প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কেমন আছেন মেসি?

ডেস্ক রিপোর্ট : রাশিয়া বিশ্বকাপ থেকে আর্জেন্টিনার বিদায়ের পর মেসির কোনো খোঁজ খবরই নেই! যে মানুষটা বারবার গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়ে ওঠেন তিনিই কিনা এখন বিশ্বকাপের আমেজ-উন্মাদনার ছায়ার আড়ালে! এমন অবস্থায় সহসাই হয়তো মেসি ভক্তরা তার কথা ভাবতে পারেন। চিন্তা করতে পারেন যে, রাশিয়া বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর তিনি কেমন আছেন।

বিশ্বকাপের ২১তম টুর্নামেন্ট থেকে একই রাতে বিশ্ব ফুটবলের দুই কিংবদন্তি মেসি এবং রোনালদোকে বিদায় নিতে হয়েছে। তবে বিদায়ের পর থেকে মেসি যেখানে সবকিছুর আড়ালে সেখানে রোনালদো এখনো অহরহ গণমাধ্যগুলোতে শিরোনাম হয়ে উঠছেন। বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর থেকেই তার রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার গুঞ্জনটা মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে থাকে। সেই গুঞ্জনই এখন সত্যিতে পরিণত হয়েছে। ১০০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে মেসির তীব্র প্রতিদ্বদ্বী রিয়াল মাদ্রিদ থেকে জুভেন্টাসে যোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি সম্প্রতি বান্ধবী জর্জিনা রদ্রিগেজকে নিয়ে গ্রিসে অবকাশের জন্যই বেড়িয়েছেন।

রাশিয়া বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা ১৯৯৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের কাছে ৪-৩ গোল ব্যবধানে হারে। নকআউট পর্বে এই হারের পর তাদের বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে ছিটকে পড়তে হয়েছে। এমবাপ্পে ঝলকে তারকা ভর্তি ফ্রান্সের কাছে হারের পর আর্জেন্টাইন সুপারস্টার মেসি সরাসরি স্পেনের বার্সেলোনায় পা রাখেন। বিষণ্ণ মুখ আর মন মরা ভাব নিয়ে আর্জেন্টিনাতে না গিয়ে বার্সাতে পা রাখেন তিনি। স্প্যানিশ গণমাধ্যমের তথ্যমতে, তার অপেক্ষায় বিমানবন্দরে প্রায় শতাধিক সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। তবে মেসি তাদের কোনো সময়ই দেননি। পাশাপাশি কোনো প্রশ্নের জবাব দিতেও অস্বীকার করেন। কিভাবেই বা সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের উত্তর দেবেন তিনি? তার মনটা যে ভালো নেই! বিশ্ব ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম একজন হলেও তিনি নিজের শেষ বিশ্বকাপেও স্বপ্নের ট্রফিটি ছুঁয়ে দেখতে পারলেন না।

এমন বিষণœ সময়ে স্বামীকে সান্ত¦না দেয়ার জন্য অবশ্য আন্তোনেল্লা রোকোজ্জো সবসময় মেসির পাশেই রয়েছেন। বিষণœতা ভুলে গিয়ে নতুন করে চলার জন্য স্বামীকে উৎসাহ জুগিয়েছেন। এর আগে স্বামীকে উৎসাহ দেয়ার জন্য রাশিয়া বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ম্যাচগুলোতে উপস্থিত ছিলেন। গ্রুপপর্বের প্রথম দুটি ম্যাচের আগে অবশ্য তিনি রাশিয়ায় পা রাখেননি। দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার লক্ষ্যে নাইজেরিয়ার মুখোমুখি হওয়ার আগে তিনি স্বামীর সঙ্গে হোটেলে যোগ দিয়েছিলেন। শেষ ষোলোয় ওঠার বাঁচা-মরার লড়াইয়ে ওই ম্যাচে গ্যালারিতে থেকে রোকোজ্জো হাত নেড়ে নেড়ে স্বামীকে আত্মবিশ্বাস দেন। হয়তো স্ত্রীর উৎসাহ আর আর্জেন্টিনার ঠিকে থাকার লড়াইকে মনে করেই মেসি সেই ম্যাচে আগের ম্যাচগুলোর জড়তা ফেলে দুর্দান্ত হয়ে ওঠেন। তার চমৎকার পারফরমেন্সে দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা নাইজেরিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় ওঠে। তবে

শেষ ষোলোয় তরুণ উদীয়মান ফ্রান্সের সামনে আগুয়েরো-মেসিরা ঠিকতেই পারেননি। তবে বরাবরের মতোই মেসি নিজের সেরা ফর্ম ধরে রেখেছিলেন। এর আগেও বিশ্বকাপের বাছাই পর্বেও ম্যারাডোনার উত্তরসূরিদের কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছিল। ইকুয়েডরের বিপক্ষে বাছাই পর্বের ওই ম্যাচটি আর্জেন্টিনা হারলেই রাশিয়ায় খেলার টিকেট পেত না। সেখানেও মেসি ঝলকে সাম্পাওলির শিষ্যরা বিশ্বকাপের টিকেট কাটে। – ভোরের কাগজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ