প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাড়তি আয়ের মনোভাবই সন্তান প্রসবে বাড়ছে অপ্রয়োজনীয় সিজার

হ্যাপী আক্তার : প্রতিবছর লাখ লাখ নারী প্রসবোত্তর সময়ে ইনফেকশনে আক্রান্ত হচ্ছেন, বাড়ছে নবজাতকের নানা জটিলতাও। যার মূল কারণ হচ্ছে, নিরাপদ মাতৃত্বের কথা বলে দেশে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান পদ্ধতিতে সন্তান প্রসবের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। কারণ হিসেবে গর্ভবতী এবং তাঁদের পরিবারের স্বাভাবিক প্রসবে অনীহা এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বাড়তি আয়ের মনোভাবকেই দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভের (বিডিএইচএস) তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে ৩৭ভাগ প্রসব হয়ে থাকে হাসপাতালে। আর হাসপাতাল বা ক্লিনিকে ১০টি শিশুর ৬টির জন্ম হচ্ছে সিজারিয়ান পদ্ধতিতে। এ ক্ষেত্রে ৮০ভাগ অস্ত্রোপচার হচ্ছে ব্যক্তি মালিকানাধীন ক্লিনিকে।

দেশে প্রতি মিনিটে জন্ম নিচ্ছে চারটি শিশু। এই হিসেবে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার ৭৬০ জন এবং প্রতি বছর প্রায় ২১ লাখ শিশুর জন্ম হচ্ছে।

সিজারিয়ান পদ্ধতির ব্যবহার বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর ব্যবসায়িক মনোবৃত্তি, সরকারের সঠিক মনিটরিং না থাকা এবং মানুষের অসচেতনতাকে দায়ী করছেন চিকিৎসকরা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, গাইনি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রেজাউল করিম কাজল জানান, যে কোন ক্লিনিকে অপারেশন বা সিজারের সঙ্গে কিন্তু তার পরিবারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জড়িত। পরিবার থেকে গর্ভবতি মাকে নিয়ে প্রসব পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অবস্থা নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় থাকা এবং যেখানে নেয়া হয় সেখানে ছুটির দিনে রোগীকে পর্যবেক্ষণ করার মত দক্ষ জনবল তাদের আছে কি না এবং সেবার মান ঠিক রাখতে পারবে কি না এসব বিষয়ে সন্দেহ আছে। তার সাথে বর্তমান সময়ে চিকিৎসক এবং রোগীর পক্ষ থেকে কেউই ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না।

সিজারিয়ান পদ্ধতিতে জন্মদানে মা ও শিশুর মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিও রয়েছে।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. ফাতেমা আশরাফ জানান,সিজার করার সময় রোগীকে চেতনানাশক ইঞ্জেকশন প্রয়োগ করতে হয় এতে রোগীকে অজ্ঞান করার সময় শারীরিক সমস্যা হত পারে। তাৎক্ষনিক রোগীকে স্যালাইন ও রক্ত দেয়ার প্রয়োজন হয়। সিজার করার পরেও নানান শারীরিক জটিলতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে কৃত্রিমভাবে করা হচ্ছে এতে দেখা দিতে পারে নানান জটিলতা, যেমন ইনফেকশন, হার্নিয়া হতে পারে। সিজারের পর মাতৃগর্ভে রক্তক্ষরণ হতে পারে। সিবলেও জানান ডা. ফাতেমা আশরাফ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে সিজারিয়ান অপারেশনের হার হতে হবে সর্বমোট প্রসবের ১০ থেকে ১৫ ভাগ।  সূত্র : ডিবিসি নিউজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত