প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে অগ্রগতি চায় যুক্তরাজ্য

কালের কণ্ঠ রিপোর্ট: অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশে অগ্রগতির ওপর জোর দিচ্ছে যুক্তরাজ্য। গতকাল সোমবার রাতে লন্ডনে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ দপ্তর প্রকাশিত এ বছরের বার্ষিক মানবাধিকার ও গণতন্ত্রবিষয়ক প্রতিবেদনের বাংলাদেশ অংশে এ কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনের শেষাংশে বাংলাদেশে এ বছরে যুক্তরাজ্যের অগ্রাধিকার হিসেবে রোহিঙ্গা ইস্যু, লৈঙ্গিক সমতায় অগ্রগতি, কন্যাশিশুর পড়ালেখা, আধুনিক দাসত্ব মোকাবেলায় কাজ করার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যা মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকারকে চাপ দেওয়ার কথাও রয়েছে ওই প্রতিবেদনে। মত প্রকাশসহ অন্যান্য গণতান্ত্রিক স্বাধীনতাকে সমর্থন এবং দীর্ঘমেয়াদে এ দেশে অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের ব্যাপারেও যুক্তরাজ্য জোর দেবে।

এ বছর যুক্তরাজ্যের প্রতিবেদনের প্রচ্ছদে স্থান পেয়েছে একটি রোহিঙ্গা শিশু ও রোহিঙ্গা মা। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের মানবাধিকারবিষয়ক মন্ত্রী লর্ড আহমেদ গতকাল ব্রিটিশ পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ দপ্তরে ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে মানবাধিকার পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। বিরোধী দল, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের ওপর সরকারের চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘সরকারি এজেন্সিগুলোর’ গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও নির্যাতন অব্যাহত থাকার বিশ্বাসযোগ্য তথ্য রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। মৃত্যুদণ্ড ব্যবস্থা বিলোপের উদ্যোগেও বাংলাদেশের কোনো অগ্রগতি নেই।

বড় ধরনের কোনো সন্ত্রাসী হামলা না হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধর্মীয় বৈচিত্র্যের ওপর গুরুত্বারোপের লক্ষ্যে পোপ ফ্রান্সিসের গত বছরের বাংলাদেশ সফর সফল হয়েছে। গত বছরের আগস্ট থেকে ছয় লাখ ৮৮ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় ও সহায়তা দেওয়ায় যুক্তরাজ্য সরকার বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের প্রশংসা করছে।

প্রতিবেদনে গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের বরাত দিয়ে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যা অব্যাহত থাকার কথা বলা হয়েছে। নিরাপত্তা হেফাজতে নির্যাতন কমানোর ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। গত বছর ২৫৩টি মৃত্যুদণ্ডাদেশ এবং ছয়টি কার্যকর করার তথ্য জানা যায়। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে মামলা দেওয়ার অভিযোগ করে আসছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সাংবিধানিক একটি মামলা নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে গত নভেম্বর মাসে চাপের মুখে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদত্যাগ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে। বিচারব্যবস্থা থেকে দুর্নীতি দূর করার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।’

যুক্তরাজ্যের প্রতিবেদনে ২০১৭ সালে বৈশ্বিক গণমাধ্যম স্বাধীনতায় বাংলাদেশের দুই ধাপ অবনতির তথ্য তুলে ধরা হয়। সরকার ৫৭ ধারা বিলোপ করে যে আইনের প্রস্তাব করেছে তা নিয়েও মানবাধিকার কর্মীদের উদ্বেগের কথা স্থান পেয়েছে ওই প্রতিবেদনে।

এ দেশে নারী ও কন্যাশিশুদের ওপর সহিংসতার উচ্চহারের কথা উল্লেখ করে ব্রিটিশ সরকারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৮০ ভাগেরও বেশি বাংলাদেশি নারী ও কন্যাশিশু স্বামী বা সঙ্গীর দ্বারা শারীরিক, মানসিক, যৌন বা আর্থিকভাবে নিপীড়নের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছে। রোহিঙ্গা শিবিরে নারীরা বড় ধরনের ঝুঁকিতে আছে। তাদের অনেকেই মিয়ানমারে বর্বর নিপীড়নের শিকার হয়েছে। যুক্তরাজ্য তাদের সহায়তার জন্য জাতিসংঘ ও অন্য সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করবে।

যুক্তরাজ্যের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে মিয়ানমারে মানবাধিকার পরিস্থিতির বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। সেখানে জাতিগত নিধনযজ্ঞ, ধর্মীয় ও অন্যান্য স্বাধীনতায় বিধি নিষেধে যুক্তরাজ্য অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।

-খবরটি কালের কণ্ঠ থেকে সংগ্রহীত।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ