প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘মুক্তিযুদ্ধের চরিত্রকে ঘোরপ্যাচ লাগানোর একটা প্রয়াস থাকতে পারে মেজর কামরুল হাসানের’

আশিক রহমান : Instrument of surrender to be signed at dacca on 16 December 1971- এর মূল কপি ছিঁড়ে ফেলা হলো কিনা তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে মূল চুক্তি কি কোনো পরিবর্ধন, পরিমার্জন করা হয়েছে কিনা। মেজর (অব.) কামরুল হাসান ভূঁইয়া লিখেছেন, পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু কী পরিবর্তন হয়েছে সেটি কিন্তু বলছেন না। আবার এও বলছেন, মূল চুক্তিটি সেটি প্রকাশিত রয়েছে লেফটেন্যান্ট জেনারেল জেএফআর জ্যাকব-এর Surrender at dacca : Birth of a nation-G এ। ওই বইয়ে যেটি লেখা রয়েছে এবং উনি পরবর্তী চুক্তিতে যে স্বাক্ষর করেছেন দুটির মধ্যে পার্থক্যটা কী? আমি এটি দেখতে চাচ্ছি। পার্থক্যটি কিন্তু মেজর (অব.) কামরুল হাসান তার লেখায় (ফেসবুক স্ট্যাটাস) উল্লেখ করেননি। গবেষণায়, পড়াশোনায় আমিও সুস্পষ্ট কোনো পার্থক্য কোনো লেখক, গবেষকের লেখা বা গবেষণা থেকে পাইনি। এমন মন্তব্য করেছেন মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশিদ।

আমাদের অর্থনীতিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, Surrender at dacca : Birth of a nation- জ্যাকবের বইটি আমি ভালো করেই পড়েছি। বইটিতে যে বিষয়টি আছে সেটি হচ্ছে Instrument of surrender to be signed at dacca on 16 December 1971 চুক্তিটির ড্রাফটিংটা তিনিই করেছিলেন। বইটিতে তিনি তা বলছেন, কিন্তু আসলে তো তিনি এটি করেননি। সবকিছু তো আমরা ওভাবে মেনে নিতে পারি না। কারণ সেখানে বলা হচ্ছিল যে উনি মনে করছিলেন, একটা ড্রাফট বানিয়ে দিল্লিতে পাঠিয়েছিলেন Instrument of surrender। ওই সারেন্ডার দলিলটি মিত্রবাহিনীর প্রধান লে. জে. জগজিত সিং অরোরা ভারতীয় চিফ অব আর্মি স্টাফ থেকে এপ্রোভ করে এখানে (বাংলাদেশে) নিয়ে আসবেন। তিনি মনে করেছিলেন, এত বড় একটি আয়োজন যদি ড্রাফটটি আনতে ভুলে যান তাহলে কি সারেন্ডারটি হবে না? ফলে মূল কপিটিই উনি রিড্রাফট করে রেডি রেখেছিলেন। অরোরা স্বাক্ষর করেছিলেন কোনটি, যেটি উনি স্বাক্ষর করে নিয়ে এসেছিলেন। জ্যাকব এমন আরও অনেককিছু দাবি করেছেন যার পক্ষে-বিপক্ষে ভারতেও অনেক বিতর্ক রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানিদের আত্মসমর্পণের দলিল বদলানো হয়েছে বলে মেজর (অব.) কামরুল হাসান তিনি তার লেখায় যে প্রশ্ন তুলেছেন অথবা ১৬ ডিসেম্বর মিত্রবাহিনীর কাছে পাকিস্তানিদের আত্মসমর্পণের পর ২০ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে এড়িয়ে বা বাইরে রেখে আবারও আত্মসমর্পণ চুক্তির কথাটি ঐতিহাসিক কোনো দলিলে আমি পাচ্ছি না। ‘রিটাইপ অ্যান্ড সাইন’-এর উদ্ধৃতি তিনি দিয়েছেন জ্যাকবের বই থেকে। কিন্তু রিটাইপ মানে তিনি কি বুঝিয়েছেন, ২০ ডিসেম্বর চুক্তিতে কোন অংশটি বাদ দিয়েছে সেটি তিনি লেখায় উল্লেখ করেননি।

এক প্রশ্নের জবাবে মে. জে. আবদুর রশিদ বলেন, আমাদের Instrument of surrender অর্থ্যাৎ আত্মসমর্পণের যে চুক্তিতে আমরা পাকিস্তানকে স্বাক্ষর করিয়েছিলাম, ১৬ ডিসেম্বর একাত্তরে, সেখানে যা লেখা ছিল সেটি নিয়ে তো বিতর্ক অনেকেই করেন। বিশেষ করে এ বিতর্কটা পাকিস্তানপন্থীরা বেশি করে থাকেন। এ কারণেই তারা এ বিতর্কটা করেন যে, এটার উপরে যদি কোনো ডাউট তৈরি করে দিতে পারেন তাহলে Instrument of surrender is invalid. কোনো একটি ডকুমেন্ট যদি প্রমাণ করা যে, এটা এই নয়, এটা ঘষামাজা করা হয়েছে তাহলে এটি বাতিল হয়ে গেল। সেটি বাতিল হলে তখন কি যে সমস্ত ঘটনা ঘটেছে তার স্বীকৃতিটাই হচ্ছে পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের দলিল। পাকিস্তান কিছুই অস্বীকার করতে পারে না ওই ডকুমেন্সের জন্য যেখানে তারা স্বাক্ষর করেছিল মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণের সময়। আর কোনো ডকুমেন্সে তাদের স্বাক্ষর নেই যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে। স্বভাবতই সেটি খুব গুরুত্বপূর্ণ দলিল।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের যে কালার বা চরিত্র রয়েছে সেটি তো লিবারেশন ওয়ার নামে পরিচিত। এই লিবারেশন ওয়ারটাকে যদি আপনি অন্য কোনো ওয়ারে পরিণত করতে পারেন তাহলে মুক্তিযুদ্ধ সাবসাইড হয়ে গেল। বাংলাদেশের মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধাদের অংশগ্রহণে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। মিত্রবাহিনীর সহায়তায় যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছি। অনেক রাজনৈতিক দলের নেতারা তো বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে তা স্বীকারই করতে চান না! সেটাকে এস্টাব্লিশড করার জন্য একটা ঘোরপ্যাচ লাগানোর একটা পদ্ধতি হতে পারে কামরুল হাসানের। এটার পেছনে রাজনীতি থাকতে পারে। মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের চরিত্রকে যদি আপনি প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারেন, যারা বলেন এদেশে মুক্তিযুদ্ধ হয়নি, সেটা রিএস্টাব্লিশড করতে পারেন। সেটি বাস্তবায়ন করার প্রয়াস এখানে আছে বলে মনে করি আমি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ