প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মিয়ানমারে শিশু নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র দেখতে চায় না বিশ্ব

বাংলাদেশ প্রতিদিন রিপোর্ট: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বলেছেন, আমরা মিয়ানমারের নেতৃত্বের কাছে এটাই প্রত্যাশা করব তারা যেন সেই কাজটিই করেন, যাতে শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার এমন ভয়াবহ চিত্র বিশ্ববাসীকে আর দেখতে না হয়।

গত ৯ জুলাই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ‘শিশু ও সশস্ত্র সংঘাত : আজ শিশুদের সুরক্ষা দিন বন্ধ হবে আগামী দিনের সংঘাত’ বিষয়ক এক মুক্ত আলোচনায় তিনি একথা বলেন। নিরাপত্তা পরিষদের জুলাই মাসের সভাপতি সুইডেন এই উন্মুক্ত আলোচনার আয়োজন করে যাতে অংশ নেয় ৯০টিরও বেশি দেশ। খবর এনআরবি নিউজের। তিনি বলেন, হতবিহ্বল, অসহায় এক রোহিঙ্গা শিশুকে কোলে নিয়ে সান্ত্বনা দেওয়ার সময় আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখাবয়বে বেদনাক্লিষ্ট ও ক্ষতবিক্ষত যে দৃশ্য ফুটে উঠেছিল সেই ছবি পরিণত হয়েছে বিশ্বে আইকনে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ও তাদের শিশুদের ওপর যে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে তা কল্পনায় আনাও দুঃসাধ্য। মিয়ানমারের মানবাধিকারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ র‌্যাপোটিয়ার ইয়াংহি লী সম্প্রতি কক্সবাজারে আসা সহিংসতার শিকার রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলার পর সাংবাদিকদের কাছে যে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছিলেন তাও তিনি উদ্ধৃত করেন। রাষ্ট্রদূত মাসুদ নিরাপত্তা পরিষদের কয়েকজন সদস্যের সাম্প্রতিক বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সফরের কথা উল্লেখ করে বলেন, শিশুদের সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা যে কত তীব্র হতে পারে তা নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিগণ বাংলাদেশের কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তাদের সাম্প্রতিক পরিদর্শনকালে নিজ চোখে দেখে এসেছেন। সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে যার প্রায় ৫৮ ভাগ শিশু। এ পর্যন্ত এতিম শিশু পাওয়া গেছে ৩৬ হাজার ৩৭৩ জন। মা-বাবা দুজনকেই হারিয়েছে এমন শিশু রয়েছে ৭ হাজার ৭৭১ জন। এসব শিশু আজ মানবপাচার, যৌন নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডের শিকার হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে। প্রতিদিন ক্যাম্পসমূহে জন্ম নিচ্ছে ৬০ শিশু। এর মধ্যে কিছু জন্ম নিয়েছে ধর্ষণের শিকার হয়ে। এদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও লিক্টেনস্টেইনসহ জাতিসংঘের বেশ কয়েকটি সদস্য রাষ্ট্র মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর সংঘটিত সহিংসতা বিশেষ করে নারী ও শিশুদের হত্যা, ধর্ষণসহ যৌন সহিংসতার কথা তুলে ধরেন। সশস্ত্র-সংঘাতের সময় শিশুদের প্রতি মানবিকতার সর্বোচ্চ লঙ্ঘনকারীদের তালিকায় মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষা বাহিনী সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে মর্মে উল্লেখ করে লিক্টেনস্টেইন-এর প্রতিনিধি জানান শিশুদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপ রাষ্ট্রীয় ও অ-রাষ্ট্রীয় সহিংসতা সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে চাপের মধ্যে রাখবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ