প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আ.লীগের দুর্গে জাপার ঘর পুনরুদ্ধারে মরিয়া বিএনপি

ডেস্ক রিপোর্ট : ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনটি আ.লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত থাকলেও মহাজোটের শরিক দল হিসেবে এ আসনে ঘর বেঁধেছে জাতীয় পার্টি। ২০১৪ সালের নির্বাচনে আ.লীগ আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয়ায় এমপি হন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমাম। আগামী নির্বাচনেও তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশী। তবে আ.লীগ আগামীতে আসনটি ছাড় দিতে রাজি নয় বলে চলছে গ্রুপিং-লবিং। একটি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনটি ফিরে পেতে মরিয়া আ.লীগ। বিএনপিও আসনটি পুনরুদ্ধারে মাঠে সক্রিয় রয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এ আসনে বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। এলাকার মোড়ে মোড়ে ঝুলছে তাদের ছবিসংবলিত পোস্টার ও ব্যানার। তারা যোগ দিচ্ছেন নানা সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে। তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি দলের হাইকমান্ডের কাছেও ধরনা দিচ্ছেন কেউ কেউ। কয়েক বছর ধরে রাজনৈতিক মাঠে নিষ্ক্রিয় থাকায় বিএনপি সাংগঠনিকভাবে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের মধ্যে বিরোধ প্রায়ই দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। উভয় গ্রুপকেই আলাদাভাবে দলীয় কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়। শেষ পর্যন্ত এই বিরোধ যদি অব্যাহত থাকে তাহলে নির্বাচনের ফলাফলের ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে সাংগঠনিকভাবে

আওয়ামী লীগ শক্ত অবস্থানে রয়েছে। অনেকেই আওয়ামী লীগের দুর্গ মনে করছেন এ আসনটিকে।

নব্বইয়ের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে এ আসনে বিজয়ী হন জাপার খুররম খান চৌধুরী, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনে জয়লাভ করেন বিএনপির এডভোকেট জয়নুল আবেদীন জায়েদী এবং ২০০১ সালে জয় পান বিএনপির শাহ্ নুরুল কবীর শাহীন। অন্যদিকে ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করেন আ.লীগের আব্দুছ ছাত্তার।

আগামী নির্বাচনে আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন- সাবেক এমপি আ.লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক আব্দুছ ছাত্তার, বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বিশিষ্ট ব্যবসায়ী তরুণ নেতা মাহমুদ হাসান সুমন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট সৌমেন্দ্র কিশোর চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বেক্সিমকো গ্রুপের পরিচালক এডভোকেট শাহ্ মঞ্জুরুল হক, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত আইজিপি ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কর্মকর্তা মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রহিম, উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক আবুবকর সিদ্দিক ভূঁইয়া দুলাল ও ছাত্র নেতা তরিকুল হাসান তারেক।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য বর্তমান এমপি ফখরুল ইমাম দলের একমাত্র প্রার্থী। একাধিকবার এ আসন থেকে জাতীয় পার্টি জয়লাভ করে। প্রবীণ রাজনীতিক ফখরুল ইমাম বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম রওশন এরশাদের আস্থাভাজন হওয়ায় আগামী নির্বাচনেও মহাজোটের শরিক দল হিসেবে অথবা দলগতভাবে জাপার মনোনয়ন নিশ্চিত বলে ধারণা নেতাকর্মীদের।

ফখরুল ইমাম বলেন, এলাকার রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, হাট-বাজার, বিদ্যুৎ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কাজ করেছি। ঈশ্বরগঞ্জে তৃণমূলে জাপাকে শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত করেছি। রাজিপুরের চর রামমোহনে একটি অর্থনৈতিক জোন গড়ে তুলতে কাজ করছি। দলীয় অথবা জোটগত মনোনয়ন পেলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে আবারো আসনটি উপহার দিতে চাই।

ঈশ্বরগঞ্জে আ.লীগ ও বিএনপি দুদলেই রয়েছে অভ্যন্তরীণ কোন্দল। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে আ.লীগে নির্বাচিত কোনো কমিটি নেই। ফলে রয়েছে অভ্যন্তরীণ কোন্দল। দুবারের এমপি আবদুছ ছাত্তার তার সময়ের উন্নয়ন ফিরিস্তি তুলে ধরে জনসমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক এ সম্পাদক বলেন, দুবার এমপি হয়ে ঈশ্বরগঞ্জের রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সর্বস্তরে অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছি, যা ঈশ্বরগঞ্জের জনগণ কখনো ভুলবে না। দলকে সংগঠিত করতে মাঠে কাজ করছি। আগামী নির্বাচনে দল আমাকেই মনোনয়ন দেবে বলে শতভাগ আশাবাদী।

নির্বাচনী ভাবনা নিয়ে কথা হয় ছাত্তারের ভাতিজা ও উপজেলা চেয়ারম্যান মামুদ হাসান সুমনের সঙ্গে। তিনি বলেন, নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মাঠ গোছানোর কাজ নিরলসভাবে করে যাচ্ছি। মনোনয়নের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আ.লীগের উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর বঙ্গবন্ধুর আদর্শে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নসহ ব্যক্তিগত উদ্যোগে এলাকার উন্নয়ন ও দলীয় নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত রাখতে কাজ করে যাচ্ছি। মনোনয়ন পেলে আসনটি উপহার দেব ইনশাআল্লাহ।

সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির এডভোকেট সৌমেন্দ্র কিশোর মনোনয়ন প্রত্যাশায় মাঠে রয়েছেন। জনপ্রিয় এই নেতা বলেন, মাঠে আছি। মনোনয়ন পেলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে শেখ হাসিনাকে আসনটি উপহার দিতে চাই। এডভোকেট শাহ্ মঞ্জুরুল হক বলেন, এলাকায় প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। দুস্থদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। শিক্ষার উন্নয়নেও ভূমিকা রাখছি। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।

মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রহিম বলেন, আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছি। ছাত্রজীবন থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত ও মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক হিসেবে স্বাধীনতার পর পুলিশ বিভাগে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি। মনোনয়ন প্রত্যাশী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও তরুণ নেতা আবুবকর সিদ্দিক ভূঁইয়া দুলাল বলেন, দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পাশাপাশি দল ও মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। তৃণমূলকে শক্তিশালী করতে সচেষ্ট আছি। নৌকা নিয়ে শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে চাই।

অপরদিকে বিএনপিতেও কোন্দল এখন দৃশ্যমান। বিএনপির দুটি গ্রুপই এখন প্রকাশ্যে সক্রিয়। এই কোন্দল যদি চলতে থাকে তাহলে আগামী নির্বাচনের ফলাফলের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। এ অবস্থায় নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় দলের একাধিক নেতা। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন- সাবেক এমপি শাহ্ নুরুল কবীর শাহীন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু, ময়মনসিংহ জেলা উত্তর যুবদলের সভাপতি কামরুজ্জামান লিটন, সৌদি আরব পশ্চিম বিএনপির উপদেষ্টা ও সাবেক ছাত্র নেতা অধ্যাপক ডা. কাজী মঞ্জুরুল হক সেলিম, জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের নেতা এডভোকেট আওরঙ্গজেব বেলাল।

ক্লিন ইমেজের কারণে সাবেক এমপি শাহ নূরুল কবীর শাহীনের সাধারণ ভোটারদের মধ্যে রয়েছে জনপ্রিয়তা। তিনি বলেন, দলীয় মনোনয়ন পেলে এবং দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে অবশ্যই বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে আসনটি দলকে উপহার দেব। মনোনয়নপ্রত্যাশী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও তরুণ নেতা প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন। দলকে সংগঠিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, বিএনপির দুঃসময়ে তৃণমূলকে সংগঠিত করা ও অসহায় মানুষের জন্য কাজ করছি। মনোনয়ন পেলে ধানের শীষের বিজয় ছিনিয়ে আনব, যুবসমাজকে বেকারমুক্ত করব। অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী তাঁতী দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট আওরঙ্গজেব বেলাল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত থেকে মাঠে কাজ করছি। বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়েছি এবং ধর্মীয় ও সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানে যোগদানের মাধ্যমে দলকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছি।

এ আসনে এলডিপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তেমন না থাকলেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য ব্যাপক গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ বাশার। – ভোরের কাগজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত