প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

১ জুলাই হোলি আর্টিজেন হামলার দুই বছর

জাহিদুল হক চন্দন,মানিকগঞ্জ: রবিবার হোলি আর্টিজেন হামলার দুই বছর পূর্ন হলো। এই দিনে জঙ্গি হামলার শিকার হয়ে মারা যান গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার রবিউল করিম। তার গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জ সদরের কাটিগ্রাম এলাকায় এ উপলক্ষে নেওয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি।

গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় নিহত গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার প্রয়াত রবিউল করিমের পরিবারে এখন আর আর্থিক অসচ্ছলতা নেই। রবিউল করিমের স্ত্রী সরকারী চাকরী পেয়ে তার পরিবার নিয়ে সচ্ছলভাবেই জীবনযাপন করছেন। তিনি বর্তমানে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিভাগে কর্মরত আছেন। তবে রবিউল করিমের হাতে গড়া প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য নির্মিত বিশেষায়িত বিদ্যালয়টির ভবিষৎ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন তার পরিবার।

১ জুলাই নিহত রবিউল করিমের ২য় মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসুচী হাতে নিয়েছে তার হাতে গড়া ব্লুমস বিদ্যালয়ের কার্যকরী কমিটি ও এলাকাবাসী।

জঙ্গি হামলায় নিহত রবিউল করিমের গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জ সদরের কাটিগ্রামে গিয়ে দেখা যায় করিমের বড় ছেলে সাজিদুল করিম তার দুই বছর বয়সি একমাত্র বোন কামরুন নাহার রায়নাকে নিয়ে বাড়ান্দায় খেলা করছে। এ সময় কথা হয় প্রয়াত রবিউল করিমের স্ত্রী উম্মে সালমার সাথে কথা হয়। চাকরি পেয়ে আর্থিকভাবে কিছুটা স্বচ্ছল হলেও সব সময় রবিউলের স্মৃতি তাড়িয়ে বেড়ায় তাকে।

তিনি বলেন, আমার চাকরীটি হওয়ার পড়ে মানসিক ভাবে অনেকটাই ভাল আছি। তার স্বামী সর্ম্পকে বলেন,আমি শুধু স্বামী হারাইনি, হারিয়েছি একজন ভাল বন্ধু। যে বন্ধুর সাথে আমি সবকিছু শেয়ার করতাম। রবিউল করিমের মৃত্যুর পর তার শোক কাটিয়ে উঠলেও তার হাতে গড়া প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য নির্মিত বিশেষায়িত বিদ্যালয়টির ভবিষৎ নিয়ে চিন্তিত তার পরিবার। রবিউল করিমের শেষ ইচ্ছা পুরনে সরকারের সহযোগিতা চান তার স্ত্রী।

জঙ্গি হামলায় আদরের বড় সন্তানকে হারিয়ে বৃদ্ধা মা করিমুননেছা অনেকটাই চুপ হয়ে গেছেন। বাড়িতে সাংবাদিক সহ কেউ আসলেও তাদের ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি বলেন, দুইটি বছর পাড় হয়ে গেল আমার সন্তানের সাথে কথা হয় না। আমার সন্তানের মৃত্যুটি অন্যরকম। যে মৃত্যু মেনে নেওয়া একজন মায়ের জন্য কষ্টের। আমার এক সন্তান হাড়িয়ে আরেক সন্তানের ভবিষৎ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পরেছি। সরকারের কাছে দাবী যে দায়িত্ব বড় ভাই থাকলে পালন করতো। আমার ছোট সন্তানকে একটি চাকরী দিয়ে প্রশাসন সেই দায়িত্ব পালন করুক।

এদিকে রবিউল করিমের ২য় মৃত্যু বাষির্কী উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসুচী হাতে নিয়েছে তার হাতে গড়া প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য নির্মিত বিশেষায়িত বিদ্যালয়টির কমিটি ও এলাকাবাসী। দিনব্যাপী এই কর্মসুচীর মধ্যে থাকবে শোক র‌্যালী,রবিউল করিমের কবর জিয়ারত ও তার উপর আলোচনাসভা।

২০১৬ সালের ১ জুলাই ঢাকার গুলশানের হোলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলা চালিয়ে দেশি ও বিদেশি নাগরিকদের জিম্মি করে জঙ্গিরা। খবর পেয়ে জিম্মিদের উদ্ধারে ঘটনাস্থলে ছুটে যান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার মানিকগঞ্জের সন্তান রবিউল করিম। এ সময় জঙ্গিদের হামলায় তিনি নিহত হন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত