প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সরকারই বলল, পরকীয়া ‘অপরাধ’

ডেস্ক রিপোর্ট : পরকীয়াকে ‘বেআইনি’ না বললে বিবাহ নামক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে যাবে বলে মত দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। দেশটির দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারা খারিজ করার আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা করা হয়েছিল। সেই মামলায় সর্বোচ্চ আদালতকে হলফনামা দিয়ে বৃহস্পতিবার এই মত জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। খবর: আনন্দবাজার পত্রিকা।

৪৯৭ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো পুরুষ যদি কোনো বিবাহিতা মহিলার সঙ্গে, তার স্বামীর অনুমতি ছাড়াই, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে লিপ্ত হন, তা হলে তিনি দণ্ডনীয় অপরাধ করবেন। পরকীয়ায় জড়ানো মহিলার জন্য অবশ্য কোনো সাজার কথা দণ্ডবিধির এই ধারায় উল্লিখিত নেই।

১৫৮ বছরের পুরনো এই আইনটিকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা করেছিলেন অনাবাসী ভারতীয় জোসেফ শাইন।

তার মতে, এই আইনে পুরুষদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে।

আবেদনে জোসেফ লিখেছিলেন, ‘যেখানে দু’জন সহমত হওয়ার পরেই এই যৌন সম্পর্ক তৈরি হয়, তখন কেন শুধু পুরুষকে দণ্ডিত করা হবে?’

এই আইন সংবিধানবিরোধীও বটে। কারণ, সংবিধানের ১৪ (আইনের চোখে সব ধর্ম, বর্ণ, জাত এবং লিঙ্গের মানুষ সমান), ১৫ (ধর্ম, বর্ণ, জাত, লিঙ্গ এবং জন্মস্থানের নিরিখে রাষ্ট্র কোনো বৈষম্যমূলক আচরণ করতে পারে না) এবং ২১ নম্বর (ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার), এই তিনটি অনুচ্ছেদে যা বলা হয়েছে, এই আইনটি তার উল্টো বলছে।

আবেদনকারীর মতে, এই আইন নারীবিরোধীও। কারণ, ‘স্বামীর অনুমতি ছাড়া পরকীয়া দণ্ডনীয় অপরাধ’ বললে মেয়েদের আসলে ‘পুরুষের সম্পত্তি’ ভাবা হয়।

সুপ্রিম কোর্টকে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, অবিলম্বে এই জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে দেয়া হোক। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেয়া হলফনামায় বলা হয়েছে, ‘ভারতীয় দণ্ডবিধির এই ধারাটি বিবাহ নামক প্রতিষ্ঠানটি সমর্থন করে, টিকিয়ে রাখে এবং রক্ষা করে। এই ধারা লোপ পেলে বিয়ের পবিত্রতা ও শুদ্ধতায় আঘাত করা হবে। ভারতীয় ভাবাবেগের পক্ষে হানিকারক হবে সেটা। ভারতের অনন্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামো টিকিয়ে রাখতে এই আইনের অপরিসীম গুরুত্ব রয়েছে।’

কিন্তু, দণ্ড কেন শুধু পুরুষটিকেই ভোগ করতে হবে? এ প্রসঙ্গে সরকার ২০০৩ সালের মলিমথ কমিটির রিপোর্টের কথা উল্লেখ করে জানায়, আইনটিকে কীভাবে লিঙ্গ-নিরপেক্ষ করা যায়, সেটা খতিয়ে দেখছে আইন কমিশন। কিছু দিনের মধ্যে আইন কমিশন কেন্দ্রীয় সরকারকে এ বিষয়ে রিপোর্ট দেবে।

‘আইনটির সংশোধন করা যেতেই পারে। কিন্তু, পরকীয়াকে ‘অপরাধ নয়’- এর তকমা দিলে বৈবাহিক সম্পর্কের ভিতটাই নড়বড়ে হয়ে যাবে’, সাফ জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। – পরিবর্তন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ