প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার বিপক্ষে গিয়ে তোপের মুখে ট্রাম্প

লিহান লিমা: ফিনল্যান্ডের হেলসিঙ্কির বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে ২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ বিষয়ক গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রত্যাখান করে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের মন্তব্যেই আস্থা রাখেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সিআইএ, এনএসএ, এফবিআই এবং ওডিএনআই এর তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখান করে রুশ প্রেসিডেন্টের মুখের কথার ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্টের আস্থা রাখার এমন ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে পেন্টাগন।

এফবিআইএর সুপারভাইসরি স্পেশাল এজেন্ট হিসেবে কাজ করা জোশ শ্যাম্পবেল বলেন, সারা বিশ্বজুড়ে থাকা এফবিআইএর ফিল্ড অফিস এবং সিআইএ স্টেশন এবং জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিটি সদস্যরা নিজ চোখে দেখল, টেলিভিশনে তাদের ‘কমান্ডার ইন চিফ’ তাদেরই কাজকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

এসোসিয়েট প্রেসের কূটনৈতিক লেখক ও বিশ্লেষক ম্যাথু লি ফক্স নিউজে লেখা কলামে বলেন, ‘ট্রাম্প ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ এর চেয়ে ‘মি ফার্স্ট’ নীতিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। বিদেশের মাটিতে তিনি নিজকে তুলে ধরেছেন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিচার বিভাগের ষড়যন্ত্রের শিকার হিসেবে।

চাক শুমার বলেন, ‘মার্কিন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা, প্রতিরক্ষা অফিস এবং মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে গিয়ে প্রেসিডেন্টের পুতিনের সঙ্গে এক হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টও এগুলোকে দুর্বল, চিন্তাশক্তিহীন এবং ভয়ঙ্কর বলে মত পোষণ করলেন।’

সাবেক এফবিআই ডিরেক্টর জেমস কমি বলেন, ‘এটি এমন একটি দিন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিদেশের মাটিতে বসে নিজের দেশকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করেছেন।’ সাবেক সিআইএ প্রধান জন ব্রেনান বলেন, ‘ট্রাম্পের মন্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহিতা ছাড়া আর কিছ’ই নয়। তিনি পুরোপুরিই পুতিনের পকেটের মধ্যে আছেন। রিপাবলিকানরা এখন কোথায়?’

ট্রাম্পের এই আচরণে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসে তাদের সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন কি না তা নিয়ে নানা মন্তব্য শোনা যাচ্ছে। গার্ডিয়ান জানায়, রিপাবলিকানরা ভবিষ্যত দিনগুলোর কথা চিন্তাকরে অবশ্যই পদক্ষেপ নিবেন। তবে ট্রাম্পের সমালোচনা করলেও এখন পর্যন্ত বেশিরভাগ রিপাবলিকানই প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রকাশ্য সংঘর্ষ এড়িয়ে যাওয়াই পছন্দ করছেন।

রিপাবলিকান উইলহুড বলেন, ‘আমি অনেক মানুষকে রুশ গোয়েন্দা সংস্থা দ্বারা প্রভাবিত হতে দেখেছি কিন্তু কখনো চিন্তাও করিটি যে একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট কেজিবির সাবেক এজেন্টের হাতের পুতুলে পরিণত হবেন।’ ট্রাম্পের মিত্র নিউট গিনগ্রিচ বলেন, এটি ভয়ঙ্কর ভুল, অচিরেই শুধরে নেয়া উচিত।’

ডোমেক্রেট টিম কেইনি বলেন, ‘বিশ্বকে নেতৃত্ব দেয়ার অবস্থান যদি আমাদের ধরে রাখতে হয় তবে এই কালো অধ্যায়ের ইতি টানতে হবে। মার্কিন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা এবং আমেরিকানদের সুরক্ষার স্বার্থে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে।’

পলিটিকো জানায়, ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাট্টিস, জাতীয় তদন্ত সংস্থার প্রধান ড্যান কোটস এবং জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক পরামর্শক জন বোল্টনের পদত্যাগের দাবি করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকও আইনপ্রণেতারা। সিনেটর ক্রিস মরফি বলেন, ‘আপনি যদি ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা টিমের একজন হয়ে থাকেন, তবে বলুন, ট্রাম্প রাশিয়ার প্রতি কতটা কঠোর? ন্যাটোর প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা কতটুকু? এবং আপনি কেন পদত্যাগ করবেন না?’ তিনি আরো বলেন, ‘যদি ড্যান কোটস পদত্যাগ না করেন তবে তিনি কোন সম্মানই পাবেন না।’

রিপাবলিকান সিনেটর জন ম্যাককেইন বলেন, আমার সারা জীবনে দেখা মার্কিন প্রেসিডেন্টের দ্বারা হওয়া জঘন্যতম ঘটনা এটি। হাউসের স্পিকার পল রায়ান বলেন, ‘রাশিয়া যে নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছে এতে কোন সন্দেহ নেই, ট্রাম্পের এটি বোঝা উচিত যে রাশিয়া আমাদের মিত্র নয়’।

আরিজোনার সিনেটর জেল ফ্লেক বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সুর মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকেই রুশ আগ্রাসনের জন্য দোষারোপ করছেন। এমন দিন দেখতে হবে কখনোই ভাবিনি, অত্যন্ত লজ্জাজনক।’ ট্রাম্পকে করনীতি এবং স্বাস্থ্যনীতি নিয়ে সাহায্য করা সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, ‘পুতিন তাকে যে ফুটবল উপহার দিয়েছেন আমি হলে এটি কখনোই হোয়াইট হাউসে প্রবেশের অনুমতি দিতাম না।’

হেলসিঙ্কিতে দুই ঘণ্টার একান্ত ও যৌথ বৈঠকের পর ট্রাম্প নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন, বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা রবার্ট মুলারের তদন্ত কার্যক্রমকে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘আমার তদন্ত সংস্থার ওপর বিশ্বাস রয়েছে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট পুতিন আজ কঠোরভাবে এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং তার কথায় সন্দেহ রাখার কোন অবকাশ নেই।’ ট্রাম্প আশঙ্কা করছেন, নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ তার প্রেসিডেন্সির বৈধতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলবে। যদিও ট্রাম্পের নির্বাচনে জয়ের আইনগত বৈধতা অক্ষ্মুণ রেখেই মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ সম্ভব। বৈঠকের পর এয়ার ফোর্স ওয়ানে করে ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়ার আগেই ট্রাম্পের এমন মন্তব্য নিয়ে শোরগোল পড়ে যায়। টুইটে ট্রাম্প বলেন, ‘অনেক আগেই বলেছি, আমার তদন্ত সংস্থার ওপর বিশ্বাস আছে। কিন্তু সেই সঙ্গে আমি ভবিষ্যত সম্পর্কের ওপর মনযোগে বিশ্বাসী, বিশ্বে^র দুই পরমাণু শক্তিধর দেশ হিসেবে আমাদের একসঙ্গে থাকা প্রয়োজন।’

নিউজহাবের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ট্রাম্প নিজেই নিজকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলে দিয়েছেন।’ জর্জ ডব্লিউ বুশের আমলে দায়িত্ব পালন করা হোয়াইট হাউসের চীফ অব স্টাফ বলেন, ‘যদি আপনার নিজের পরিবারের সঙ্গে দ্বন্দ্ব হয়ে থাকে, সেটা পরিবারেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত।’ হেলসিঙ্কিতে মস্কো-ওয়াশিংটন বিরুপ সম্পর্কের জন্যও ট্রাম্প দায়ী করেন আমেরিকানদের ‘বোকামী ও গাধামীপূর্ণ আচরণ’কে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ