প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আস্থা সংকট কাটছে না ব্যাংকিং খাতে

আদম মালেক : হলমার্ক, বিসমিল্লাহ গ্রুপ, বেসিক ব্যাংক, জনতা ব্যাংক ফারমার্স ব্যাংক কেলেঙ্কারীসহ নানা অনিয়ম দুর্নীতির কারণে আস্থাসংকটে পড়েছে ব্যাংকিংখাত। কোনো চেষ্টা তদবিরেই এ সংকট কাটিয়ে ওঠছে না ব্যাংকগুলো। ক্রমেই অসহযোগিতার মুখে পড়ছে ব্যাংকিংখাত। ফারমার্স ব্যাংক কেলেংকারীতে সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানত প্রত্যাহার হচ্ছে নতুন ব্যাংক থেকে। সাধারণ আমানতকারীরা এখনও আগের মতো নতুন ব্যাংকে আমানত রাখতে ভরসা পাচ্ছে না। এদিকে রাষ্ট্রায়াত্ত্ব ব্যাংকের মুলধন ঘাটতি পূরণে সরকারী বরাদ্দও বন্ধ হতে চলছে।

মূলধন ঘাটতি পূরণে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংকগুলোকে সরকারি অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।

বৃহস্পতিবার সংসদ অনুমিত হিসাব কমিটি উত্থাপিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংকগুলোর দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে লোকসান হওয়ার ফলে ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি দেখা দেয়, ফলে সরকারকে জাতীয় বাজেট থেকে বরাদ্দের মাধ্যমে ঘাটতি পূরণের জন্য প্রায়ই ব্যাংক অনুরোধ করে। এ ধরনের ঘাটতি পূরণের প্রবণতা বন্ধ করতে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। যেসব ক্ষেত্রে মূলধন ঘাটতিপূরণ অপরিহার্য হয়ে পড়ে সেসব ক্ষেত্রে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের শর্তসাপেক্ষে ঘাটতি পূরণ করা যেতে পারে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ড.সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অনাদায়ী ঋণ। ফলে ব্যাংকগুলো মুনাফা করার জন্য আগ্রাসী ব্যাংকিং করছে। ঋণপ্রবাহ বাড়াতে দেদার ঋণ দিচ্ছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে কোনো যাছাইবাছাই করা হচ্ছে না। এদিকে সরকারী ব্যাংকগুলোও লোকসানের মুখে। এজন্য অতীতের মতো রাষ্ট্রায়াত্ত্ব ব্যাংকের ব্যাংকের মুলধন ঘাটতি পূরণে সরকারী অর্থ বরাদ্দের সিদ্ধান্ত ভালো ফল বয়ে আনবে। এভাবে ধীর ধীরে ব্যাংকগুলোকে আস্থা সংকট কাটিয়ে ওঠতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, গত ডিসেম্বর শেষে মেঘনা ব্যাংকের ৯৩ কোটি টাকা খেলাপি ঋণের মধ্যে ৩৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকাই কুঋণ বা আদায় অযোগ্য ঋণে পরিণত হয়েছে। মিডল্যান্ড ব্যাংকের ৪৩ কোটি টাকার খেলাপি ঋণের মধ্যে প্রায় ৩৭ কোটি টাকাই মন্দ ঋণ। এনআরবি ব্যাংকের ৫৩ কোটি টাকার খেলাপি ঋণের মধ্যে ৪২ কোটি টাকা মন্দঋণ, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের প্রায় ৭৮ কোটি টাকার খেলাপি ঋণের মধ্যে প্রায় ৫৯ কোটি টাকাই মন্দঋণ। এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের মধ্যে ৬১ কোটি টাকার খেলাপি ঋণের মধ্যে ৩২ কোটি টাকা মন্দঋণ। ইউনিয়ন ব্যাংকের ৫৭ কোটি টাকার খেলাপি ঋণের মধ্যে ৪২ কোটি টাকাই মন্দঋণ। দি ফারমার্স ব্যাংকের ৭২৩ কোটি টাকার খেলাপি ঋণের মধ্যে প্রায় ৩৪০ কোটি টাকাই মন্দঋণ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ইনস্টটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধূরী বলেন, কোনো ব্যাংকের যখন কোনো সঙ্কট দেখা দেয় তখন স্বাভাবিকভাবে অন্য ব্যাংকগুলোর ওপর তো কম বেশি প্রভাব পড়বেই। ফারমার্স ব্যাংকের কেলেঙ্কারির পর ওই ব্যাংকের আমানতকারীরা টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। স্বাভাবিকভাবে এর প্রভাব অন্য ব্যাংকগুলোর ওপর পড়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত