প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘কাজেই শঙ্কা নেই বাঁচার, মরারও’

রিকু আমির : সাবেক সেনা কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, বিশিষ্ট মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ও লেখক কামরুল হাসান ভূঁইয়া অসুস্থ হয়ে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

গত ১৪ জুন হার্ট অ্যাটাকের পর থেকে এ পর্যন্ত কখনও উন্নতি কখনও অবনতি- এমন অবস্থাতেই হাসপাতালে দিন যাচ্ছে ‘সেন্টার ফর বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার স্টাডিজ’- এর চেয়ারম্যান ও প্রধান গবেষক কামরুল হাসানের।

হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) থাকা সত্বেও ৬৬ বছর বয়সী কামরুল হাসান শুক্রবার দুপুরে নিজ ফেসবুক একাউন্টে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস পোস্ট করেন।

এতে লেখা হয়েছে- ১৪ জুন (২৮ রমজান) রাতে হার্ট এ্যাটাক। সেই থেকে সিএমএইচের ‘কীর্তনখোলা’ কেবিন। ২ জুলাই অবনতি। আসলাম সিসিইউ এ। ঘণ্টা দুই পর শরীরের অবনতির প্রেক্ষিতে ক্রিটিক্যাল কেয়ার সেন্টারে (সিসিসি) স্থানান্তর। ৫ জুলাই আবার সিসিইউতে আগমন। এখন সিসিইউতে আছি। দুর্বল পা দিয়ে বন্ধুর পথ হাঁটছি। পাশে আছে আমার এক জীবনের একান্ত সঙ্গী শাপলা, দুই স্নেহময়ী কন্যা এবং পরম আদরের দুই নাতি নাতনি। আছে সিএমএইচের এক দঙ্গল অত্যন্ত পেশাদার ও পরিশ্রমী সামরিক চিকিৎসক। এদের আন্তরিকতা প্রবাদতুল্য। অসংখ্য বন্ধু,গুণগ্রাহী এবং ফেসবুক বন্ধুরা আছেন বরাবরের মতোই। কতো ঋণ। সর্বপোরি তাঁর অনুগ্রহের অপার ভাণ্ডার নিয়ে আছেন আমার দয়াময় প্রতিপালক। কাজেই শঙ্কা নেই বাঁচার, মরারও।

১৯৫২ সালের ২৪ জুলাই তার জন্ম কুমিল্লায়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জন করেন যশোর জিলা স্কুল এবং ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ থেকে।

একাত্তরের ১৩ এপ্রিল এইচএসসি পরীক্ষার আঠারো দিন আগে ২৫ মার্চ বর্বর পাকিস্তানি বাহিনী বাঙালিদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ করলে তিনি যোগ দেন মুক্তিযুদ্ধের ২ নম্বর সেক্টরে। ১৯৭৪ সালের ৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে পরের বছর ১১ জানুয়ারি ৪র্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কমিশন লাভ করেন।

১২ জুলাই ১৯৯৬ সালে সেনাবাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নেন। ১৯৮৩ সালে বেইজিং ভাষা ও সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিনা ভাষায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক তার বইয়ের সংখ্যা ২৩টি, সামরিক ইতিহাসের ওপর লেখা ১টি এবং শিশুতোষ গ্রন্থ ৩টি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত