প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ম্যারাথন আলোচনা শেষে সমঝোতা
শরণার্থী ভাগ করে নেবে ইইউ

ডেস্ক রিপোর্ট : মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার অনেক দেশে চলছে যুদ্ধ, আফ্রিকার অনেক দেশে অভাব-দুর্ভিক্ষ। মানুষ বাঁচতে চায়, তাই তো যুদ্ধ আর অভাবের হাত থেকে রক্ষা পেতে লাখ লাখ মানুষ পাড়ি জমাতে চেষ্টা করছে ইউরোপে। কিন্তু এই মানুষদের গ্রহণ করা নিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নানা মত। কেউ এসব মানুষকে গ্রহণ করার পক্ষে কেউ বিপক্ষে। ইউরোপের সেই সমস্যার আপাতত সমাধান হলো। বৃহস্পতিবার সারা রাত আলোচনা শেষে একটি অভিবাসন চুক্তিতে পৌঁছেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা। শুরুতে ইতালি কোনো চুক্তিতে সই না করার হুমকি দিয়েছিল। পরে অন্য দেশগুলো তাদের দাবি মেনে নেওয়ায় পরিস্থিতি শান্ত হয়।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে একের পর এক বৈঠকে মিলিত হন ইইউ নেতারা। এসব বৈঠক চলে টানা প্রায় ১০ ঘণ্টা। জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মের্কেলের জন্য বৈঠকটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ, কঠোর অভিবাসন নীতি গ্রহণের মাধ্যমে জার্মানিতে শরণার্থী আসার হার কমাতে তার ওপর চাপ ছিল। মের্কেলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্স্ট সেহোফারের কাছ থেকে এই চাপ ছিল। শরণার্থী প্রবেশ ঠেকাতে সেহোফার জার্মানির সীমান্ত কড়া করার পক্ষে। কিন্তু মের্কেল এই সমস্যার একটি ইউরোপীয় সমাধানের কথা বলেছিলেন। তার এই চাওয়ার জায়গা ছিল বৃহস্পতিবারের ব্রাসেলসের ইইউ বৈঠক। উল্লেখ্য, মের্কেল ও সেহোফার জোটের সরকার চলছে জার্মানিতে।

সম্মেলনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইতালি ও গ্রিসের ওপর চেপে বসা হাজার হাজার অভিবাসীর বোঝা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিতে রাজি হয়েছে অন্য দেশগুলো। বৈঠকের পর ইতালির প্রধানমন্ত্রী কন্টে বলেছেন, এবারের সম্মেলনের পর ইউরোপ আরও দায়িত্বশীল হলো, বাড়াল সংহতির হাত। আমরা এখন থেকে আর একা নই। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর মতে, বৈঠকের পর ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার পথ আরও সক্রিয় হলো।

কিছু কিছু বিষয়ে একমত হলেও ‘মতপার্থক্য নিরসন’ করে অভিবাসী সংকট মেটাতে ইউরোপের আরও অনেক কাজ করা বাকি বলে তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মেরকেলও। গতকাল যৌথ ঘোষণায় ২৮ দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা সীমান্তে সুরক্ষা জোরদারের ব্যাপারেও একমত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি। এদিকে অভিবাসীদের ইউরোপগামী জাহাজে চড়ে নিরুৎসাহিত করতে ইইউর বাইরে, বিশেষত উত্তর আফ্রিকায় ‘জাহাজ অবতরণ প্ল্যাটফর্ম’ স্থাপন করতে সম্মত হয়েছেন ইইউ নেতারা। আর ইউরোপে শরণার্থী আসা ঠেকাতে তুরস্ককে আরও তিন বিলিয়ন (প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা) ইউরো দিতে সম্মত হয়েছেন নেতারা। ২০১৬ সালে তুরস্কের সঙ্গে ইইউ একটি চুক্তি সই করেছিল।

তার আওতায় প্রথমবারও তিন বিলিয়ন ইউরো পেয়েছিল তুরস্ক। চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি একটি ‘ভালো সংকেত’ বলে মন্তব্য করেছেন মের্কেল। তবে এখনো যে মতপার্থক্যগুলো আছে, তা দূর করতে আরও অনেক কাজ করতে হবে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জুসেপে কন্টে চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করলেও আলোচনার শুরুতে ইতালি জানিয়ে দিয়েছিল যে, শরণার্থীদের গ্রহণে অন্য দেশগুলো ইতালিকে সহায়তা না করলে, বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত ইইউ’র কোনো চুক্তিতে সই করবে না তারা। পরে ইইউ নেতারা ইতালির দাবি মেনে নেন।

সূত্র : বিডিনিউজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত