প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মজুদের কারণেই চালের মূল্যবৃদ্ধি

আদম মালেক : কৃষকের ধান উৎপাদন পর্যাপ্ত। আমদানিকারদের মজুদ চালও শূন্য শুল্কে আমদানি। আবার এ মজুদের পরিমাণও মোটামুটি কম নয়। কিন্তু বড় কৃষক ও আমদানিকারকরা সংরক্ষিত ধান চাল চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না করার কারণেই চালের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের একটি অংশ। কারওয়ানবাজার চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রিয় রাইস এজেন্সির স্বত্ত্বাধিকারী হাজী লোকমান হোসেন সফিক বলেন, চালের দাম বৃদ্ধির কোনো কারণ নেই। কিন্তু বড় কৃষক ও আমদানিকারকরা তাদের সংরক্ষিত ধান চাল তেমন সরবরাহ করছে না। এজন্য চালের কৃত্রিম সংকট ও মূল্য বৃদ্ধি।

একই মার্কেটের হাজী ইসমাইল এন্ড সন্সের প্রোপ্রাইটর মো. জসিম উদ্দিন জানান, কৃষকের জন্য চালের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতে চাল আমদানিতে শুল্ক আরোপ করা হয়। কিন্তু শুল্ক ঘোষণার আগেই সাধারণ কৃষকের ধান চলে যায় মিল মালিকদের কাছে। আর এ সুযোগ নেয় আমদানিকারকরা। এখন আমদানিকারকদের পোয়াবারো আর সাধারণ কৃষকরা ন্যায্য মূল্য বঞ্চিত।

জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের আবহাওয়া ধান চাষের অনুকূলে থাকায় চলতি বছর ধানের উৎপাদন সন্তোষজনক। কৃষকের উৎপাদিত ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতসহ কৃষকদের ধান চাষে উৎসাহ দিতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে নতুন ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে আমদানি শুল্ক ২৮ শতাংশ পুনর্বহালে আমদানিকারক ও মিল মালিকরা চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া গত ২৬ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রজ্ঞাপণে বলা হয়েছে, কোন অবস্থাতেই শূন্য মার্জিনে অর্থাৎ বাকিতে চাল আমদানির এলসি (ঋণপত্র) স্থাপন করা যাবে না। চাল আমদানি কঠোর করতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। চাল আমদানি বাড়াতে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিনা মার্জিনে ঋণপত্র খোলার সুযোগ ছিল। এখন নগদ টাকা নিয়ে ঋণপত্র খুলতে হবে ব্যবসায়ীদের।

ঐ প্রজ্ঞাপণে আরও বলা হয়েছে, ধান ও চাল ব্যবসায়ীদের ঘূর্ণায়মান ঋণের ক্ষেত্রে ৪৫ দিন পর অবশ্যই পুরো টাকা শোধ করতে হবে। আগে ৩০ দিনের মধ্যে ঋণ সমন্বয়ের সুযোগ ছিল। ঋণপত্র খুলতে ব্যবসায়ীদের এখন ৪৫ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

শনিবার সরেজমিনে রাজধানীর কাওরানবাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি কেজি স্বর্ণা চাল ৫২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে অথচ কিছু দিন আগেও প্রতি কেজি বিক্রি হতো ৫০ টাকা। ৩৯/৪০ টাকা কেজি মূল্যের আটাশের দাম ৪০/৪১ টাকা। অন্যান্য খুচরা বাজারে মাঝারি মানের চাল পাইজাম/লতা ৫০ থেকে ৫৫ টাকা ও সরু চাল নাজিরশাইল/মিনিকেট ৬০ থেকে ৬৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত