প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শ্রমিকপক্ষ ১২হাজার, মালিকপক্ষ ৬হাজার
অনিশ্চিত পোশাক শ্রমিকের নূন্যতম মজুরি

স্বপ্না চক্রবর্তী : পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য ১২হাজার ২০টাকা নি¤œতম মজুরি নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা। অপরদিকে মালিকপক্ষ প্রস্তাব করেছেন ৬হাজার ৩৬০টাকা। দেশের অর্থনীতির বর্তমান মূল্যস্ফীতি বিবেচনা করে এই মজুরি নির্ধারিত হয়েছে বলে দাবি করছেন মালিকপক্ষ। এতে করে দীর্ঘদিন ধরে ন্যুনতম মজুরির দাবিতে চলে আসা আন্দোলনের ফলাফল নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অনিশ্চিয়তা।

সোমবার ন্যূনতম মজুরি কমিশনের তৃতীয় বৈঠকে মালিকদের পক্ষে বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান শ্রমিকদের মজুরি ৬হাজার ৩৬০টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেন। ন্যূনতম মজুরি কমিশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ আমিনুল ইসলামের উপস্থিতিতে সভায় মো. সিদ্দিকুর রহমান বরেন, শ্রমিকদের বেতন নির্ধারণের জন্য ১১টি বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে। ন্যূনতম ৭তম গ্রেডের জন্য আমরা এ পরিমান বেতনের প্রস্তাব করেছি। পরবর্তীতে অন্যান্য গ্রেডের বেতন ক্রমান্বয়ে বাড়ানো হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শ্রমিকদের পক্ষ থেকে পোশাক শ্রমিকদের সর্বনি¤œ মজুরি ১২হাজার ২০টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব তুলে ধরেন শ্রমিক নেতা বেগম শামসুন্নাহার ভূঁইয়া। তিনি বলেন, বর্তমানে পোশাকশ্রমিকদের নি¤œতম মজুরি আছে ৫ হাজার ৩০০ টাকা। কোনোও কোনোও সংগঠন ১৮হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের প্রস্তাব করলে আমরা সব পোশাক শ্রমিকের যোগ্যতা একরকম নয় বিবেচনা করে ন্যূনতম মজুরির প্রস্তাবনা তৈরি করেছি।

রাজধানির তোপখানা রোডে নি¤œতম মজুরি বোর্ডের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় শ্রমিকপক্ষের প্রস্তাবিত ১২হাজার ২০টাকার মোট মজুরির মধ্যে মূল মজুরি ৭হাজার ৫০টাকা, মূল মজুরির ৪০শতাংশ হিসেবে বাড়ি ভাড়া ২হাজার ৮২০টাকা, চিকিৎসা ভাতা ১হাজার টাকা, যাতায়াত ভাতা ৫০০টাকা এবং টিফিন ভাতা ৬৫০টাকা আছে। এছাড়া ৬নম্বর গ্রেডে ৭হাজার ৭০০টাকা, ৫নম্বর গ্রেডে ৮হাজার ৪০০টাকা, ৪নম্বর গ্রেডে ৯হাজার ১৫০, ৩নম্বর গ্রেডে ১০হাজার টাকা, ২নম্বর গ্রেডে ১১হাজার টাকা এবং ১নম্বর গ্রেডে ১৩হাজার ৫০০টাকা প্রস্তাব করেন শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা।

অন্যদিকে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি পোশাক শ্রমিকদের জন্য সর্বনিম্ন মজুরি ৬ হাজার ৩৬০ টাকা প্রস্তাব করেন। এর মধ্যে মূল মজুরি ৩ হাজার ৬০০ টাকা, মূল মজুরির ৪০ শতাংশ হারে বাসা ভাড়া ১ হাজার ৪৪০ টাকা, চিকিৎসা ভাতা ৩০০ টাকা, যাতায়াত ভাতা ২৪০ টাকা এবং খাদ্য ভাতা ৭৮০ টাকা। সব মিলিয়ে বর্তমানের চেয়ে ২০ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে মালিকপক্ষ। তারা ৬ নম্বর গ্রেডের জন্য ৬ হাজার ৭৫২ টাকা ৫ নম্বর গ্রেডের জন্য ৭ হাজার ১৭৬ টাকা, ৪ নম্বর গ্রেডের জন্য ৭ হাজার ৬০৪ টাকা, ৩ নম্বর গ্রেডের জন্য ৭ হাজার ৯৮৩ টাকা প্রস্তাব করেছে।

তবে ১ এবং ২ নম্বর গ্রেডের জন্য কোনো মজুরি প্রস্তাব করেনি মালিকপক্ষ। এই প্রস্তাবনার প্রেক্ষিতে মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ আমিনুল ইসলাম বলেন, উভয় পক্ষের প্রস্তাব নিয়ে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে খুব শিগগিরই আমরা মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম শেষ করব। তবে গতকাল রোববার মজুরি বোর্ডের মেয়াদ তিন মাস বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত বাংলাদেশ ২০১৩সালে পোশাক খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩হাজার ২০০টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫হাজার ৩০০টাকা নির্ধারণ করা হয়। ১৯৮৫সালে এ খাতে ন্যূনতম মজুরি ছিল ৫৪২টাকা। কয়েক দফা বাড়ানোর পর সর্বশেষ ২০১৩সালে মজুরি বাড়ানো হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত