প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ন্যাটো সম্মেলন
সামরিক বাজেট বাড়িয়ে রাশিয়াকে ঠেকাতে একমত জোট নেতারা

আসিফুজ্জামান পৃথিল: অবশেষে পূর্ণ হতে চলেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইচ্ছা। সামরিক বাজেট বৃদ্ধি করতে একমত হয়েছে ন্যাটো সদস্যভুক্ত দেশগুলো। বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলস এ অনুষ্ঠিত ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে ২৯ সদস্য রাষ্ট্রের নেতারা মেনে নিয়েছেন ট্রাম্পের প্রস্তাব। এর আগে নানান বিষয়ে এই সম্মেলনকে ঘিরে বুধবার সারাদিনই উত্তপ্ত ছিলো বিশ্ব রাজনীতি অঙ্গন।

ন্যাটো নেতারা রাশিয়ার আধিপত্য কমাতে নিজেদের টেকসই সামরিক সকক্ষমতা বাড়াতে ব্যবহার করবে এই বর্ধিত বাজেট। ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসেংকিতে ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের বৈঠকের মাত্র এক দিন আগেই হলো এই সিদ্ধান্ত। সম্মেলনের প্রথম দিন শেষে একটি সংবাদ সম্মেলনে ন্যাটোর মহাসচিব জেন্স স্টেলেনবার্গ জানিয়েছেন ন্যাটো রাষ্ট্রগুলো সর্বসম্মতভাবে একটি প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন। তিনি বলেন, ‘ন্যাটোর ইতিহাসে বহুবার আমাদের মতপার্থক্য তৈরী হয়েছে। আমরা তা বারংবার কাটিয়ে উঠেছি। আমরা ন্যাটোর টেকসই সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে রাজি হয়েছি। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আরো শক্ত অবস্থান গ্রহণ ও নিরাপত্তা জোরদারেও আমরা সম্মত হয়েছি।

এদিকে নিজের ভাষণে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত জিডিপির ২ শতাংশ সামরিক বাজেটের পরিবর্তে জিডিপির ৪ শতাংশ সামরিক বাজেটের প্রস্তাব দেন। অথত অনেক ন্যাটো রাষ্ট্রই ২ শতাংশের লক্ষ্য পূরণে সক্ষম হয়নি। হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি সারা স্যান্ডার্স একটি বিবৃতিতে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিবৃতিতে স্যান্ডার্স বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের ভাষণে তিনি আজ শুধু ২ শতাংশ সামরিক বাজেটের লক্ষ্য পূরণের কথাই বলেননি বরং জিডিপির ৪ শতাংশশ সামরিক খাকে ব্যয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন।’

এর আগে ব্রাসেলসে চলমান দুই দিনের ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন প্রথম দিনেই উত্তপ্ত হয়ে উঠে । অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের ভিত্তিতে আলোচনা শুরু করেন জোটভুক্ত ২৯ দেশের নেতারা। ন্যাটোদেশগুলোর সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবীর প্রেক্ষিতে শুরুর আগেই আলোচনায় চলে এসেছিলো এই সম্মেলন।

সম্মেলন শুরুর আগেই একটি টুইট বার্তায় ট্রাম্প আবারও জোটভুক্ত দেশগুলোকে আবারও তাদের সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির আহ্বান জানান। তিনি তার টুইটে লেখেন, ‘ন্যাটোভুক্ত বহুদেশ শুধু যে জিডিপির ২ শতাংশ সামরিক বাজেট বাড়াচ্ছেনা তাই নয় বরং বহু বছর ধরে প্রস্তাবিত অর্থ পরিশোধ না করে অপরাধমূলক আচরণ করছে। তারা কি মনে করে তারা আমাদের অর্থ পরিশোধ না করে রেহাই পাবে?’

আর সম্মেলনের সকালেই ট্রাম্প আরেক ন্যাটো দেশ জার্মানির প্রতি চরম বিষেদাগার প্রদর্শন করেছেন। সকালের নাস্তার টেবিলে ট্রাম্প ন্যাটো মহাসচিব জেন্স স্টোলটেনবার্গের সাথে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করেন। সেসময় তিনি বলেন, রাশিয়ার হাতে জার্মানি জিম্মি! তার যুক্তিতে, যেহেতু রাশিয়ার কাছে থেকে জ্বালানী আমদানি করে জার্মানি, সুতরাং তারা রাশিয়ার কাছে বন্দী হয়ে আছে। এসময় তিনি রাশিয়ার সাথে জার্মানির নর্ডস্ট্রিম গ্যাস পাইপলাইন চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে দেশটির কঠোর সমালোচনা করেন।

এদিকে ট্রাম্পের সাথে বৈঠক শেষে স্টোলটেনবার্গ বলেন, ‘জোটভুক্ত সকল দেশ যারা ২ শতাংশের নিচে ব্যয় করছে তারা সকলেই ব্যয় বৃদ্ধিতে রাজি হয়েছে।।’ এর সাথে অবশ্য তিনি এও স্বীকার করে নেন, সম্মেলনটি ঝঞ্ঝাবহুল হতে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ‘আমি আশা করছি সম্মেলন চলাকালে সামরিক বাজেটের ব্যাপারে খোলামেলা, সুস্পষ্ট আলোচনা হবে। মতবিরোধ থাকলেও তাইই হওয়া উচিৎ।’

এদিকে হোয়াইট হাউজ প্রেস সেক্রেটারি সারা স্যান্ডার্স জানিয়েছেন ন্যাটো সম্মেলনের সাইড লাইনে ট্রাম্প ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো এবং জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মেরকেলের সাথে দেখা করবেন। হোয়াইট হাউজ পরবর্তীতে এই বৈঠকগুলোর ব্যাপারে বিস্তারিত জানাবে। সিএনএন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত