প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইংলিশদের বিদায় করে স্বপ্নের ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া

কেএম হোসাইন : অতিরিক্ত সময়ে মারিও মানজুকিচের অসাধারণ এক গোলে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে গেল ক্রোয়েশিয়াশেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে ক্রোয়েশিয়া এমনটি আগেই বলে ছিল মানজুকিচ। শুধু কথায় নয়, কাজেও প্রমাণ দিলেন তিনি। জুভেন্টাসের এই ফরোয়ার্ডের লক্ষ্যভেদেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া। ‍

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও লড়াই করে সমতায় ফেরে ক্রোয়েশিয়া। তাতে নির্ধারিত সময় ১-১ গোলে ড্র হওয়ায় মস্কোর সেমিফাইনাল যায় অতিরিক্ত সময়ে, সেখানে ব্যবাধান গড়ে দেন মানজুকিচ। ১০৯ মিনিটে তার বাঁ পায়ের জালে জড়ানো শটটাই প্রথমবার ফাইনালে ওঠার আনন্দে মাতায় গোটা ক্রোয়েশিয়াকে। ১৫ জুন রাশিয়া বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ আগেই ফাইনাল নিশ্চিত করা ফ্রান্স।

সমতায় ফিরতে প্রথমার্ধ থেকে ক্রোয়েশিয়া নিজেদের সবোচ্চটা দিয়ে খেলছিলো। কিন্তু প্রথমার্ধ ১ গোলে পিছিয়ে শেষ করে মডরিচরা। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে আশাহত হয়নি তারা। ইভান পেরিসিচের দুর্দান্ত গোলে ইংল্যান্ডের সাথে ১-১ সমতায় আনলো ক্রোয়েশিয়া।

ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে প্রথমার্ধের শুরুতে ইংল্যান্ডকে ট্রিপিয়ার দুর্দান্ত ফ্রি কিক থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। তারপরে আর কোন গোল না হলে প্রথমার্ধ ত্রেুায়েশিয়ার সাথে ১ গোলে এগিয়ে থেকে শেষ করে ইংল্যান্ড।

খেলা শুরু ৫ মিনিট সময়ই ইংল্যান্ডকে লিড এনে দেন ট্রিপিয়ার। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে নেওয়া চমৎকার ফ্রি কিক জালে জড়িয়ে গ্যালারিতে আনন্দের ঢেউ তোলেন তিনি।

এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে ফ্রি কিক গোল দেখা গেলেও নকআউট পর্বে পাওয়া যায়নি। সেই ‘আক্ষেপ’ই দূর করলেন ট্রিপিয়ার। রাশিয়া বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এটাই প্রথম ফ্রি কিক গোলের প্রথম উদাহরণ।

ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল ইংল্যান্ড। এবারের বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার আগে থাকা হ্যারি কেইন পারলেন না নিজের গোল সংখ্যা বাড়িয়ে নিতে। একেবারে ফাঁকা জায়গা থেকে সামনে শুধু গোলরক্ষক দানিয়েল সুবাসিচকে একা পেয়েও লক্ষ্যভদ করতে ব্যর্থ ইংলিশ অধিনায়ক! ৩০তম মিনিটে জেসি লিনগার্ডের ডিফেন্সচেড়া পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোলমুখে শট করলেও প্রতিহত করেন সুবাসিচ। ফিরতি বলে আবারও শট করেছিলেন টটেনহাম স্ট্রাইকার, তবে ততক্ষণে সহাকারী রেফারি জানান তিনি অফসাইড।

পরের মিনিটেই সমতায় ফেরার সুযোগ তৈরি করে ক্রোয়েশিয়ার। তবে ভাগ্য সহায় হয়নি তাদের। ডানপ্রান্ত থেকে আন্তে রেবিচ দারুণ এক ক্রস করেছিলেন, ইংলিশ ডিফেন্ডান জন স্টোনস ‘ক্লিয়ার’ না করলে বিপদ হতেই পারতো। এরপরও শঙ্কা তৈরি হয় ফিরতি বলে রেবিচ শট করলে, যদিও ইংলিশ গোলরক্ষক পিকফোর্ড সহজেই প্রতিহত করেন তার শট।

দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণে গতি বাড়ে ক্রোয়েশিয়ার, বিপরীতে ইংল্যান্ডের গতি অনেকটাই কমে আসে। যদিও ক্রোয়েটরা সুবিধা করতে পারছিল না। ৬৫ মিনিটেই যেমন আরেকবার আটকে যায় ক্রোয়েশিয়া। ইভান পেরিশিচের নেওয়া শট প্রতিহত হয় ওয়াকারের গায়ে লেগে। ইংলিশ ডিফেন্ডারের পেটে গিয়ে বল আঘাত না করলে বল জড়ালে জড়াতেই পারতো! ডানপ্রান্ত থেকে লুকা মডরিকের ক্রস ইংলিশ এক ডিফেন্ডার ‘ক্লিয়ার’ করলেও ফিরতি বলে জোরালো শট করেছিলেন পেরিশিচ, কিন্তু ইংল্যান্ডের রক্ষণ ভাঙা যায়নি তাতে।

মিনিট তিনেক পর আর হতাশ হতে হয়নি পেরিশিচকে। ৬৮ মিনিটে তার চমৎকার গোলেই সমতায় ফেরে ক্রোয়েটরা। ম্যাচে ফিরতে নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে লড়ছিল, ফুটবলদেবতা হতাশ করেননি তাদের। পেরিশিচের লক্ষ্যভেদে ১-১ সমতায় ফেরে মস্কোর সেমিফাইনাল।

বিরতিতে থেকে ঘুরে এসে সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে ক্রোয়েশিয়া। যদিও সুবিধা করতে পারছিল না ইংল্যান্ডের কড়া রক্ষণের সামনে। অবশেষে ৬৮ মিনিটে আসে সেই মধুর সময়, যখন পেরিশিচের চমৎকার গোলে খেলায় ফেরে ক্রোয়েটরা।

ডানপ্রান্ত থেকে শিমে ভ্রাসাইকোর ক্রস বক্সের ভেতর থেকে অনেকটা পা উঁচিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন পেরিশিচ। ইংলিশ ডিফেন্ডার ওয়াকার নিচু হয়ে হেড করার চেষ্টা করলেও পেরিশিচের পা খুঁজে নেয় বল, আর সেই পায়ের ছোঁয়ায় বল জড়িয়ে যায় জালে। বক্সের ভেতর থেকে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি।

পরের মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারতো ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু ভাগ্যদেবতা এবার মুখ তুলে তাকাননি, স্কোরশিটে নাম তোলা পেরিশিচের এবারের শট আঘাত করে পোস্টে। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে কোনও দলই আর গোল করতে না পারায় মস্কোর সেমিফাইনাল গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

সেই সময়ের ১০৯ মিনিটে মানজুকিচের থাবায় ঘায়েল ‘থ্রি লায়ন্স’। সমান্তরালে প্রথমবার বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার আনন্দে মাতোয়ারা গোটা ক্রোয়েশিয়া।