প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও হিলি স্থলবন্দরে লক্ষ্যমাত্রার বেশি রাজস্ব সংগ্রহ

ডেস্ক রিপোর্ট : দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চাইতে আট কোটি ২৫ লাখ টাকা বেশি রাজস্ব আয় করেছে। ওই অর্থবছরে হিলি স্থলবন্দর থেকে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৯০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে একশ’ ৯৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ‘বন্দরে পণ্য আমদানি-রফতানিতে কিছু প্রতিবন্ধকতা এবং অবকাঠামোগত ত্রুটি রয়েছে। সেগুলো সমাধান করা হলে আরও বেশি রাজস্ব আহরণ সম্ভব হবে।’

হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি মো. হারুন উর রশীদ হারুন বলেন, পদ্মাসেতু ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে প্রচুর পাথর আমদানি হচ্ছে। এছাড়া দেশের বাজারে চালের দাম অস্থিতিশীল হয়ে ওঠার কারণে বন্দর দিয়ে চালও আমদানি হয়। এসব কারণে বন্দর থেকে রাজস্ব আহরণের পরিমাণ আগের তুলনায় বেড়েছে। তবে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে মূলত পেঁয়াজ, চাল, গম, ভুট্টা, খৈল, ভুষি, কাঁচামরিচসহ বেশির ভাগই খাদ্যদ্রব্য আমদানি হয়ে থাকে। তিনি বলেন, ‘হিলি স্থলবন্দর থেকে আরও বেশি রাজস্ব সংগ্রহ সম্ভব হবে যদি বন্দরের কিছু সমস্যা সমাধান করা যায়। বিশেষ করে বন্দরের প্রধান সড়কটি সরু থাকার কারণে বন্দরে যানজট লেগেই থাকে। এ কারণে সঠিক সময়ে ভারত থেকে ট্রাকগুলো বন্দরে ঢুকতে পারে না। আবার বন্দরে প্রবেশের পরেও যানজটের কারণে ট্রাক দেরিতে বন্দর থেকে বের হয়। এতে অতিরিক্ত মাশুল গুনতে হয়। এছাড়া সামান্য বৃষ্টিতেই স্থলবন্দর এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় আমদানি পণ্য নষ্ট হয়। এসব সমস্যা সমাধান হলে আমদানি-রফতানি আরও বাড়বে।’

হিলি স্থলবন্দরের সিএন্ডএফ এজেন্ট শাহিনুর রেজা শাহীন বলেন, ‘হিলি স্থলবন্দর দিয়ে দু’ দেশের পণ্য আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে বেশকিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। বিশেষ করে ফল আমদানির ক্ষেত্রে গাড়ির চাকা অনুযায়ী এনবিআর কর্তৃক নির্ধারিত শুল্ক আহরণের পদ্ধতি চালু থাকায় কয়েক বছর ধরে বন্দর দিয়ে ফল আমদানি বন্ধ রয়েছে। এছাড়া বন্দর দিয়ে বেশি শুল্কযুক্ত পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে কাস্টমসের নানা জটিলতাও রয়েছে।’

বাংলাহিলি কাস্টম সিএন্ডএফ এজেন্ট আ্যসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান লিটন বলেন, হিলি স্থলবন্দরের সঙ্গে ভারতের পশ্চিবঙ্গের কলকাতাসহ অন্য এলাকার রেলপথ ও সড়কপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানের আমদানিকারকরা এই স্থলবন্দর ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন। এ কারণে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বাড়ছে। তিনি বলেন, ‘বন্দরের ভেতরে ওয়্যার হাউসের সংখ্যা বৃদ্ধি, সড়ক চারলেনে উন্নীত এবং বন্দরে একটি ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ করা হলে বন্দর থেকে রাজস্ব আয় আরও বাড়বে।’

বাংলাদেশ সীমান্তে ঢুকছে আমদানি পণ্যবোঝাই একটি ট্রাকহিলি স্থলবন্দর শুল্ক স্টেশনের ডেপুটি কমিশনার রেজভী আহম্মেদ বলেন, ‘২০১৭-১৮ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত ৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা বেশি রাজস্ব আয় হয়েছে। এই বন্দরে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ থাকায় বাড়তি রাজস্ব আহরণ সম্ভব হয়েছে।’ সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ