প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শরিক নিয়ে প্রার্থী জটিলতায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি

ডেস্ক রিপোর্ট : সাতক্ষীরা-১ আসনটি তালা ও কলারোয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত। দুটি উপজেলা, একটি পৌরসভা ও ২৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৬ হাজার ৩৪৭ জন। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এ আসনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নে শরিক দলকে নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে জটিলতা রয়েছে। তবে মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রত্যেক প্রার্থীই মাঠ পর্যায়ে নির্বাচন কেন্দ্রিক জোর তত্পরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

আঞ্চলিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ এ আসন থেকে ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়লাভ করে। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মোঃ হাবিবুল ইসলাম হাবিব ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি এবং ২০০১ সালে এমপি নির্বাচিত হন। এছাড়া ১৯৭৯ সালে আইডিএল, ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টি, ১৯৯১-তে জামায়াতে ইসলামী জয়লাভ করে। সর্বশেষ ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৪ দলের মনোনয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য ও জেলা সভাপতি অ্যাড. মুস্তফা লুত্ফুল্লাহ জয়লাভ করেন। এবারও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হবার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। কারণ, জোটগত নির্বাচনে এবারও ওয়ার্কার্স পার্টি যে ক’টি আসন ভাগে পাবে সেগুলোর মধ্যে প্রার্থী মনোনয়নে দলটিতে এগিয়ে আছেন বর্তমান এমপি অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুত্ফুল্লাহ। যে কারণে আসনটিতে প্রার্থী মনোনয়নে অস্বস্তিতে রয়েছে আওয়ামী লীগ।

এদিকে একক প্রার্থী নিয়ে বিএনপি সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও জামায়াত ছাড় দিতে চাইছে না জোটের প্রধান দলটিকে।
আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী অর্ধডজনেরও বেশি নেতা মাঠে রয়েছে। তারা হলেন— জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য প্রকৌশলী শেখ মুজিবুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ কামাল শুভ্র, তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ নূরুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক সরদার মুজিব, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহ-সম্পাদক মোঃ রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী অ্যাড. মোহাম্মদ হোসেন, সাবেক প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য শহীদ স,ম আলাউদ্দিনের মেয়ে জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লায়লা পারভিন সেঁজুতি, কলারোয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফিরোজ আহমেদ স্বপন ও জেলা কৃষকলীগ সভাপতি বিশ্বজিত সাধু।

মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন চান দলটির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ দিদার বখ্ত। এছাড়া মাঠে রয়েছেন জাসদের (ইনু) কেন্দ্রীয় নেতা ওবায়দুস সুলতান বাবলুও।
বিএনপির একক প্রার্থী জেলার সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব সাংগঠনিক তত্পরতা অব্যাহত রেখেছেন। যদিও একাধিক মামলার আসামি হওয়ায় তার নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে কিছুটা সংশয় রয়েছে। এদিকে জোটের অন্য শরীক জামায়াতও নিজস্ব প্রার্থী দিতে চায়। দলটির পক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ ইজ্জতউল্যাহ ২০ দলীয় জোটের প্রার্থিতা চান। যদিও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিবন্ধন না থাকায় জোট প্রধান বিএনপির ওপর নির্ভরশীল অথবা স্বতন্ত্র নির্বাচনের দিকে এগোতে হবে তাদের।

বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাড. মুস্তফা লুত্ফুল্লাহ বলেন, বিগত নির্বাচনের আগে বিএনপি-জামায়াত এলাকায় যে তাণ্ডব চালিয়েছে তা বন্ধ করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার মেয়াদকালে প্রতিশ্রুতির চেয়ে বেশি কাজ হয়েছে, তালা-কলারোয়াবাসীর জীবনমান উন্নত, সহজ ও আরামদায়ক হয়েছে। তাই আগামী নির্বাচনেও তিনি ১৪ দলের পক্ষে মনোনয়ন পাবেন বলে আশাবাদী এ জনপ্রতিনিধি।
আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রকৌশলী শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, ‘১৯৬২ সাল থেকেই আমি জনগণের রাজনীতি করছি। সংসদ সদস্য থাকাকালে তালা-কলারোয়ার পাশাপাশি সমগ্র সাতক্ষীরার উন্নয়নে আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। যার সুফল মানুষ এখনও ভোগ করছেন। এজন্য মনোনয়নের ব্যাপারে আমি বেশ আশাবাদী’।
বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে আমি নিশ্চিত মনোনয়ন পাবো এবং এ আসনে নির্বাচনে অংশ নেবো। জেলা জামায়াতের দফতর সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান জানান, দলীয় প্রার্থী হিসেবে অধ্যক্ষ ইজ্জতউল্লাহ মোটামুটি চূড়ান্ত।
সব মিলিয়ে সাতক্ষীরা-১ আসনের প্রার্থী মনোনয়ন ১৪ দল বা মহাজোটের জন্য যেমন কঠিন হবে, তেমনি জামায়াতের কারণে বিএনপিকেও চাপে পড়তে হবে। সূত্র : ইত্তেফাক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ