প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভারত নয় লর্ড কার্লাইলকে বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা কেন? : মঈন খান

শিমুল মাহমুদ: বিএনপির চেয়ারপার্সনের ব্রিটিশ আইনী পরামর্শক লর্ড কার্লাইলকে ভারত নয় বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা কেন? সরকারে কাছে জানতে চায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড.আব্দুল মঈন খান।

তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারপার্সনের ব্রিটিশ আইনী পরামর্শক লর্ড কার্লাইলকে দিল্লী থেকে ব্রিটেনে ফেরত যেতে হয়েছে। ভারতে আসতে দিলো না দিলো কেন তা ভারত ভালো জানে। আমি এ বিষয়ে কিছু বলবো না। এটা ভারত সরকারের বিষয়। কিন্তু তিনি বাংলাদেশ আসতে পারলো না কেন? প্রশ্নটি আজকে সরকারকে করতে চাই। একজন মানুষের আইনি অধিকার পাওয়ার অধিকার আছে। মানুষের অধিকারের আইন পার্লামেন্টে পাশ হয় না। আইনি অধিকার জন্মগত অধিকার। খালেদা জিয়া সে অধিকার থেকে বঞ্চিত।

বৃহস্পতিবার (১২জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)কতৃক আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়া’র চিকিৎসায় অবহেলা ও মানবাধিকার লঙঘন শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি

বিএনপির এই নেতা বলেন, খালেদা জিয়াকে আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত করে কোনো নির্বাচন করতে দেয়া হবে না। কেউ যদি খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে দেশে কোনো নির্বাচন হবে তা ভেবে থাকে তাহলে তা ভুল।

২০০৮ সালের মতো একটি পাতানো নির্বাচন করে সরকার বিএনপিকে গৃহপালিত বিরোধী দল বানিয়ে রাখার ষড়যন্ত্র করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দল মঈন খান।

তিনি বলেন, অনেকে বলে সরকার নাকি ২০১৪ সালের মতো আরেকটি নির্বাচন করতে চায়। আমি বলছি তারা ২০১৪ সালের মতো নির্বাচন নয়, ২০০৮ সালের মতো পাতানো নির্বাচন করে বিএনপিকে গৃহপালিত বিরোধী দল বানিয়ে রাখতে চায়। কিন্তু আমরা তা হতে দেব না। আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে যেন সরকার তাদের এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে না পারে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় অবহেলা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন শীর্ষক আলোচনা সভায় সরকারের তিনি এসব কথা বলেন।

মঈন খান বলেন, চুপ থাকার সময় শেষ। আমাদের ওপর যেমন অত্যাচারের খড়গ নেমে এসেছে আপনাদের উপরও তা আসবে। চুপ থাকলে বাঁচতে পারবেন না। কথা বলতে হবে। প্রতিবাদ জানাতে হবে। দেশে যেটা চলছে সেটা জঙ্গল আইন। শুধু মানবধিকার নয়, মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে। অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, আবাসন, চিকিৎসা- মৌলিক অধিকার। খালেদা জিয়া কারারুদ্ধ৷ তিনি যদি চিকিৎসা চান সেটা মৌলিক অধিকার। সরকার সেটা তাকে না দিয়ে সংবিধান লঙ্ঘন করেছে।

তিনি বলেন, সরকারের নেতারা ঠাট্টা করে বলেন, বিএনপি নাকি আন্দোলন করতে জানে না। আমিও সেটা স্বীকার করি। আমরা আওয়ামী লীগের মতো লগি বৈঠার আন্দোলন করতে জানি না। গণতান্ত্রিক আন্দোলন করে আমরা সরকারকে বিদায় করবো। আমি একটি ছোট্ট চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি, আসুন পুলিশ, র্যাব, নৌবাহিনীকে ব্যারাকে রেখে রাস্তায় নামুন। আমরাও নামবো। দেখি কে জেতে,আর কে পরাজিত হয়। লাঠি দিয়ে শাপ মারার মতো মানুষ হত্যা করা আন্দোলন নয়।

মঈন খান আরো বলেন, মানুষকে সব সময়ের জন্য বোকা বানিয়ে রাখা যায় না। এ সরকার দেশে এবং বিদেশে অনেককে বোকা বানিয়ে রেখেছে। কিন্তু সব মানুষকে সব সময়ের জন্য বোকা বানিয়ে রাখা যায় না। দেশের মানুষ ঘাশ খায় না। মানুষ জানে কোনটি সত্য, কোনটি গল্প।

বিএনপির এ নেতা বলেন,দরিদ্র মানুষের অর্থ ব্যয় করে কিছু সার্টিফিকেট নিতে পারে সরকার। কিন্তু এতে তারা টিকে থাকতে পারবে না। বিশ্ববাসী ধীরে ধীরে এই সরকারের প্রতি মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। বিশ্বের নানা দেশ থেকে প্রতিবাদ আসছে”-দাবী মঈন খানের।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ডা.এ কে এম আজিজুল হক,প্রধান অতিথি ছিলেন,বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জনাব শওকত মাহমুদ।
এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা.ফরহাদ হালিম ডোনার, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও ড্যাবের সহ সভাপতি বৃহত্তর গণআন্দোলনেই হবে খালেদা জিয়াকে মুক্তি: আমান উল্লাহ আমান

শিমুল মাহমুদ: বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে বৃহত্তর গণআন্দোলনের মাধ্যমে মুক্ত করা হবে মন্তব্য করেছেন, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ডাকসুর সাবেক ভিপি আমান উল্লাহ আমান।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার ও
শেখ হাসিনার আক্রোশে বেগম জিয়া আজকে কারাগারে রয়েছেন। অবিলম্বে তাকে মুক্তি না দিলে বৃহত্তর গণআন্দোলনের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করা হবে।
বৃহস্পতিবার(১২জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তারেক জিয়া সাইবার ফোর্স এর আয়োজনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা, অবৈধ সাজা বাতিল এবং বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আমান উল্লাহ আমান বলেন, আমাদের নেত্রী আন্দোলন করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই নেত্রীকে আজ যা ইচ্ছা তাই বলা হচ্ছে। বেগম খালেদা জিয়ার আপোষহীন নেতৃত্বের কারণেই স্বৈরাতন্ত্রের পতন হয়ে গণতন্ত্র মুক্ত হয়েছিল। আজ সেই গণতন্ত্র বন্দি, গণতন্ত্রের নেত্রীও বন্দি।

তিনি বলেন,অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনের স্বপ্ন দেখেন সেই নির্বাচন বাংলাদেশে আর হবে না, হতে দেয়া হবে না। বাংলাদেশে নির্বাচন হতে হলে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে, সংসদ ভেঙে দিতে হবে। তারপরে বাংলাদেশে নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করবে। সেই নির্বাচনে খালেদা জিয়া আবার রাষ্ট্র প্রধান হবেন।

সংগঠনের সভাপতি ফাতেমা খানমের সভাপতিত্বে এবং দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন- বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দীন আলম, রফিক শিকদার, জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পলাশ মন্ডল, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদরুল আলম রানা , সাংগঠনিক সম্পাদক শান্ত ইসলাম জুম্মন প্রমুখ। ডা.রফিকুল কবির লাবু, বিএনপির সহ-পরিবার কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও ড্যাবের সহ সভাপতি ডাঃ মোঃ আব্দুস সালাম, অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট, বিএমএর সাবেক মহাসচিব অধ্যাপক ডাঃ গাজী আব্দুল হক, ডাঃ শহীদুল আলম, অধ্যাপক ডাঃহারুন উর রশিদ,ডাঃ ওবায়দুল কবীর খান, ডাঃশহীদ হাসান, ডাঃ জহিরুল ইসলাম শাকিল,যুগ্ম মহাসচিব ডাঃ নাসির উদ্দিন পনির, সাধারণ সম্পাদক, হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজ; অধ্যাপক ডাঃ ফরিদ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ