প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চারিদিকে তার বিরুদ্ধে ধিক্কার দেওয়া শুরু হয়েছে

মোবায়েদুর রহমান : ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর আখতারুজ্জামান তার সমস্ত মাত্রা জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ বিশ^বিদ্যালয়। এক সময় এটিকে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলা হতো। সেই বিশ^বিদ্যালয়ে এমন এক ব্যক্তিকে এই সরকার ভিসির চেয়ারে বসিয়েছে যে ব্যক্তি প্রফেসর আনু মোহাম্মদের ভাষায় স্টুপিড ও দায়িত্বহীন। আমিও ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছি। অনেক ভিসি দেখেছি।

কিন্তু আখতারুজ্জামানের মতো দালাল, বশংবদ, জো হুজুর এবং কান্ডজ্ঞানহীন ব্যক্তি দেখিনি। কোটা সংস্কার আন্দোলনকে জনপ্রিয়তার নিরিখে অনেকে গণ অভ্যুত্থানের সাথে তুলনা করছেন। হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, পাহাড়ী নির্বিশেষে সব শ্রেণীর লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশি সন্তান এই আন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে অংশ নিয়েছেন। এমন অসাধারণ জনপ্রিয় আন্দোলনকে আখতারুজ্জামান ওসামা বিন লাদেন এবং মোল্লা ওমরের আলকায়েদা ও তালেবান জঙ্গি আন্দোলনের সাথে তুলনা করেছেন।

প্রফেসর আনু মোহাম্মদ সহ আরও কয়েকজন বুদ্ধিজীবি আখতারুজ্জামানকে ক্ষমতাসীন সরকারের চামচা (ংুপড়ঢ়যধহঃ) তাবেদার (যবহপযসধহ) এবং শিক্ষক সম্প্রদায়ের কুলাঙ্গার (নষধপশ ংযববঢ়) বলে আখ্যায়িত করেছেন (৯ জুলাইয়ের নিউ এজ দ্রষ্টব্য)। এক শ্রেণীর সাংবাদিকের কাছে আখতারুজ্জামান বলেছেন যে কোটা সংস্কার আন্দোলনে নাকি অপশক্তি কাজ করছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে আখতারুজ্জামানের মনে হয়েছে যে, আল কায়েদা, তালেবান এবং আল শাবাবের মতো আন্তুর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের নেতা মোল্লা ওমর এবং ওসামা বিন লাদেন যেমন অজ্ঞাত স্থান বার্তা পাঠাতেন কোটা আন্দোলনের নেতারাও তেমনি অজ্ঞাত স্থান বার্তা পাঠাচ্ছেন। আখতারুজ্জামান আরো বলেছেন যে, মেয়েদের হলে রাত্রে যে মিছিল হয়েছে সেটাও জঙ্গি সংগঠনের কার্যকলাপের অনুরূপ। কারণ জঙ্গিরা তাদের জঙ্গি তৎপরতায় মহিলাদেরকে ঠেলে দেয়।

উল্লেখ্য যে এই আন্দোলনে অংশ গ্রহণকারীদেরকে কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী সংসদ ফ্লোরে রাজাকারের বাচ্চা বলেছিলেন। গত ৬ জুলাই রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর আব্দুস সোবাহান কোটা সংস্কার আন্দোলনের কর্মীদেরকে শিবির এবং ৮ জুলাই নৌ মন্ত্রী শাহজাহান খান তাদেরকে স্বাধীনতা বিরোধী বলে অপবাদ দিয়েছেন। প্রফেসর আনু মোহাম্মদ বলেছেন, আখতারুজ্জামান ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক, এটি ভাবতেও আমার লজ্জা বোধ হয়।

আক্তারুজ্জামানের বক্তব্যের আরো নিন্দা করেছেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের এমিরেটাস প্রফেসর সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, আহম্মেদ কামাল, প্রফেসর মঞ্জুরুল ইসলাম প্রমুখ।

যে ব্যক্তি এমন মূর্খ অথবা জ্ঞান পাপীর মতো কথা বলেন তার ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ভিসির চেয়ারের মতো উচ্চ আসনে বসার কোনই যোগ্যতা নাই। চারিদিকে তার বিরুদ্ধে ধিক্কার দেওয়া শুরু হয়েছে। তার যদি আত্মসম্মানবোধ থাকে তাহলে অবিলম্বে তার পদত্যাগ করা উচিত। অন্যথায় সরকারের উচিত তাকে কাল বিলম্ব না করে বরখাস্ত করা বা অপসারণ করা।

পরিচিতি: সিনিয়র সাংবাদিক/ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত