প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘পাকিস্তানিরা আমাদের ‘শালা’ বলে গালি দিত’

আশিক রহমান : পাকিস্তানিরা আমাদের কোনো দিন তাদের সমভাবে নেয়নি। ওরা যখন আমাদেরকে ডাকত, ওদের মুখের বুলিই ছিল একটা গালি, তাচ্ছিল্যের সঙ্গে ডাকত। ওরা আমাদের বলত, ‘এ্যাই শালা, এদিকে আয়’! ওদের সঙ্গে অনেক সময় তর্কও হয়েছে। ওদের তাচ্ছিল্যের জবাবে জিজ্ঞেসু সুরে বলতাম, ‘তুমি গালির সুরে ডাকো কেন? আমাদের নাম বা পদবি উল্লেখ করে ডাকতে পারো। কিন্তু ওরা আমাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করত না।’

টিভিএনএ-এর সঙ্গে আলাপকালে একাত্তরের অগ্নিঝরা সেই দিনগুলোর দুঃসহ স্মৃতি বর্ণনা করছিলেন বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা লে. জে. (অব.) এম. হারুন-অর-রশিদ।

তিনি বলেন, তখন ওরা মনে করত বাঙালি মানেই ভারত সমর্থক। একইসঙ্গে ওরা মনে করত, আমরা কোনোদিনই তাদের সমকক্ষ হতে পারব না। আমি যেখান থেকে কমিশন লাভ করি, সেখানে ফার্স্ট হয়েছেন একজন বাঙালি, সেকেন্ড আমি। আর থার্ড হয়েছিলেন একজন পাঞ্জাবী। ফোর্থ হয়েছিলেন আবারও একজন বাঙালি। বাঙালিরা গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবি ও অধিকতর ভালো ফল করার পরও ওরা প্রশংসা তো দূরের কথা, ন্যূনতম ‘ভালো’ও বলতে দ্বিধা করত।

তিনি আরও বলেন, সত্তরের নির্বাচনে আমরা নিরুষ্কুশ জয় লাভ করলাম। তখন ওদের মাথা খারাপ অবস্থা। বাঙালিরা নির্বাচনে জয়ী, কী হবে এখন? আমরা যখন মেসে খেতে যেতাম বা ইনফরমাল ডিসকাশনে বসতাম, ওরা ইংরেজিতে বলত, পাকিস্তানের শাসন ক্ষমতায় বাঙালিদের বিশ্বাস করা যাবে না। আমাদের সহকর্মী যারা ছিল বা আমরা যাদের সঙ্গে মেলামেশা করতাম, আমরা তাদের বলতাম, ‘নির্বাচন তোমরা দিয়েছ, পরিচালনাও করেছ তোমরা। এমনকি নির্বাচনের ফলাফলও তোমরা দিয়েছ। এখন তোমরা বলছো, না এরকম কিছু হবে না। এটা তো কোনো সভ্য দেশের রীতি হতে পারে না।

এম. হারুন-অর-রশিদ বলেন, পাকিস্তান একটা রাষ্ট্র। এই দেশের যে ন্যায়-নীতি রয়েছে সে নীতি অনুযায়ী যখন যে নির্বাচনে জিতবে তারা সরকার গঠন করবে। এখানে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের বাধ সাধার সুযোগ নেই। পাকিস্তানিদের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলতাম, দেখো, পাকিস্তান সৃষ্টির পেছনে কিন্তু বাঙালি মুসলমানদের অবদানই বেশি। এগুলো নিয়ে যখন কথা হতো, তখন তাদের একটাই বক্তব্য ছিল, বাঙালিরা পাকিস্তান রাষ্ট্র চালাতে পারবে না। আমরা বলতাম, তোমরা তো এতদিন চালাইছো। এখন ইলেকটেড লোকজন আসছে, তাদেরকে সুযোগ দাও। তারপর দেখো, তারা রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারে কি, পারে না। সুযোগ দেওয়ার আগে তোমরা এরকম অপবাদ দিতে পারো না। তখন ওরা নানা কথা বলত।