প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বিশ্বকে মিয়ানমারের উপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত’

আশিক রহমান : মিয়ানমারের উপরে দুইভাবে চাপ সৃষ্টি করলে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান সম্ভব। এক. যেভাবে উত্তর কোয়িার উপরে আমেরিকা যেভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল যে, সেখানে রেমিটেন্স যাবে না, অর্থনৈতিক কোনো সম্ভাবনাকে কার্যকর করতে দেওয়া হবে না। ঠিক একবইভাবে যদি বিশ্ব মিয়ানমারের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যে সেখানে কোনো বিনিয়োগ হবে না, মিয়ানমারের সঙ্গে কোনো অর্থনৈতিক লেনদেন হবে না। যদিও বিশ্বব্যাংক ইতোমধ্যেই তাদের বেশকিছু প্রজেক্ট স্থগিত করেছে। বিশ্ব যদি মিয়ানমারের উপর এসব প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাহলে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের একটা সম্ভাবনা দেখা দেবে। এমন মন্তব্য করেছেন সাবেক রাষ্ট্রদূত ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক মোহাম্মদ জমির।

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব করছি, কিন্তু বিশ্ব যতটুকু সম্ভব তা করছে না। ডোনাল্ড ট্রাম্প, জাস্টিন ট্রডোরা এখন বিভিন্ন মিটিং নিয়ে ব্যস্ত। তারা এই ইস্যুতে সময় দিলে, আন্তরিক হলে ইতিবাচক কিছু সম্ভব। খুব সম্ভব আগস্ট বা সেপ্টেম্বরের মধ্যে একটা অগ্রগতি দেখা যেতে পারে রোহিঙ্গা সংকটের, তার আগে কিছুই হবে না।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ মানবাধিকারে বিশ্বাস করে বলেই মানবিক কারণে, যারা রাখাইন প্রদেশ থেকে অত্যাচারিত হয়ে এখানে অনুপ্রবেশ করেছে কোনোরকম দ্বিধা ছাড়াই। এর বিপরীতে আমরা দেখতে পাচ্ছি, অভিবাসনের প্রয়োজনে যারা উন্নত দেশগুলোতে ঢোকার চেষ্টা করছে, সেটা তারা করতে পারছে না। মুখের উপর দ্বার বন্ধ করে দিচ্ছে।সেক্ষেত্রে জাতিসংঘ মহাসচিব যথার্থই বলেছেন, বাংলাদেশ তার হৃদয় খুলে দিয়েছে। ভালোবেসে, মমতা দিয়েই রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বকে তার মূল্য বোঝা উচিত। এবং রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে এগিয়ে আসা উচিত।

এক প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ জমির জমির বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিব সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করে গেছেন। বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট, রেডক্রস চেয়ারম্যান ও জাতিসংঘরে শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার প্রধান, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরাও ঘুরে গেছেন। তারা এসেছিলেন, ঘুরে দেখেছেন সবকিছু। বলেও গেছেন অনেককিছু। ইউএনএইচসিআর-এর সঙ্গে একটা চুক্তিও ইতোমধ্যে সম্পাদন করেছে মিয়ানমার। কিছুদিন আগে মিয়ানমারের পুলিশ প্রধানও এসেছিলেন বাংলাদেশে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকও করেছেন। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সেখানে মিয়ানমারের এক মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনাও করেছেন রোহিঙ্গা সংকট নিরসন নিয়ে। কিন্তু সার্বিকভাবে বললে, যা কিছুই হচ্ছে তা অনেকটা কালক্ষেপণের প্রক্রিয়া।

তিনি আরও বলেন, যতটা সম্ভব বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে সহযোগিতায় বিশ্বাবসাীর দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছি আমরা। ঘটনা প্রবাহ তুলে ধরছি। যেসব চ্যালেঞ্জ আমাদের পক্ষে অতিক্রম করা সম্ভব হচ্ছে না, তখনই বিশ্বকে বলছি, আমাদেরকে সহযোগিতায় এগিয়ে আসুন। মিয়ানমারকে চাপ দিন যেন তারা তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেয়। এখনো বলছি, রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ান। তাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসুন। কারণ রোহিঙ্গা সমস্যা বাংলাদেশের নয়, পুরো বিশ্বের। বিশ্বকে তার দায়িত্ব পালন করা উচিত।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত