প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আমানতের সুদহার নিয়ে তুঘলকি কাণ্ড

আদম মালেক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত আমানতের জন্য ৬ শতাংশ হারে সুদ দেয়ার নিয়ম মানছে না সব ব্যাংক। অনেক ব্যাংক নিজেদের মতো করেই সুদরহার বেঁধে দিয়েছে । কোনো কোনো ব্যাংক ৬ শতাংশের বেশী সুদ দিয়ে আমানত সংগ্রহ করছে আবার কারও কারও প্রদত্ত সুদ অর্ধেকের কাছাকাছি।এই তুঘলকি কান্ডে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ছে আর্থিক খাতে।

মতিঝিল ব্যাংক পাড়ায় ঘুরে দেখা গেছে, ইস্টার্ন ব্যাংকে তিন ও ছয় মাস মেয়াদি আমানতের সুদহার ৩.৫ শতাংশ। ১ বছরের জন্য ৪ শতাংশ। সাউথ ইস্ট ব্যাংকে ৩ মাস মেয়াদি আমানত সুদহার ৩.২৫ শতাংশ। এইচএসবিসি ব্যাংকে এই সুদহার ৩ মাস,৬ মাস ও ১ বছরের জন্য সুদহার ৩, ৩.৫ ও ৪.৫-৯ শতাংশ পর্যন্ত। এনআরবিসি ব্যাংকে ৩ মাস ৬ মাস ও ১ বছরের জন্য আমানত সুদহার যথাক্রমে ৬,৭.৫ ও ৮.৫ শতাংশ। শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকে ৩ মাসের জন্য ৬ শতাংশ, ৬ মাসের জন্য ৬.৫ শতাংশ। এনআরবি(গ্লোবাল) ব্যাংকের ১ মাস, ৩ মাস, ৬ মাস ও ১ বছরের জন্য আমানতের সুদহার যথাক্রমে ৫.৫, ৬,৮ ও ৮.৫ শতাংশ। ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকে এই সুদহার ৪ মাসের জন্য ৫.২৫-৫.৭৫ শতাংশ। ৯১ দিনের জন্য ৫.২৫ থেকে ৬ শতাংশ পর্যন্ত।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. জামালউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমানতের সুদহার নির্ভর করে গ্রাহক ও ব্যাংকের সম্পর্কের ওপর। সব ব্যাংকের ৬ শতাংশ হারে আমানত সংগ্রহের সুযোগ নেই। যে সব ব্যাংকে পর্যাপ্ত তারল্য আছে সেগুলো আমানতের জন্য বেশি সুদ দেয় না আর যেসব প্রতিষ্ঠানের তারল্য সংকট সেগুলোকে চড়া সুদে আমানত সংগ্রহ করতে হয়। এ কারণে আমানত সুদহারে ব্যবধান দেখা দেয়।

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে,যেসব আমানতের মেয়াদ শেষ হচ্ছে, আগের মতো সুদ না পাওয়ায় তা তুলে নিচ্ছেন গ্রাহকেরা। এমনকি সরকারি ব্যাংকও বেসরকারি ব্যাংক থেকে টাকা তুলে ফেলছে। ফলে আমানত নিয়ে গোটা ব্যাংক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে আমানতের সুদহার ৬ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনায় বিপাকে পড়ছেন সুদের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিরা। এত কম সুদে ব্যাংকগুলোও এখন আমানত পাচ্ছে না।

বেশি সুদ না পেয়ে বেসরকারি খাতের আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক থেকে ১৭০ কোটি টাকা আমানত তুলে নিয়েছে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক। মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন করে ৬-৭ শতাংশ সুদ দিতে চায় আল-আরাফাহ্ ব্যাংক, আগে যা ছিল ১০ শতাংশের কাছাকাছি। তবে অন্য কয়েকটি ব্যাংক এ আমানত প্রায় ১০ শতাংশ সুদ দিয়ে নিয়ে গেছে।

আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিবুর রহমান এ নিয়ে বলেন, ‘বেশি সুদ না দেওয়ায় ব্যাংকটি আমানত তুলে নিয়েছে। এত কম সুদে নতুন আমানতও পাওয়া যাচ্ছে না। এ জন্য সমস্যার মধ্যে পড়ে গেছি।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ