প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সম্পত্তির লোভেই চট্টগ্রামে মা-মেয়ে খুন!

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে মা মেয়ে জোড়াখুনের রহস্য উদঘাটনে নানাদিক বিবেচনায় রাখলেও মূলত সম্পত্তির লোভকেই গুরুত্ব দিচ্ছে পুলিশ। পেশাদার খুনীরাই এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে পুলিশ মোটামুটি নিশ্চিত। তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, শুধু চুরি-ডাকাতির জন্য এলে হত্যা করে লাশ পানির ট্যাংকে ফেলে দিত না। খুনীরা মেহেরুন্নেসার ব্যবহূত দু’টি মোবাইল সেট নিয়ে গেছে কিন্তু সেগুলোর সিম নেয়নি। সিম নিয়ে গেলে সহজে ধরা পড়ার ভয় আছে। এটা পেশাদার অপরাধী ছাড়া আর কারও মাথায় আসবে না। কিলিং মিশনে মা-মেয়ের পরিচিতজন থাকতে পারে। বাসায় দু‘টি গেট আছে। একটি মেইন গেট, আরেকটি ছাদে যাওয়ার গেট, যেটি দিয়ে ঢুকে ছাদ থেকে সিঁড়ি দিয়ে নিচে বাসার ভেতরে আসা যায়। ঘটনার পর পুলিশ মেইন গেটটি বন্ধ পেলেও ছাদেরটি খোলা ছিল। যদি চুরি-ডাকাতির জন্য অপরাধীরা বাসায় ঢুকত, তাহলে মেইন গেট ব্যবহার করত। চলে যাওয়ার পর মেইন গেট খোলা থাকত।

জানা গেছে, বাড়ি তৈরির সময়ই মেহেরুন্নেসা স্থানীয় প্রভাবশালী মহল থেকে হুমকি পেয়েছিলেন। এরপর থেকেই তিনি বাড়িটি বিক্রয় করে দেয়ার পরিকল্পনা করেন। তবে ঝামেলা এড়ানোর জন্য স্থানীয় প্রভাবশালীদের এড়িয়ে গোপনে বাড়ি বিক্রয় করতে চাওয়ায় একটি মহল তার ওপর নাখোশ ছিল। এছাড়া বাড়ির আশেপাশের পাড়াপ্রতিবেশীদের সাথেও মা মেয়ের তেমন যোগাযোগ ছিল না।

এদিকে, ঘটনার দু‘দিন পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারছে না পুলিশ। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আব্দুল ওয়ারিশ বলেন, অনেককেই আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। কিন্তু খুনের কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু বলার সময় আসেনি। তবে নানা কারণ থাকতে পারে।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (উত্তর) মো. কামরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, পরিচিত কিংবা অপরাধী যারাই করুক, খুব ঠান্ডা মাথায় মা ও মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। সেজন্য সম্পত্তির ওপর লোভের বিষয়টিকে তদন্তে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মেহেরুন্নেসার দুই বোনের দুই ছেলেসহ তিনজনকে আটক করেছে।

মনোয়ারা বেগমের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে গত রবিবার রাতে খুলশী থানায় মামলা করেন। সূত্র: ইত্তেফাক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত