প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রিজেন্টের ব্যাংক হিসাব জব্দ, হচ্ছে ফ্লাইটও!

ডেস্ক রিপোর্ট : টিকেট বিক্রি করে যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া ভ্যাট সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া নিয়ে গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলককারী এইচ জি এভিয়েশনের (রিজেন্ট এয়ারওয়েজ) বিরুদ্ধে। এরই মধ্যে রিজেন্ট এয়ারওয়েজের তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করেছে ভ্যাট বিভাগ। প্রতিষ্ঠানটির চট্টগ্রাম অফিসের কম্পিউটারের সিপিইউ জব্দ করা হয়েছে।

আগামী সাত দিনের মধ্যে জরিমানা ও আবগারি শুল্ক বাবদ প্রায় ১৪ কোটি টাকা পরিশোধ না করলে রিজেন্ট এয়ারওয়েজের ফ্লাইট জব্দ করে সিভিল এভিয়েশনের জিম্মায় দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কাস্টমস, এক্সাইস ও ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তারা।
কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট চট্টগ্রামের কমিশনার সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া বলেন, রিজেন্ট এয়ারওয়েজের বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির কোনো অভিযোগ নেই। অভিযোগ যেটা আছে, সেটা হচ্ছে ভ্যাট প্রদানে অনিয়ম। যাত্রীদের কাছ থেকে টিকেট বিক্রির সময়ই ভ্যাট নিচ্ছে, কিন্ত সেই ভ্যাট মাস শেষে জমা দিচ্ছে না। বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও দিচ্ছে না। এজন্য আমরা প্রাথমিক কিছু পদক্ষেপ নিয়ে তাদের সময় বেঁধে দিয়েছি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের চট্টগ্রামের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন রিজভীর সই করা একটি চিঠি দেওয়া হয় মেসার্স এইচ জি এভিয়েশনের (রিজেন্ট এয়ারওয়েজ) ব্যবস্থাপনা পরিচালককে।

ওই চিঠিতে ২০১৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬ কোটি ১৬ লাখ ৯৯ হাজার ৬০০ টাকা অনাদায়ী আবগারি শুল্ক ও জরিমানার কথা উল্লেখ করা হয়। এরপর ২০১৭ সালের নভেম্বরে পর্যন্ত তিন কোটি ৩৮ লাখ ৩৫ হাজার ২৫০ টাকা বকেয়া রাজস্বের কথা উল্লেখ করা হয় একই চিঠিতে।

ওই চিঠিতে সর্বমোট নয় কোটি ৫৫ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা সরকারি রাজস্ব পরিশোধের জন্য রিজেন্ট এয়ারওয়েজকে ১০ দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়। অন্যথায় দ্য এক্সাইজ অ্যান্ড সল্ট অ্যাক্ট, ১৯৪৪-এর ১১ ধারা প্রয়োগ করে যাত্রী পরিবহনে নিয়োজিত ফ্লাইট আটক করে রাজস্ব আদায়ের কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয় চিঠিতে।

এরপর গত ২১ জুন কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট, টঙ্গী বিভাগের ডেপুটি কমিশনার ও বিভাগীয় কর্মকর্তা মোঃ শরফুদ্দিন মিঞা রিজেন্ট এয়ারওয়েজের কাছে আবগারি শুল্ক ও জরিমানা বাবদ ১৩ কোটি ৯৮ লাখ ৩৭ হাজার ৪০০ টাকা অনাদায়ী থাকার কথা উল্লেখ করে তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দের জন্য তিনটি ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপককে চিঠি দেন। এগুলো হচ্ছে- প্রাইম ব্যাংকের উত্তরা শাখা, ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের উত্তরা শাখা এবং ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ শাখা।

চিঠিতে (স্মারক নম্বর: নথি নং-৪/মূসক/৯৬২/রিজেন্ট/মূসক ফাঁকি/ট:বি:/২০১৮/৬৪৪৯(৩)) আরও বলা হয়, ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো অপরিচালনযোগ্য (জব্দ) করার সাত দিনের মধ্যে পরিশোধ না করলে অনাদায়ী টাকা সেই অ্যাকাউন্ট থেকে আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা করা হবে।

তবে সাত দিন পার হয়ে গেলেও রিজেন্ট এয়ারওয়েজ বকেয়া পরিশোধ করেনি। সংশ্লিষ্ট বিভাগও এখনও জব্দ করা অ্যাকাউন্ট থেকে বকেয়া আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু করেনি।

শেষ পর্যন্ত জব্দ করা অ্যাকাউন্ট থেকে অনাদায়ী টাকা আদায়ের প্রক্রিয়ায় কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগ যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ ক্ষেত্রে ফ্লাইট আটকে অনাদায়ী টাকা আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানায় সূত্র।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, অভ্যন্তরীণ ও সার্ক রুটে বিমান ভ্রমণ খাতে যাত্রীদের ওপর ৫০০ টাকা এবং সার্কের বাইরে এশিয়ার দেশগুলোর জন্য ২ হাজার টাকা আবগারি শুল্ক ধার্য্য রয়েছে। ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের অন্যান্য দেশে বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে এই শুল্কবাবদ যাত্রীদের পরিশোধ করতে হয় ৩ হাজার টাকা, যা টিকেট কেনার সময় নগদে যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করে বিমান সংস্থাগুলো। সূত্র : ইনকিলাব

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত