প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আ.লীগের নির্বাচনী জোট বড় হচ্ছে

ডেস্ক রিপোর্ট : আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আরও কিছু দল আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোটে যোগ দিতে যাচ্ছে। দলগুলোর শীর্ষ নেতারা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী জোটে থাকবে জাতীয় পার্টি, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বিএনএ ও তরিকত ফেডারেশন (আউয়াল)। এ ছাড়া আরও কিছু দল জোটে যোগ দিতে পারে। নির্বাচনী জোটের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের ‘আদর্শিক জোট’ ১৪-দলীয় জোটের শরিকরাও একসঙ্গে নির্বাচনে অংশ নেবে।

আলাপকালে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা জানান, নির্বাচনের আগে অনেক দল থেকেই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। যাদের সঙ্গে আমাদের নীতি ও আদর্শ মেলে, তাদের কাউকে কাউকে নিরাশ করছি না আবার চূড়ান্ত কিছু জানাচ্ছি না। আগ্রহীদের প্রস্তাবগুলো শুনছি, নির্বাচনের পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে আবার কিছু কিছু দল, যাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের ‘স্পিরিট’ মেলে না তাদের শুরুতেই না বলে দেওয়া হয়েছে। যেমন সম্প্রতি হেফাজতে ইসলামসহ বেশ কিছু ইসলামিক দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটে থাকার আগ্রহের কথা জানায়; কিন্তু ভিন্ন ধারার রাজনীতিতে বিশ্বাসী বলে তাদের সঙ্গে নির্বাচনী জোট হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

২০০৫ সালে ২৩ দফা ঘোষণা সামনে রেখে বাম প্রগতিশীল জোট ১১ দল, আওয়ামী লীগ, জাসদ ও ন্যাপ মিলে ১৪-দলীয় জোট গঠন করা হয়। পরে সিপিবি, বাসদসহ ১১ দলের চারটি দল বেরিয়ে যায়। ওয়ার্কার্স পার্টি, গণফোরাম,
সাম্যবাদী দল, গণতন্ত্রী পার্টি, কমিউনিস্ট কেন্দ্র, গণআজাদী লীগ, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি, বাসদ (একাংশ) এ আটটি দল ১৪ দলে থেকে যায়। ফলে সেই সময়ে ১৪ দল মূলত ১১-দলীয় জোটে পরিণত হয়। পরে গণফোরাম জোট থেকে বাদ পড়ে। এতে ১৪ দল ১০-দলীয় জোটে পরিণত হয়। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (জেপি) ও তরিকত ফেডারেশনকে জোটে নেওয়া হয়। পরে জাসদ ভেঙে দুটি হয়। দুই জাসদই বর্তমানে ১৪ দলে রয়েছে। ফলে জোটটিতে এখন ১৩টি দল রয়েছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আওয়ামী লীগের দুটি জোট রয়েছে। একটি ১৪-দলীয় আদর্শিক জোট, আরেকটি নির্বাচনী জোট মহাজোট। দুটি জোটই যে কোনো দলের জন্য উন্মুক্ত। তবে আগ্রহী দলটিতে অবশ্যই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস এবং অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির চর্চা থাকতে হবে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গেল বছরের ১৭ মে আওয়ামী লীগের গ্রিন সিগন্যাল পেলেও জোটের শরিকদের আপত্তিতে শেষ পর্যন্ত ১৪-দলীয় জোটে যোগ দিতে পারেনি ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত দলটির বিষয়ে জোটের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে আপত্তি জানায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদসহ ১৪ দলের বেশ কয়েকটি শরিক দল। তবে আগামী নির্বাচনের আগে দলটি মহাজোটে যোগ দিচ্ছে এটা এক প্রকার নিশ্চিত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান সৈয়দ বাহাদুর শাহ বলেন, ১৪-দলীয় জোটে আমাদের স্বাগতই জানানো হয়েছিল; কিন্তু জোটের শরিক বামদলগুলোর আপত্তি থাকায় আমাদের নেওয়া হয়নি। তবে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা হচ্ছে আমরা নির্বাচনী জোটে একসঙ্গে কাজ করব।
জাতীয় পার্টি সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এককভাবে নির্বাচন করার কথা বললেও শেষ পর্যন্ত তারা আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটে থেকে নির্বাচন করবেন। তবে শেষ পর্যন্ত বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলে দলীয় ব্যানারে এককভাবে বা বেশকিছু ইসলামি দলকে সঙ্গে নিয়ে ‘সম্মিলিত জাতীয় জোট’-এর ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে জাতীয় পার্টি।

জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমীন হাওলাদার বলেন, নির্বাচন এখনো অনেক দেরি। এখনই সব কথা বলার সুযোগ আসেনি। সময় ও পরিস্থিতি বুঝে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। আপাতত আমাদের সিদ্ধান্ত সারাদেশেই প্রার্থী দিয়ে আমরা পৃথকভাবে নির্বাচনে অংশ নেব।
আওয়ামী লীগ থেকে সবুজ সংকেত না পেলেও বিএনপির সাবেক নেতা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার দৃঢ় বিশ্বাসÑ তিনি আওয়ামী লীগের নির্বাচনী জোটে থাকবেন। ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা এ বিষয়ে  বলেন, আমি আমার প্রত্যাশার কথা আওয়ামী লীগকে জানিয়েছি এবং আশা করছি আগামী নির্বাচনে আমরা একসঙ্গে কাজ করব। নাজমুল হুদার নেতৃত্বাধীন জোটের অন্য দলগুলো হলোÑ বাংলাদেশ মানবাধিকার পার্টি (বিএমপি), বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (বিএলডিপি), বাংলাদেশ লেবার পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাশনাল কংগ্রেস, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি, জাগো বাঙালি, ইউনাইটেড মাইনরিটি পার্টি, সম্মিলিত নাগরিক পার্টি (ইউসিপি), বাংলাদেশ ইনসাফ পার্টি, দেশপ্রেমিক নাগরিক পার্টি, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক পার্টি (কেএসপি), স্বাধীন পার্টি (এসপি), বাংলাদেশ প্রগতিবাদী জনতা পার্টি (বিপিজেপি), বাংলাদেশ পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি (বিপিডিপি), গণতান্ত্রিক ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, গণতান্ত্রিক ন্যাপ, বাংলাদেশ মাইনরিটি ইউনাইটেড ফ্রন্ট, ন্যাশনাল লেবার পার্টি (এনএলপি), বাংলাদেশ সচেতন হিন্দু পরিষদ, বাংলাদেশ তফসিল ফেডারেশন, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক মুক্তি আন্দোলন, গণসংগ্রাম পরিষদ, বাংলাদেশ গণশক্তি পার্টি (বিজেএসপি), বাংলাদেশ দুনিয়া দল, বাংলাশে রিপাবলিক পার্টি (বিআরপি) ও বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল)।

সম্প্রতি ১৪-দলীয় জোটের অন্যতম শরিক তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিবের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এমএ আউয়ালকে। এই ঘটনার পর তরিকত ভেঙে আউয়ালের নেতৃত্বে আরেকটি অংশ পৃথকভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার দাবি উঠেছে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে। এমএ আউয়াল এ বিষয়ে সরাসরি কিছু বলতে রাজি নন। তিনি বলেন, সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এখনো আসেনি। সময় এলেই অবস্থান জানতে পারবেন। তবে বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, আউয়াল ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোটে থাকার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। সূত্র : আমাদের সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ