প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

একজন তসলিমার বিখ্যাত হওয়া এবং ব্যবহৃত আমি

ফেসবুক পোস্ট : ঘটনা ১৯৯২ সালের বইমেলা। সাপ্তাহিক প্রিয় প্রজন্মের একটা স্টল ছিলো। আড্ডা ছিলো আজকের অনেক বিখ্যাত লোকদের। বয়রাতলা না কয়রা তলায় জানি। হঠাৎ এক বিকেলে এক দল টুপিধারী লোক মিছিল বের করলো তসলিমা নাসরিনের বইসব মেলা থেকে সরাতে হবে। আমি ফজলুর রহমান, আনিস আলমগীরসহ অনেকেই বিস্মিত এই ভেবে যে, এরা বাংলা একাডেমির বই মেলাতে ঢুকে পড়লো? বিষয়টা সহ্য হলো না। রক্ত গরম। আবেগ বেশি। আমরা তিনজনেই মিছিলের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। আমি ও আনিস ভাই এক হুংকার দিলাম-ধর শালার জামাতিদের। ব্যাস, মাত্র তিন চারজনের ধাওয়া খেয়ে ওদের সেইরকম দৌড়। ব্যানারটা আমাদের হাতে ছিলো। পুড়িয়ে ফেলতে চাইলাম। আসলাম সানি কোনোমতে পোড়াতে দিলেন না। ওরা সব ভাগলো। বিজয়ীর তৃপ্তি নিয়ে আমরা আবার আড্ডায়। বেশ হাসাহাসি করলাম, শালাদের দাবড়ানি দিতে পেরে। তো আড্ডা ঘোরা ফেরা শেষে। স্টল গোটানোর সময় এসে পড়লো। রাত তখন কটা? সাতটা কী আটটা। হঠাৎ দেখি একদল সশস্ত্র যুবক আসছে আমাদের দিকে। ফজলু বেশ দূরে, আনিস আলমগীর লম্বা হওয়াতে তাকেই ওরা প্রথমে জিজ্ঞেস করলো, মিছিলে হামলা চালিয়েছে কে? তার উত্তর দেয়ার আগে বেকুব সাহসী আমি ভাবলাম এরা যদি শিবির হয় এত সাহস পায় কই? আমি এগিয়েে গিয়ে বললাম, আমি চালিয়েছি। কী করবি করতো দেখি? বলা শেষ হওয়া মাত্র আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো তারা। হঠাৎ কোথা থেকে কবি নুরুল হুদা ও ডাকসুর সাহিত্য সম্পাদক ইস্তেকবাল হোসেন এসে, একজন পেছনে একজন সামনে দাঁড়িয়ে আমাকে ব্যারিকেডের মত ঘিরে রাখলো। এবং ওরা আমাকে আর স্পর্শ করতে না পারলেও ক্রমাগত কিল ঘুষি লাথি মারা প্রয়াস চলছে। অনেক কষ্টে হুদা ভাই ও ইস্তেকবাল ভাই ওদের ফেরালো। দুজনেই কিন্তু আঘাত প্রাপ্ত হয়েছিলেন। ওরা মারাত্মক অস্ত্র বের করে ফেললো। এর মধ্যে পুলিশ চলে এলো। আমাকে গার্ড দিয়ে একাডেমির ডিজির রুমে নেয়া হলো। ভেতরে গিয়ে দেখি মহারানী তসলিমা নাসরিন মুচকি হাসছেন। আমার দিকে তাকিয়ে বললেন,ও আপনি নাকি? এরপর পুলিশ প্রহরায় মেলা প্রাঙ্গণ ত্যাগ করলাম।

পুনশ্চঃ অনেক পরে শুনলাম আমিনী সাহেবকে টাকা দিয়ে বেগম তসলিমা নাসরিন পুরান ঢাকার মাদ্রাসা থেকে এই ছেলেগুলো ভাড়া ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিবির দিয়ে মিছিল করিয়েছেন বিতর্কিত হতে। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে বন্ধুর রুমে আমি মাঝে মাঝে রাত কাটাতাম আমার সেই বিখ্যাত বন্ধু জাসদ ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। তাকে বোঝানো হয়েছে মেলায় ছাত্রলীগ হামলা করেছে তাদের উপর। তাই অস্ত্র দরকার। তিনিও দিয়ে দিলেন তার অজান্তে বন্ধু হত্যার মিশনে। সেই বন্ধু বিখ্যাত সাংবাদিক মীর মাসরুর জামান রনি। এর পরে সাংবাদিক আলতাফ পারভেজAltaf Parvez আমার কাছে কলকাতার সুকুমারী ভট্টাচার্যের একটি বই আনেন যেটার হবহু নকল ছিলো তসলিমার নির্বাচিত কলাম বইটি। আমরা তমলিমার সাক্ষাৎকার নেয়ার একটা উদ্যোগ নিলাম এই বিষয়টা নিয়ে। ওনার মালিবাগের বাসায় গেলাম। আলতাফ ভাই বিনয়ী ভদ্র ভাষায় তাকে বললেন। তিনি আমাদেরকে দাঁড়িয়ে রেখে জিজ্ঞেস করলেন,বিষয় কী?আলতাফ একটু কৌশলী হয়ে শুধু সুকুমারীর নামটা বলে দিলেন। উনি মুখটা গম্ভীর করে বললেন, আমি এখন ব্যস্ত। পরে আসুন। আর কোনো কথা না বাড়িয়ে দরোজার দিকে এগিয়ে এলেন। মানে চলে যান। অগত্যা চলে আসি।সেই সাক্ষাতকার আর নেইনি।
বাংলাদেশের জাতীয় লেখককূলের বিখ্যাত হওয়ার নানাবিধ কৌশল আর উদগ্র বাসনার আরো গল্প আছে। আমিতো যে কেবল দর্শক ছিলাম।

(বিশিষ্ট সাংবাদিক রাহমান রোকনের ফেসবুকের টাইমলাইন থেকে নেয়া ) নিচে তার ফেসবুক পোস্টের লিংকটি সংযুক্ত করা হয়েছে………………….

উপরোক্ত পোস্টের আলোকে সাংবাদিক আনিস আলমগীরের মন্তব্য কেমন ছিল দেখুন……

তসলিমা নাসরিনকে নিয়ে একটি বানোয়াট বীরত্ব কাহিনী লিখেছে সাংবাদিক রোকন রহমান। আমিও সেখানে জড়িত। আমার কথা লিখেছে। আমি তার পোস্টে আমার কমেন্ট দিলে সে তা ফেলে দেয়। শুধু তাই নয়, আমাকে ব্লক করে যাতে কমেন্ট না করতে পারি। ইনবক্স কদিন আগে লেখাটা সে আমাকে দেখালে আমি প্রতিবাদ করি। বললো ঠিক আছে প্রকাশ করবে না। লোকজনের অন্যকে জড়িয়ে বিখ্যাত হওয়ার প্রচেষ্টা দেখে হাসি পায়। কি আর করা। আমাদের কমন বন্ধুদের জন্য আমার মন্তব্যটা আবারও দিচ্ছি। কারণ এই ঘটনায় আমার, তসলিমা নাসরিনের মত প্রকাশের অধিকার আছে যেহেতু সে আমাদের নাম নিয়েছে। কিন্তু বুঝাবে কে!
………………………………
বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণাই অন্যরা চিনতাই করে আর আমার পিটানোর কাহিনীকে অবলিলায় তুমি নিজের বীরত্ব কাহিনী বানোনোতে আশ্চর্য হইনি। আবারও বলছি মিছিল, মারামারি অংশটুকু অনেকটাই বানোয়াট, আত্মপ্রচার।
তারকালোক পত্রিকায় কাওসার মাহমুদ সে কাহিনী তুলে ধরে ছিল সামান্য। যদিও কোনও পত্রিকায় যাতে আমার নাম না আসে সেই সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের অনুরোধ করেছিলাম আমি।
যাক তসলিমা নাসরিনকে ঘিরে অনেকে বিখ্যাত হতে চায় তোমারইবা দোষ কি? গুলি যারা মারতে এসছিল তারা কেউ এই কাহিনী শুনে হাসবে। হাসবে ইশতেকবালও। আমি এই কাহিনী প্রসঙ্গক্রমে লিখবো আরেক দিন, তসলিমা নাসরিনকে নিয়ে নয়, পাবলিকের চরিত্র বুঝানোর জন্য। এটি আমার জীবনে চোখ খুলে দেওয়া একটি ঘটনা।

…………………………………………
নিচে রোকনের বানোয়াট কাহিনী: এতো বানোয়াট যে যারা আমাকে মারার জন্য এসেছে তারা নাকি আমাকে আবার প্রশ্ন করেছে, মিছিলে হামলা করেছে কে? যেন তারা আমাকে চিনে না। আমাকে বাঁচাতে মার খেয়েছে ফজলু, ব্যানারটা আমার থেকে নিয়েছে সানী ভাই। আর তাকে নাকি ব্যবহার করেছে তসলিমা। হাহাহা।

একজন তসলিমার বিখ্যাত হওয়া এবং ব্যবহৃত আমি##########################################ঘটনা ১৯৯২ সালের বইমেলা। সাপ্তাহিক…

Posted by Rahman Rokon on Monday, July 16, 2018

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত