প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জটিল সমীকরণে জাতীয় ঐক্য

শাহানুজ্জামান টিটু : বিএনপির উদ্যোগে জাতীয় ঐক্য গড়ার প্রক্রিয়া বেশ কিছু শর্তের বেড়াজালে আটকে গেছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য জাতীয় ঐক্যের প্লাটফর্মে আসা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আসনভাগাভাগি, আন্দোলন কর্মসূচি প্রনয়ন, জামায়াতের অবস্থান, ঐক্যের নেতৃত্বসহ বেশ কিছু বিষয় এখনো অ-মিমাংসিত রয়েছে। ফলে সহসা হচ্ছে না জাতীয় ঐক্য।

ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক নেতা জানান, বিএনপির অতি উৎসাহি আগ্রহের কারণে কয়েকটি রাজনৈতিক দল এখন দরকষাকষিতে ব্যস্ত। ইতিমধ্যে বিকল্প ধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে জাতীয় নির্বাচনে ১৫০ সিট দাবি করেছেন। তারা যে এতো আসন দাবি করলেন তারা এতো প্রার্থী পাবেন কোথায়? এছাড়া জাতীয় ঐক্য যেন না এজন্য সরকারের ষড়যন্ত্র তো আছে। সব কিছু মিলিয়ে বলা যায় ঐক্য প্রক্রিয়া প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, আলোচনা চলছে। ধাপে ধাপে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসবে।

তিনি বলেন, আগষ্টের শেষ অথবা সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় ঐক্যের প্লাটফর্ম ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে কেবল রাজনৈতিক দল না, দেশের বেশকিছু বিশিষ্টজন যোগ দেবেন। ফলে সরকার বিরোধী দল ও মতের মানুষের জন্য এটা হবে সবচেয়ে বড় প্লাটফর্ম।

জানতে চাইলে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ বলেন, এখনো বলার মত কোনো অগ্রগতি হয়েছে বলে আমি জানি না। তবে ঐক্য প্রক্রিয়া একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে। আগামী মাসের দিকে কিছুটা হয়ত প্রকাশ্যে আসবে। ১৫০ আসন চাওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দাবি করতে পারেন এটা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে দেখতে হবে সেটা কতটা যুক্তিসংগত ও গ্রহণযোগ্য। তিনি বলেন, আশা করছি ঐক্য হবে।

আসন দাবির বিষয়ে বিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি. চৌধুরী নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে ১৫০ আসনের বিষয় না। আমি বলেছি যাতে ক্ষমতার ভারসাম্য থাকে, যাতে করে কেউ একক ভাবে সরকার গঠন করতে না পারে সেদিকে আমাদের নজর রাখা উচিত। তাতে ক্ষমতার ভারসাম্য থাকে না। আমি বলেছি কারোই ১৫০ আসন পাওয়া উচিত না। কারোই একক ভাবে ১৫১ আসন পেয়ে এককভাবে সরকার গঠন করা উচিত না। তাহলে দেশে ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হয়।
২০দলীয় জোটের শরীক লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, জাতীয় ঐক্য হোক এটা আমরা জোটগতভাবে চাই। এই সরকারের জুলুম নির্যাতনের বিরুদ্ধে, এবং দেশে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমুলক নির্বাচনের স্বার্থের সবদল যদি ঐক্যবদ্ধ হয় তাহলে সরকার নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে নির্বাচন দিতে বাধ্য হবে।

জাতীয় ঐক্য, পাশ^বর্তি দেশ ও আর্ন্তজাতিক পযার্য়ে জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগে বিএনপির ওপর চাপ থাকলেও এখনই এ বিষয়ে বিএনপি কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না। যদিও জামায়াতকে নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে বিএনপিকে অস্বস্তি থাকতে হচ্ছে। তবে ভোট রাজনীতিতে জামায়েতের একটা অবস্থান রয়েছে। যা ২০দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যে আসা দলগুলোর নেই। সব মিলিয়ে এখনই জামায়াতকে না বলবে না বিএনপি। আবার জামায়াতও নিজে থেকে জোটে থেকে বের হবে না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ