প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সৌদি ফেরত ২১ নারী মানসিক হাসপাতালে

সাজিয়া আক্তার : গত তিন মাসে সৌদি থেকে দেশে ফিরে আসা নারী কর্মীদের মধ্যে ২১ জন মানসিক ভারসম্যহীন। ভাগ্য বদলাদে গিয়ে তারা ফিরে এসেছেন এমন অসুস্থ্যতা নিয়ে। তাদের চিকিৎসা চলছে জাতীয় মানসিক হাসপাতালে।

চিকিৎসকরা বলছেন শারীরিক, মানসিক এমনকি যৌন নির্যাতনের শিকারের কারণে তারা মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছে। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক বলছে নির্যাতিত এই নারীরা সামাজিক ভাবেও হেনস্তার শিকার হচ্ছেন।

নিজের ভাগ্য বদলাতে ২ বছর আগে সৌদি আরব গিয়েছিলেন রুপালী খাতুন। ১৪ মাস পর মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে দেশে ফিরেন গেল বছর। ৬ মাস চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ্য হওয়ার পর এবছর আবারো সৌদি যান তিনি। কিন্তু ভাগ্য বদল না হলেও বদলে গেছে তার জীবন। মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে দেশে ফিরেন তিনি। ভর্তি হয়েছিলেন মানসিক হাসপাতালে।

রুপালীর মত আরো ২১ জন সৌদি ফেরত নারী মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। চিকিৎসকরা বলছেন শারীরিক, মানসিক, এমনকি যৌন নির্যাতনে শিকার তাদের এমন পরিনতি হয়েছে।

মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট সহকারী অধ্যাপক ডা. ফারজানা রহমান বলেন, একজন মানসিক রোগীর মধ্যে যে লক্ষণগুলো থাকে রুপালীর মধ্যে আমরা তা দেখছি। তিনি অত্যন্ত সহিংস হয়ে যাচ্ছেন এবং সাভাবিকত্ব থেকে সড়ে যাচ্ছেন। এখানে তার যে নিরাপত্তা, তা চরমভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। এখানে তারা তীব্র শারীরিক, মানসিক, এমনকি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এ ধরনের নির্যাতনে থাকলে মানসিক সমস্যা হওয়া খুব স্বাভাবিক।

এই নারীদের অনেকেই বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের সাহায্যে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

ব্র্যাক বলছে শ্রমবাজারের সার্থে মধ্য প্রাচ্যে নারীদের নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা জরুরী।

ব্র্যাক অভিবাসন প্রকল্প প্রোগ্রাম অফিসার আল আমিন নয়ন বলেন, ওখানকার ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করে ঐ নিয়োগ তাদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে তাদের নিরাপত্তা, তাদের সিকোরিটি, তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ রাখা ব্যবস্থা করলে এই সমস্যা কিছুটা কমে আসবে।

নারী শ্রমিকদের বিদেশে পাঠানোর আগে তাদের নিরাপত্তা আর শ্রমঅধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরো সচেতন হবার তাগিদ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র : একাত্তোর টেলিভিশন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত