প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিশ্বকাপে বারবার ফিরে আসবেন এক জার্মান

ডেস্ক রিপোর্ট: রাশিয়া বিশ্বকাপের প্রথম পর্বেই জার্মানি বিদায় নিলেও নক আউট-পর্বের শুরু থেকে ফাইনাল পর্যন্ত বিশ্বকাপে জার্মানির একটি অবদানকে স্মরণ করতেই হবে। যখনই ম্যাচ গড়াবে টাইব্রেকারে, মনে পড়বে জার্মানির কথা, শ্রদ্ধা জানাতেই হবে এক জার্মানকে। বিশ্বকাপে জার্মানি কখনো টাইব্রেকারে হারেনি। না, শুধু এ কারণে নয়, আরো বড় একটি কারণ রয়েছে। ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণের দারুণ এক কৌশল ‘টাইব্রেকার’ পদ্ধতি বের করেন এক জার্মান। তাই যখনই টাইব্রেকারের প্রয়োজন দেখা দেবে, স্মরণে আসবেই জার্মানির অবদান। এই টাইব্রেকার যে ফুটবলকে জার্মানিরই দেয়া উপহার!

ক্রিকেটে যেমন একসময় ৮, ৯ এমনকি ১০ দিন শেষেও ম্যাচে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হতো না, ফুটবলেও ছিল সেই সমস্যা। এমনও হয়েছে কোনো আসরের ফাইনাল ৯০ মিনিটে ফলাফল আসেনি, অতিরিক্ত সময় শেষে, অর্থাত্ ১২০ মিনিটেও খেলা ড্র। কী করা যায়? ঠিক হলো, আরেক দিন হবে ফাইনাল। সেদিনও একই অবস্থা। ১২০ মিনিট শেষেও ড্র। সেই অবস্থায় দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্ত হলো, টস হবে। টসে যে জিতবে সে-ই চ্যাম্পিয়ন!

কিন্তু জার্মান রেফারি কার্ল ভাল্ড-এর বিষয়টি মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছিল। একটি দল ফুটবলীয় দক্ষতায় পিছিয়ে না থেকেও স্রেফ লটারির দুর্ভাগ্যের কারণে পরাজয় বরণ করতে হবে, সেটি মেনে নিতে পারেননি তিনি। তার মাথায়ই প্রথম এসেছিল পেনাল্টি শুট আউট, অর্থাত্ টাইব্রেকারের মাধ্যমে জয়-পরাজয় নির্ধারণের বুদ্ধি। তাই ৪৮ বছর আগে ফ্রাঙ্কফুর্টের রেফারি ভাল্ড প্রস্তাবটি রেখেছিলেন বাভারিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কাছে। অনেক চিন্তা-ভাবনার পর অ্যাসোসিয়েশনের কর্তারা প্রস্তাবটিতে অনুমোদন দেন। তারপর জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ডিএফবি)-র অনুমোদন পেতেও সময় লাগেনি।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রথম টাইব্রেকার দেখা যায় ১৯৭৬ সালে। সে বছরই ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে চেকোস্লোভাকিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল জার্মানি (তখন পশ্চিম জার্মানি)। টাইব্রেকারে জিতেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল চেকোস্লোভাকিয়া। ফিফা-ও সে বছর টাইব্রেকারের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে নেয়। কিন্তু ১৯৭৮-এর বিশ্বকাপে টাইব্রেকারের প্রয়োজন পড়েনি। তাই বিশ্বকাপে প্রথম টাইব্রেকার দেখা যায় ১৯৮২-র আসরে। স্পেনে আয়োজিত সে আসরের সেই সেমিফাইনালেও জার্মানি ছিল। প্রতিপক্ষ ছিল ফ্রান্স। বলা বাহুল্য, জার্মানরা সেবার আর ভুল করেনি। টাইব্রেকারে জিতেই উঠে গিয়েছিল ফাইনালে। তারপর থেকে বিশ্বকাপ এবং ইউরোপীয় কোনো প্রতিযোগিতায় একবারও টাইব্রেকারে হারেনি জার্মানি।

১৯৮২ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত বিশ্বকাপের ৯ আসরে টাইব্রেকার হয়েছে মোট ২৬ বার। ফাইনালে টাইব্রেকার দেখা গেছে দু’বার। ১৯৯০-এর ফাইনালে টাইব্রেকারে ফলাফল নির্ধারণের প্রয়োজন পড়ে। খেলাটি ছিল আর্জেন্টিনা এবং জার্মানির মধ্যে। টাইব্রেকারের অপ্রতিদ্বন্দ্বী ‘ডি মানশাফট’-এর কাছে হেরে দেশে ফিরতে হয়েছিল ৮৬’র বিশ্বকাপ জয়ী ম্যারাডোনাকে। ১৯৯৪ সালে ইটালিকে টাইব্রেকারে হারিয়েই চতুর্থবার শিরোপা জিতেছিল ব্রাজিল।

এবার টাইব্রেকার-পর্ব শুরুর আগেই বিদায় নিয়েছে জার্মানি। ‘টাইব্রেকারের জনক’ কার্ল ভাল্ড-ও পৃথিবী ছেড়েছেন ২০১১ সালে। তাতে কী! যখনই টাইব্রেকার হবে, জার্মানি আর জার্মানির প্রয়াত এক রেফারিকে মনে তো পড়বেই। সূত্র: ইত্তেফাক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত