাপদ করুন

মোস্তফা ফিরোজ: সরকার ও আওয়ামী লীগকে গত দশ বছরে এক ছাত্রলীগ যতো ক্ষতি করেছে তার প্রবল প্রতিপক্ষ বিএনপি-জামায়াত মিলেও মনে হয় এতটা সর্বনাশ করতে সক্ষম হয়নি। এই কথাটা কেবল আমার না, এটা আওয়ামী লীগকে যারা সত্যিকার ভালোবাসে কোন স্বার্থ ছাড়াই তাদেরও। অনেকে চুপচুপ এসে আফসোস করে বলেন, আহা দলটা কোথায় চলে যাচ্ছে। এর পরিণতিটা একটুও ভাবছে না। আমি বলি তাদেরকে, এটা আপনারা বলেন না কেন দলের কাছে? তখন আবার সেই আফসোস নিয়ে উত্তর শুনি, কোথায় বলবো ভাই, কার কাছে বলবো। আমাদের কথা শোনার কে আছে? আসলেই এখন শোনার, বলার আর দেখার কেউ মনে হয় নেই। একবারও কি ভেবে দেখেছে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া এই ছাত্রলীগ এখন কোন ঐতিহ্য ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছে?যে সংগঠণটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীনতার পতাকা উড়ায়, ইশতেহার পাঠ করে সেই সংগঠণের উত্তরাধিকারদের কেউ কেউ এখন সাধারণ ছাত্রদের কাছে মূর্তমান আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছে। গোটা ক্যাম্পাসে কায়েম করেছে সন্ত্রাসের রাজত্ব। এখানে সেখানে যখন তখন ছাত্র ছাত্রীরা নিগ্রহের শিকার হচ্ছে। রেহাই পাচ্ছেন না শিক্ষকরাও।

তাদের এই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কারণে সরকার ও দল কি পরিমাণ ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে তা নিরুপণের যদি কোন ব্যবস্থা থাকতো তাহলে বুঝতে পারা যেতো তলানির কোন স্তরে তারা রয়েছে। এর পরিমাপের যন্ত্র হচ্ছে দুটি। একটি,দলের ভিতরে মুক্ত গণতান্ত্রিক আলোচনা। দ্বিতীয়টি, নির্বাচন। দূর্ভাগ্যবশতঃ দুটির একটিও এখন আর বেঁচে নেই।

অতীতে,বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিলো। তখন এতোটা ব্যাপক না হলেও কম বেশি সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের প্রবণতা ছিলো। এর ফলাফল দলের জন্য ভালো হয়নি। দলকে অজনপ্রিয় করার জন্য তাদের কর্মকান্ড কিছুটা দায়ী ছিলো। সেই সরকার যখন সংকটে পড়েছিল, তখন ছাত্রদল কোন কাজে আসেনি। শুধু তাই না, সরকার যেদিন পরিবর্তন হয়, ওই রাতেই কোন ঘটনা ছাড়াই হলের ক্যাডাররা একযোগে পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়। ক্যাম্পাস হয়ে পড়ে ছাত্রদলশূন্য।

এখনও যদি তেমন কিছু হয়, আমি নিশ্চিত ওই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হবে। তাহলে ক্ষমতায় থেকে এই বাহাদুরির অর্থ কি? টিকে থাকতে হলে মানুষের ভালোবাসা অর্জন ছাড়া অন্যকোন রাস্তা নেই, এই কথাটা সরকারের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব যদি না বোঝেন তাহলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের আর কি বলার থাকতে পারে?

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ