প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের আমলনামা পুলিশের হাতে

ভোরের কাগজ রিপোর্ট: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৩শ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের আমলনামা এখন পুলিশের হাতে। সারা দেশ থেকে সম্ভাব্যদের নাম, দলীয় পরিচয় এবং সাংগঠনিক ও জনগণের কাছে তাদের অবস্থান উল্লেখ রয়েছে এই তালিকায়। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বা ৪ দলীয় জোটের প্রার্থীরা কে কোন আসনে অংশ নিয়েছিলেন তাও উল্লেখ রয়েছে। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে পুলিশ সুপারদের বলা হয়েছে, যারা আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রচারণায় রয়েছেন তাদের সবাইকে সমান সুযোগ দিতে, কারো পক্ষ না নিতে। মনোনয়ন চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্যরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সরকারের হয়ে প্রচারণা চালাবেন, যা আগামী নির্বাচনে কাজে আসবে এমন বার্তা দেয়া হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি পদমর্যাদার একাধিক কর্মকর্তা মাঠ পুলিশের কর্মকাণ্ড সরাসরি তদারকি করছেন। তারা পুলিশকে আরো দায়িত্ববান ও গতিশীলভাবে কাজ করতে নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।

পুলিশের একাধিক সূত্রমতে, সব আসনের বর্তমান এমপিদের পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রার্থীদের নামের তালিকা রয়েছে পুলিশের কাছে। সাংসদদের নামের পাশের ঘরে নির্বাচনী এলাকায় তার সাংগঠনিক ও জনগণের কাছে অবস্থান উল্লেখ রয়েছে। সম্ভাব্য অন্য প্রার্থীদের নামের পাশের ঘরে উল্লেখ রয়েছে তাদের সাংগঠনিক অবস্থান এবং জনগণ তাদের কীভাবে দেখছে সেই তথ্য। তবে অধিকাংশ আসনে বর্তমান এমপিরা দলীয় কোন্দলে জড়িত- এমন তথ্য উঠে এসেছে মাঠ পুলিশের তৈরি করা এক প্রতিবেদনে।

সূত্র আরো জানায়, পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) ও জেলা বিশেষ শাখার (ডিএসবি) মাধ্যমে ৩শ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। বই আকারে বাঁধানো ওই তালিকায় রয়েছে সম্ভাব্যদের আমলনামা। আসনভিত্তিক তালিকায় স্থান পেয়েছে সহ¯্রাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম। তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত এক আসনে সর্বোচ্চ সাতজন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম পেয়েছে পুলিশ।

অন্য একটি সূত্রের দাবি, আগামী সংসদ নির্বাচনে পুলিশকে অনেকটা চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করতে হবে। ঝুঁকি নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি মাঠে চাপ সহ্য করে হলেও টিকে থাকতে হবে। বর্তমান সরকারের সময় পুলিশের জনবল, বেতন-ভাতা, রেশন, যানবাহনসহ সুযোগ সুবিধা বেড়েছে। আবাসনের সুযোগ ও ইউনিট বেড়েছে। গ্রেডও বাড়ানো হয়েছে। থ্রি নট থ্রি রাইফেলের বদলে হাতে দেয়া হয়েছে শর্টগান ও চাইনিজ রাইফেল। দেশ বিদেশে প্রশিক্ষণের সুযোগও বেড়েছে। আবার হরতাল অবরোধের নামে জ্বালাও পোড়াও আন্দোলনে নাশকতার সময় পুলিশও আক্রান্ত হয়েছে।

সার্বিক বিবেচনায় এরই মধ্যে মাঠ পুলিশের ছক সাজানোর কাজ শুরু হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত, জামায়াত, শিবির ও নাশকতায় জড়িতরা যাতে নির্বাচনে সুবিধা করতে না পারে সে জন্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী পুলিশ সদস্যদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে। ‘জার্সি বদল’ করেছেন এমন কর্মকর্তা ও সদস্যদের চিহ্নিত করে তাদের কম গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কাজ করতে দেয়া হচ্ছে। সব ইউনিটে নজরদারির মাধ্যমে ভোটের মাঠ প্রস্তুতের কাজ করছে পুলিশ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ