প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মগবাজারের বৈকালী হোটেল থেকে তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধার
হোটেলের রেজিস্টার খাতায় নাম ঠিকানা লিপিবদ্ধ ছাড়াই ভাড়া দেয় ম্যানেজার!

সুশান্ত সাহা : হোটেল ম্যানেজার নোমান সিদ্দিকের যোগসাজশে বাড়তি অর্থ দিয়ে মিথ্যা পরিচয়ে হেটেলে ওঠেন সুমন ও বৃষ্টি। ওঠার ৩ ঘন্টা পরে বৃষ্টির মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিজেরা বাঁচতে তরিঘড়ি করে রেজিস্টার খাতায় নাম ওঠায় ম্যানেজার। গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে ওই হোটেলে গিয়ে ম্যানেজার নোমান সিদ্দিককে পাওয়া যায়নি। এছাড়াও অবস্থানকরীর বৃত্তান্ত ফর্ম দেখাতে পারেনি হোটেল কর্তৃপক্ষ। তবে রেজিস্টার খাতায় নাম ঠিকানা থাকলেও তা যে লাশ উদ্ধারের পরে লেখা হয়েছে সেটি স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। সেখানে অন্য নামের ফাঁকা জায়গায় তার নাম ঠিকানা লেখা হয়েছে।

সহকরী ম্যানেজার রাজেশ দাশ জানান, তিনি ৩ বছর থেকে এ হোটেলে চাকুরী করছেন। হোটেল মালিক মিউজিক ডিরেক্টর অনিক ফয়সাল। ম্যানেজার নোমান সিদ্দিকের দাঁতে ব্যাথা তাই তিনি বাসায় রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই হেটেলে অসামাজিক কার্যকলাপ, প্রতারণার মাধ্যমে নগ্ন ছবি ধারণ, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও জুয়ার আসরসহ বিভিন্ন রকম অপরাধ সংঘটিত হয়। প্রশাসন কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই ব্যবসা চালাচ্ছেন হোটেল মালিক। ওই হোটেল থেকে পুলিশের নিয়মিত চাঁদা নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় রুবেল জানান, কলেজ-স্কুল পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীরা ও ভাসমান পতিতারা বৈকালী হোটেলে গিয়ে অবাধে যৌন কাজে লিপ্ত হয়। ২ ঘন্টায় হোটেলের রুম ভাড়া ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা নিয়ে থাকেন হোটেল ম্যানেজার।

এদিকে, প্রাথমিক তদন্তে ওই হেটেল কতৃপক্ষে গাফিলতি পেয়েছে পুলিশ। এরই মধ্যে হোটেলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ উদ্ধার করছে পুলিশ। এ ঘটনায় সোমবার রাতে সুমনসহ অজ্ঞাতনামা আসামী করে মৃত বৃষ্টির পিতা আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে রমনা থানায় মামলা করেছেন। পুলিশের ধারনা, বৃষ্টি ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে আত্মহত্যা কারণ জানতে পারেনি।

বৃষ্টির পরিবারের বরাত দিয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকতা মিজানুর রহমান জানান, ৫ থেকে বছর ধরে সুমন বৃষ্টির সাথে পরকীয়া রয়েছে । এ কারনে পরিবারিক ও স্থানীয়ভাবে বিচার সালিশ করা হয়। তারপরেও তাদের পরকীয়া বন্ধ হয়নি। এছাড়া বৃষ্টির আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে সুমন প্রায়ই বৃষ্টিকে বিভিন্ন হোটেলে নিয়ে যেতো।

মিজানুর রহমান আরো জানান, মিথ্যা পরিচয়ে হেটেলে ওঠেন সুমন ও বৃষ্টি। সুমনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তাকে আটক করতে পাড়লে আসল কারন জানা যাবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৃষ্টি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

লাশ উদ্ধারকারী রমনা থানার এসআই দিপংকর চন্দ্র দাস জানান, সকালে বৈকালী হোটেল ম্যানেজার নোমান সিদ্দিক এর মাধ্যমে খবর পেয়ে চার তলার ৪০৭ নম্বর কক্ষ থেকে খাটের উপর থেকে শোয়ানো অবস্থায় বৃষ্টির মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়। বৃষ্টির গলায় অর্ধ চন্দ্রাকৃতির দাগ আছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর কারন জানা যাবে।

তিনি আরো জানান, সুমন পলিয়ে গিয়ে তার স্ত্রীকে (বৃষ্টির বোন) ফোন করে জানান, ‘তোমার বোন মগবাজারের বৈকালী হোটেলে আছে। তার কি জানি হয়েছে, যাও তার খোঁজ নাও’।

বৃষ্টির খালাতো দুলাভাই মাসুদ বলেন, বৃষ্টির দুলাভাই সুমন তাকে নিয়ে হোটেলে ওঠে। সুমন বেসরকারি একটি টেলিভিশনেন গাড়ি চালক হিসেবে কাজ করেন। সুমনের গ্রমের বাড়ি ভোলায়। তিনি প্রায় আট বছর আগে বৃষ্টির বড় বোন হাসনা বেগমকে বিয়ে করেন। পরে তিনি আরো একটি মেয়েকে বিয়ে করেন। তার একাধিক মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে।

নিহতের খালা বানু বেগম জানান, সোমবার সকালে গার্মেন্টসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয় বৃষ্টি। খবর পেয়ে হোটেল গিয়ে লাশ দেখতে পান। তিনি আরো বলেন, আট বছর আগে বৃষ্টির মেঝ বোন হাসনা বেগমের সাথে সুমনের বিয়ে হয়। তার পরে থেকেই সুমন বৃষ্টির সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে যায়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক ডা. প্রদীপ বিশ্বাস জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা। তারপরও কিছু ল্যাবরেটরি টেস্ট করতে হবে।

উল্লেখ্য, সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মগবাজারের বৈকালী আবাসিক হোটেল হোটেলের চার তলার ৪০৭ নম্বর কক্ষ থেকে বৃষ্টি আক্তার (১৬) নামের এক তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি একজন পোশাক শ্রমিক। গোপালগঞ্জ জেলার মোকসেদপুর উপজেলার আনোয়ার হোসেনের মেয়ে বৃষ্টি। মহাখালী সাত তালা বস্তিতে পরিবারের সাথে ভাড়া থাকতেন। স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় চাকরী করতেন তিনি।

লাশ উদ্ধারের পর হোটেলে ম্যানেজার নোমান সিদ্দিক জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তারা রিয়াজ ও প্রিয়া নামে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ওঠেন। এর দুই ঘন্টা পর রুমের সামনে গিয়ে বাইরে থেকে সিটকিনি লাগানো দেখা যায়। পরে দরজা খুলে দেখা যায় ওই তরুনীর লাশ খাটের উপর পড়ে আছে। কিন্তু তার স্বামীকে পাওয়া যায়নি। পরে পুলিশে খবর দেয়া হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ